বাণী

নদীর স্রোতে মালার কুসুম ভাসিয়ে দিলাম, প্রিয়!
আমায় তুমি নিলে না, মোর ফুলের পূঁজা নিও।।
	পথ-চাওয়া মোর দিনগুলিরে
	রেখে গেলাম নদীর তীরে
আবার যদি আস ফিরে- তুলে গলায় দিও।।
নিভে এলো পরান -প্রদীপ পাষাণ-বেদীর তলে,
জ্বালিয়ে তা'রে রাখব কত শুধু চোখের জলে।
	তারা হয়ে দুর আকাশে
	রইব জেগে' তোমার আশে
চাঁদের পানে চেয়ে চেয়ে' আমারে স্মরিও।।

বাণী

নমঃ নমঃ নমো		বাঙলাদেশ মম
চির মনোরম		চির মধুর
বুকে নিরবধি		বহে শত নদী
চরণে জলধির		বাজে নূপুর।।
গ্রীষ্মে নাচে বামা		কালবোশেখি ঝড়ে
সহসা বরষাতে		কাঁদিয়া ভেঙ্গে পড়ে
শরতে হেসে চলে		শেফালিকা-তলে
গাহিয়া আগমনী		গীতি বিধুর।।
হরিত অঞ্চল		হেমন্তে দুলায়ে
ফেরে সে মাঠে মাঠে		শিশির ভেজা পায়ে
শীতের অলস বেলা		পাতা ঝরারি খেলা
ফাগুনে পরে সাজ		ফুল-বধূর।।
এই দেশের মাটি		জল ও ফুলে ফলে
যে রস যে সুধা		নাহি ভূমণ্ডলে
এই মায়েরি বুকে		হেসে খেলে সুখে
ঘুমাবো এই বুকে		স্বপ্নাতুর।।

বাণী

নামাজী, তোর নামাজ হলো রে ভুল।
মসজিদে তুই রাখিরি সিজ্‌দা, ছাড়ি ইমানের মূল॥
	নামাজে সামিল হয়ে জামাতের,
	আউড়ালি মুখে সুরা কোরানের,
ভাব্‌লি কি তুই পার হয়ে গেলি, পুলসেরাতের পুল॥
আজ মিলন তীর্থে বাঁধ রে কাতার মনের জায়নামাজে,
সেই আরফাতে তোর নুয়ে দে দিল না ফরমানি লাজে,
	ওজু করে ফের তৌবার নীরে,
	তহরিম বাঁধ ভীতু নত শিরে,
বন্দেগী তোর কবুল হবে রে, কিয়ামতে পাবি কূল ॥

বাণী

	নিশি কাজল শ্যামা আয় মা নিশীথ রাতে।
	যেমন কালো বাদল নামে নীল আকাশের নয়নপাতে।।
	কুল-কুণ্ডলিনী রূপে ওঠ মা জেগে চুপে চুপে,
	মা ছেলেতে যাব মা চল্‌ ভোলানাথের ঘুম ভাঙাতে।।
	তোর বরাভয় রূপ দেখায়ে দূর কর মা আঁধার ভীতি,
	কৃষ্ণা চতুর্দশীতে মা দেখা পূর্ণ চাঁদের জ্যোতি।
	পাতার কোলে কুঁড়ি সম মাগো হৃদয় কমল মম
তোর	চরণ অরুণ দেখার আশায় রাত্রি জাগে রাতের সাথে।।

বাণী

নাচিছে নটনাথ, শঙ্কর মহাকাল।
লুটাইয়া পড়ে দিবা-রাত্রির বাঘছাল
আলো-ছায়ার বাঘ ছাল।।
ফেনাইয়া ওঠে নীল-কণ্ঠের হলাহল,
ছিঁড়ে পড়ে দামিনী অগ্নি-নাগিনী দল।
দোলে ঈশান-মেঘে ধূর্জটি-জটাজাল।।
বিষম ছন্দে বোলে ডমরু নৃত্য-বেগে,
ললাট-বহ্নি দোলে প্রলয়ানন্দে জেগে।
চরণ-আঘাত লেগে শ্মশানে কঙ্কাল।।
সে নৃত্য-ভঙ্গে গঙ্গা-তরঙ্গে
সঙ্গীত দুলে ওঠে অপরূপ রঙ্গে,
নৃত্য-উছল জলে বাজে জলদ তাল।।
সে নৃত্য-ঘোরে ধ্যান-নিমীলিত ত্রিনয়ন
প্রলয়ের মাঝে হেরে নব সৃজন-স্বপন,
জোছনা-আশিস্ ঝরে উছলিয়া শশী-থাল।।

নাটকঃ ‘আলেয়া’

বাণী

নীলাম্বরী–শাড়ি পরি’ নীল যমুনায় কে যায়?
যেন জলে চলে থল–কমলিনী ভ্রমর নূপুর হয়ে বোলে পায় পায়।।
		কলসে কঙ্কনে রিনিঠিনি ঝনকে,
		চমকায় উন্মন চম্পা বনকে,
দলিত অঞ্জন নয়নে ঝলকে, পলকে খঞ্জন হরিণী লুকায়।।
অঙ্গের ছন্দে পলাশ–মাধবী অশোক ফোটে,
নূপুর শুনি’ বনতুলসীর মঞ্জরী উলসিয়া ওঠে।
		মেঘ–বিজড়িত রাঙা গোধূলি
		নামিয়া এলো বুঝি পথ ভুলি,
তাহার অঙ্গ তরঙ্গ–বিভঙ্গে কুলে কুলে নদী জল উথলায়।।