বাণী

নাই চিনিলে আমায় তুমি রইব আধেক চেনা।
চাঁদ কি জানে কোথায় ফোটে চাঁদনি রাতে হেনা।।
	আধো আঁধার আধো আলোতে
	একটু চোখের চাওয়া পথে —
জানিতাম তা ভুলবে তুমি, আমার আঁখি ভুলবে না।।
আমার ঈষৎ পরিচয়ের এই সঞ্চার লয়ে
হয় না সাহস কোথায় যাব মনের কথা কয়ে।
	একটু জানার মধু পিয়ে
	বেড়াই কেন গুন্‌গুনিয়ে —
তুমি জান, আমি জানি, আর কেহ জানে না।।

বাণী

নবীর মাঝে রবির সম আমার মোহাম্মদ রসুল।
খোদার হবিব দীনের নকিব বিশ্বে নাই যার সমতুল।।
	পাক আরশের পাশে খোদার
	গৌরবময় আসন যাঁহার,
খোশ-নসীব উম্মত আমি তাঁর (আমি) পেয়েছি অকূলে কূল।।
	আনিলেন যিনি খোদার সালাম;
	তাঁর কদমে হাজার সালাম;
ফকির দরবেশ জপি' সেই নাম (সবে) ঘর ছেড়ে হলো বাউল।।
	জানি, উম্মত আমি গুনাহগার
	হবো তবু পুলসরাত পার;
আমার নবী হযরত আমার করো মোনাজাত কবুল।।

বাণী

নীল কবুতর লয়ে নবীর দুলালী মেয়ে খেলে মদিনায়
দেহের জ্যোতিতে তার জাফরানি পিরহান ম্লান হয়ে যায়॥
	মুখে তার নবীজীর মুখেরি আদল
	আঁখি দুটি করুণায় সদা ঢল ঢল,
মেষ শাবকেরে ধরি মধুর মিনতি করি কলেমা শোনায়॥
জুম্মার মস্‌জিদে কোন্ সে ভক্ত পড়ে কোরান আয়াত,
অমনি সে খেলা ভুলি কচি দুটি হাত তুলে করে মোনাজাত।
	নীল দরিয়ার পানি নয়নে বহে
	‘উম্মতে কর ত্রাণ’ কাঁদিয়া কহে
হজরত কোলে তুলে ‘বেহেশ্‌ত্‌ রানী তুমি’ বলে ফাতেমায়॥

বাণী

নাচে তেওয়াড়ী চৌবেজী দৌবে পাঁড়ে
তালে তালে ভুঁড়ি নাড়ে (হাঁরে)।।
নাচে কাবলিওয়ালা আগা হেলায় দাড়ি
নাচে ইয়া গোঁফওয়ালা প’রে ঘাঘরি শাড়ি।
নাচে পান্ডাজী ধপাস্ ধপাস্
নাচে যুপী বুড়ি থপাস্  থপাস্
ফোঁপরা ঢেঁকিতে যেন চাল কাঁড়ে।।
নাচে তাড়তা হিড়িম্বে শূর্পণখা
নাচে উচ্চিংড়ে আরশোলা গুবরে পোকা
নাচে কিক্কড় কাল্লু গামা, নাচিছে ধুচুনি নাচিছে ধামা
নাচিছে ডুয়েট ঘটোৎকচ গোপাল ভাঁড়ে।।
নাচে নানা মিঞা হায় হায় ঘুরিয়ে লুঙ্গি
নাচে মাদ্রাজি উড়িয়া মগ বার্মিজ ফুঙ্গি
তাকিয়ার খোল পরে বল নাচে
সায়েবের সাথে মেম পাছে পাছে
ঘুরে ঘুরে যেন গরু ধান মাড়ে।।

বাণী

নমস্তে বীণা পুস্তক হস্তে দেবী বীণাপাণি।
শতদল-বাসিনী সিদ্ধি-বিধায়িনী সরস্বতী বেদবাণী।।
	এসো আমল ধবল শুভ সাত্ত্বিকী বর্ণে,
	হংস-বাহনে লীলা উৎপল কর্ণে,
এসো বিদ্যারূপিণী মা শারদা ভারতী এসো ভীতজনে বরাভয় দানি।।
	শুদ্ধ জ্ঞান দাও শুভ্র আলোক
	অজ্ঞান তিমির অপগত হোক।
মৃতজনে সঙ্গীত-অমৃত দাও মা বীণাতে মাভৈঃ ঝঙ্কার হানি।

বাণী

নামাজী, তোর নামাজ হলো রে ভুল।
মসজিদে তুই রাখিরি সিজ্‌দা, ছাড়ি ইমানের মূল॥
	নামাজে সামিল হয়ে জামাতের,
	আউড়ালি মুখে সুরা কোরানের,
ভাব্‌লি কি তুই পার হয়ে গেলি, পুলসেরাতের পুল॥
আজ মিলন তীর্থে বাঁধ রে কাতার মনের জায়নামাজে,
সেই আরফাতে তোর নুয়ে দে দিল না ফরমানি লাজে,
	ওজু করে ফের তৌবার নীরে,
	তহরিম বাঁধ ভীতু নত শিরে,
বন্দেগী তোর কবুল হবে রে, কিয়ামতে পাবি কূল ॥