বাণী

নতুন খেজুর রস এনেছি মেটে কলস ভ'রে
ভিন গাঁ হতে এনে গো রস-পিয়াসি
ও আমার রস-পিয়াসি রসিক জনের তরে।।
	মিঠে রোদে শীতের দিনে
	তরুণ-বঁধূ লও গো কিনে
ফাগুন-হাওয়া বইবে প্রাণে, ওগো হালকা নেশার ঘোরে।।
মলিন মুখে দিয়ে দেখ নলিন খেজুর-গুড়
বাহির-ভিতর হবে তাহার মিষ্টিতে ভরপুর
	ওগো মিষ্টিতে ভরপুর।
	মোর তনুর চেয়ে অনেক বেশি
	মধুর এ রস ও বিদেশি,
রস না পিয়েও ঝিমিয়ো না গো নেশায় অমন ক'রে।।

বাণী

নয়নে তোমার ভীরু মাধুরীর মায়া
বন-মৃগী সম উঠিছ চমকি' হেরিয়া আপন ছায়া।।
	প্রাতে ঊষার প্রায়
	রেঙে ওঠো লজ্জায়,
এলায়িত লতিকায় ভঙ্গুর তব কায়া।।
দৃষ্টিতে তব আরতি-দীপের দ্যুতি
তুমি নিবেদিতা সন্ধ্যা-পূজা-আরতি।
	ভূমি অবলুণ্ঠিতা
	বনলতা কুণ্ঠিতা
কোলাহল-শঙ্কিতা যেন গো তাপস-জায়া।।

বাণী

	নাচের নেশার ঘোর লেগেছে নয়ন পড়ে ঢু’লে (লো)।
	বুনোফুল পড়লো ঝ’রে নাচের ঘোরে
				দোলন-খোঁপা খুলে (লো)।।
	শুনে এই মাদল-বাজা
	নাচে চাঁদ রাতের রাজা নাচে লো নাচে —
	শালুকের কাঁকাল ধ’রে
	তাল-পুকুরের জলে হে’লে দু’লে (লো)।।
	আঁউরে গেল ঝুম্‌কো জবা লেগে গরম গালের ছোঁওয়া
	বাঁশি শুনে ঘুলায় মনে কয়লা-খাদের ধোঁওয়া (লো)।
সই	নাচ ফুরালে ফিরে’ ঘরে,
	রাত কাটাব কেমন ক’রে
	পড়বে মনে বাঁশুরিয়ার চোখ দু’টি টুলটুলে (লো)।।

বাণী

নতুন ক’রে রেজওয়ান জিন্নত সাজায়
আজ রোজায় আজ রোজায় আজ রোজায়।
লাগল চাবি দোজখেরি দরওয়াজায়।।
	মসজিদেরি মিনার-চুড়ে
	আজ বেহেশতী নিশান উড়ে
গাফলতি নাই আর কারো নামাজ কাজায়।।
	রোজার শবেকদর রাতে
	কোরান এলো দুনিয়াতে
ফেরেশতা সব সালাম জানায় মোর্তজায়।।

বাণী

	নীপ-শাখে বাঁধো ঝুলনিয়া,
	কাজল-নয়না শ্যামলিয়া॥
	মেঘ-মৃদঙ্গ তালে শিখী নাচে ডালে-ডালে।
	মল্লার গান গাহিছে পবন পূরবিয়া॥
	কেতকী কেশরে কুন্তল করো সুরভি,
পরো	কদম মেখলা কটি-তটে রূপ-গরবী।
	নব-যৌবন জল-তরঙ্গে,
	পায়ে পাঁয়জোর বাজুক রঙ্গে
	কাজরি ছন্দে নেচে চল করতালি দিয়া॥

বাণী

নদীর নাম সই অঞ্জনা নাচে তীরে খঞ্জনা,
		পাখি সে নয় নাচে কালো আঁখি।
আমি যাব না আর অঞ্জনাতে জল নিতে সখি লো,
		ঐ আঁখি কিছু রাখিবে না বাকি॥
সেদিন তুলতে গেলাম দুপুর বেলা
কলমি শাক ঢোলা ঢোলা (সই)
হ’ল না আর সখি লো শাক তোলা,
আমার মনে পড়িল সখি, ঢল ঢল তা’র চটুল আঁখি
ব্যথায় ভ’রে উঠলো বুকের তলা।
ঘরে ফেরার পথে দেখি,
নীল শালুক সুঁদি ও কি
ফু’টে আছে ঝিলের গহীন জলে।
আমার অমনি পড়িল মনে
সেই ডাগর আঁখি লো
ঝিলের জলে চোখের জলে হ’ল মাখামাখি॥