বাণী

নিরন্ধ্র মেঘে মেঘে অন্ধ গগন।
অশান্ত-ধারে জল ঝরে অবিরল,
		ধরণী ভীত-মগন॥
ঝঞ্ঝার ঝল্লরী বাজে ঝনন্‌ননন
দীর্ঘশ্বসি’ কাঁদে অরণ্য শনশন,
প্রলয় বিষাণ বাজে বজ্রে ঘনঘন —
মূর্ছিত মহাকাল-চরণে মরণ॥
শুধিবে না কেহ কি গো এই পীড়নের ঋণ,
দুঃখ-নিশি-শেষে আসিবে না শুভদিন।
দুষ্কৃতি বিনাশায় যুগ-যুগ-সম্ভব
অধর্ম নিধনে এসো অবতার নব,
‘আবিরাবির্ম এধি’ ঐ ওঠে রব —  
জাগৃহি ভগবন্, জাগৃহি ভগবন্॥

বাণী

নিশি না পোহাতে যেয়ো না যেয়ো না দীপ নিভিতে দাও।
নিবু-নিবু প্রদীপ নিবুক হে পথিক ক্ষণিক থাকিয়া যাও॥
ঢুলিয়া পড়িতে দাও ঘুমে অলস আঁখি ক্লান্ত করুণ কায়,
সুদূর নহবতে বাঁশরি বাজিতে দাও উদাস যোগিয়ায়।
	হে প্রিয় প্রভাতে ও-রাঙা পায়
	বকুল ঝরিয়া মরিতে চায়,
তব হাসির আভায় তরুণ অরুণ প্রায় দিক রাঙিয়ে যাও॥

বাণী

নূপুর মধুর রুনুঝুনু বোলে।
মন-গোকুলে রুনুঝুনু বোলে।।
	কূলের বাঁধন টুটে,
	যমুনা উথলি' ওঠে,
পুলকে কদম ফোটে পেখম খোলে
	শিখী পেখম খোলে।।
ব্রজনারী কুল ভুলে'
	লুটায় সে পদমুলে
চোখে জল, বুকে প্রেম- তরঙ্গ দোলে।।
	শ্রীমতি রাধারই সাথে
	বিশ্ব ছুটেছে পথে,
হরি হরি ব'লে মাতে ত্রিভুবন ভোলে।
	নামে ত্রিভুবন ভোলে।।

বাণী

	নাইয়া! ধীরে চালাও তরণী
	একে ভরা ভাদর তায় বালা মাতোয়ালা মেঘলা রজনী।।
	হায় পারে নেওয়ার ছলে নিলে মাঝ নদীতে
	যৌবন-নদী টলমল নারি রোধিতে
ঐ	ব্যাকুল বাতাস হরি’ নিল লাজ বাস
তায়	চঞ্চল-চিত যে তুমি চাহ বধিতে
	পায়ে ধরি ছাড়, বঁধু আমি পরের ঘরের ঘরণী।।
	তরঙ্গ ঘোর রঙ্গ করে, অঙ্গে লাগে দোল্
	একি এ নেশার ঘোরে তনু মন আঁখি লোল্।
	দুলিছে নদী দুলে বায়ু দুলিছে তরী
	কেমনে থির রাখি মোর চিত উতরোল ।
	ওঠে ডিঙি পান্‌সি ভরি’ বারি কি করি কিশোরী রমণী।।