নৃত্য-সম্বলিত

  • ওগো চৈতী রাতের চাঁদ যেয়ো না

    বাণী

    ওগো	চৈতী রাতের চাঁদ, যেয়ো না
    	সাধ না মিটিতে যেতে চেয়ো না।।
    হের	তরুলতায় কত আশার মুকুল,
    ওগো	মাধবী-চাঁদ আজো ফোটেনি ফুল,
    তুমি	যেয়ো না, প্রিয় যেয়ো না —
    ঝরা	মুকুলে বনবীথি ছেয়ো না
    তুমি	যেয়ো না, প্রিয় যেয়ো না, ওগো যেয়ো না।।
    আজো	ফুলের নেশায় পাগল দখিন হাওয়া
    আজো	বোলেনি পাপিয়া 'পিয়া পিয়া' গাওয়া
    তুমি	এখনি বিদায়-গীতি গেয়ো না
    তুমি	যেয়ো না, প্রিয় যেয়ো না।।
    

  • কৃষ্ণা নিশীথ নাচে ঝিল্লির নূপুর

    বাণী

    কৃষ্ণা নিশীথ নাচে ঝিল্লির নূপুর বাজে।
    রিমিঝিমি রিমিঝিমি মৃদু আওয়াজে।।
    আঁধারের চাঁচর চিকুর খুলিয়া
    আপন মনে নাচে হেলিয়া দুলিয়া,
    মুঠি মুঠি হিম-কণা তারা-ফুল তুলিয়া
    ছুঁড়ে ফেলে ধরণী মাঝে।।
    তার	মণি-হার খুলে পড়ে উল্কা-মানিক,
    তার	নাচের নেশায় ঝিমায় দশ্‌দিক।
    	আধো-রাতে আমি শুনি স্বপনে
    তার	গুঞ্জন-গীত কানে-কথা গোপনে,
    	কালো-রূপের শিখা, ওকি শ্যামা বালিকা
    	নাচে নাচে জাগাইতে নটরাজে।।
    
  • কে নিবি মালিকা এ মধু যামিনী

    বাণী

    		কে নিবি মালিকা এ মধু যামিনী,
    		আয় লো যুবতী কুল কামিনী॥
    আমার		বেল ফুলের মালা গুণ জানে গো,
    		পরবাসী বঁধুকে ঘরে আনে গো।
    আমার		মালার মায়ায় ভালোবাসা পায়
    কেঁদে		কাটায় রাতি যে অভিমানিনী॥
    আমি		রূপের দেশের মায়া পরী,
    (সেই)		আমার মালার গুণে কুরূপা যে সে হয় সুন্দরী।
    যে		চঞ্চলে অঞ্চলে বাঁধিতে চায়,
    যার		নিঠুর বঁধু সদা পালিয়ে বেড়ায়।
    আমার		মালার মোহে ঘরে রহে সে
    ফোটে		মলিন মুখে হাসির সৌদামিনী॥
    
  • ক্ষ্যাপা হাওয়াতে মোর আঁচল উড়ে যায়

    বাণী

    ক্ষ্যাপা হাওয়াতে মোর আঁচল উড়ে যায়।
    খুলে পড়ে গো বাজুবন্দ ধরিতে আঁচল
    কোন ঘূর্ণি বাতাস এলো ছন্দ-পাগল
    লাগে নাচের ছোঁয়া দেহের কাঁচ মহলায়
    হয়ে পায়েলা উতলা সাধে ধরিয়া পায়।।
    খুলিয়া পড়ে খোঁপায়, কবরীর ফুলহার
    হাওয়ার এই রূপে গো এলো কি বঁধু আমার
    এমনি দুরন্ত আদর সোহাগ তার
    একি পুলক-শিহরেণে পরান মূরছায়।।
    

  • খেলিছে জলদেবী সুনীল সাগর জলে

    বাণী

    খেলিছে জলদেবী সুনীল সাগর জলে।
    তরঙ্গ - লহর তোলে লীলায়িত কুন্তলে।।
    ছল-ছল উর্মি-নূপুর
    স্রোত-নীরে বাজে সুমধুর,
    চল-চঞ্চল বাজে কাঁকন কেয়ূর
    ঝিনুকের মেখলা কটিতে দোলে।।
    আনমনে খেলে জল-বালিকা
    খুলে পড়ে মুকুতা মালিকা
    হরষিত পারাবারে উর্মি জাগে
    লাজে চাঁদ লুকালো গগন তলে।।
    

  • চারু চপল পায়ে যায়

    বাণী

    চারু চপল পায়ে যায় যুবতী গোরী।।
    আঁচলের পাল তুলে সে চলে ময়ূর-পঙ্খি-তরী।।
    	আয়রে দেখবি যদি
    	ভাদরের ভরা নদী,
    চলে কে বে-দরদি — ভেঙে কূল গিরি-দরি।।
    	মুখে চাঁদের মায়া
    	কেশে তমাল-ছায়া,
    এলোচুলে দুলে দুলে নেচে চলে হাওয়া-পরী।।
    	নয়ন-বাণে মারে প্রাণে
    	চরণ-ছোঁয়ায় জীবন দানে,
    মায়াবিনী যাদু জানে — হার মানে ঊর্বশী অপ্সরী।।