খাম্বাজ

  • আসিয়া কাছে গেলে ফিরে

    বাণী

    আসিয়া কাছে গেলে ফিরে
    কেন আসিয়া কাছে গেলে ফিরে।।
    	মুখের হাসি সহসা কেন
    	নিভে গেল আঁখি নীরে
    ফুটিতে গিয়া কোন কথার মুকুল
    	ঝরে গেল অধরের তীরে।।
    ঝড় উঠিয়াছে বাহির ভুবনে আঁধার নামে বন ঘিরে
    যে কথা বলিলে না-ব'লে যাও বিদায়-সন্ধ্যা তিমিরে।।
    
  • এই শিকল পরা ছল

    বাণী

    এই		শিকল পরা ছল মোদের এ শিকল-পরা ছল।
    এই 		শিকল পরেই শিকল তোদের করব রে বিকল।।
    তোদের	বন্ধ কারায় আসা মোদের বন্দী হতে নয়,
    ওরে 		ক্ষয় করতে আসা মোদের সবার বাঁধন–ভয়।
    এই		বাঁধন প’রেই বাঁধন–ভয়কে কর্‌ব মোরা জয়,
    এই		শিকল– বাঁধা পা নয় এ শিকল ভাঙা কল।।
    তোমার	বন্ধ ঘরের বন্ধনীতে কর্‌ছ বিশ্ব গ্রাস,
    আর 		ভয় দেখিয়েই ক’র্‌বে ভাবছ বিধির শক্তি হ্রাস
    সেই 		ভয় দেখানো ভূতের মোরা ক’র্‌বো সর্বনাশ,
    এবার		আন্‌বো মাভৈঃ বিজয়–মন্ত্র বল–হীনের বল।।
    তোমরা	ভয় দেখিয়ে কর্‌ছ শাসন জয় দেখিয়ে নয়;
    সেই		ভয়ের টুঁটি ধর্‌ব টিপে কর্‌ব তারে লয়।
    মোরা 	আপনি ম’রে মরার দেশে আন্‌ব বরাভয়,
    প’রে		ফাঁসি আন্‌ব হাসি মৃত্যু–জয়ের ফল।।
    ওরে 		ক্রন্দন নয় বন্ধন এই শিকল–ঝঞ্ঝনা,
    এ যে		মুক্তি–পথের অগ্রদূতের চরণ–বন্দনা!
    এই		লাঞ্ছিতেরাই অত্যাচারকে হান্‌ছে লাঞ্ছনা,
    মোদের	অশ্রু দিয়েই জ্ব’লবে দেশে আবার বজ্রানল।।
    
  • কোথায় তখত তাউস কোথায় সে বাদশাহী

    বাণী

    কোথায় তখত তাউস, কোথায় সে বাদশাহী।
    কাঁদিয়া জানায় মুসলিম ফরিয়াদ ইয়া ইলাহী।।
    কোথায় সে বীর খালিদ, কোথায় তারেক মুসা
    নাহি সে হজরত আলী, সে জুলফিকার নাহি।।
    নাহি সে উমর খত্তাব, নাহি সে ইসলামী জোশ
    করিল জয় যে দুনিয়া, আজি নাহি সে সিপাহি।।
    হাসান হোসেন সে কোথায়, কোথায় বীর শহীদান —
    কোরবানি দিতে আপনায় আল্লার মুখ চাহি'।।
    কোথায় সে তেজ ঈমান, কোথায় সে শান-শওকত,
    তকদীরে নাই সে মাহতাব, আছে প'ড়ে শুধু সিয়াহি।।
    
  • গঙ্গা সিন্ধু নর্মদা কারেরী যমুনা ঐ

    বাণী

    গঙ্গা সিন্ধু নর্মদা কারেরী যমুনা ঐ
    বাহিয়া চলেছে আগের মতন, কই রে আগের মানুষ কই।।
    		মৌনী স্তব্ধ সে হিমালয়
    		তেমনি অটল মহিমময়
    নাই তার সাথে সেই ধ্যানী ঋষি, আমরাও আর সে জাতি নই।।
    		আছে সে আকাশ ইন্দ্র নাই
    		কৈলাসে সে যোগীন্দ্র নাই
    অন্নদা-সুত ভিক্ষা চাই কি কহিব এরে কপাল বই।।
    		সেই আগ্রা সে দিল্লী ভাই
    		প’ড়ে আছে, সেই বাদশা নাই
    নাই কোহিনুর ময়ূর-তখ্ত নাই সে বাহিনী বিশ্বজয়ী।
    		আমরা জানি না, জানে না কেউ
    		কূলে ব’সে কত গণিব ঢেউ
    দেখিয়াছি কত, দেখিব এও নিঠুর বিধির লীলা কতই।।
    

  • চলো সাম্‌লে পিছল পথ

    বাণী

    	চলো সাম্‌লে পিছল পথ গোরী।
    	ভরা যৌবন তায় ভরা গাগরি।।
    	নীর ভরণে এসে সখি নদী-তীর
    	তীর খেয়ো না হৃদয়ে ডাগর আঁখির,
    	জলে ভাসিবে নয়ন কিশোরী।।
    	হৃদি নিঙাড়ি এ পথে প্রেমিক কত
    সখি	করেছে রুধির-পিছল এ পথ,
    	কেহ উঠিল না এ পথে পড়ি’।।
    	তব ঘটের সলিল চাহিয়া সই
    কত	তৃষ্ণা-আতুর পথিক দাঁড়ায়ে ঐ,
    	মরুভূমে তুমি মেঘ-পরী।।
    
  • চারু চপল পায়ে যায়

    বাণী

    চারু চপল পায়ে যায় যুবতী গোরী।।
    আঁচলের পাল তুলে সে চলে ময়ূর-পঙ্খি-তরী।।
    	আয়রে দেখবি যদি
    	ভাদরের ভরা নদী,
    চলে কে বে-দরদি — ভেঙে কূল গিরি-দরি।।
    	মুখে চাঁদের মায়া
    	কেশে তমাল-ছায়া,
    এলোচুলে দুলে দুলে নেচে চলে হাওয়া-পরী।।
    	নয়ন-বাণে মারে প্রাণে
    	চরণ-ছোঁয়ায় জীবন দানে,
    মায়াবিনী যাদু জানে — হার মানে ঊর্বশী অপ্সরী।।
    
  • জয় বাণী বিদ্যাদায়িণী

    বাণী

    জয় বাণী বিদ্যাদায়িণী
    জয় বিশ্বলোক-বিহারিণী।।
    	সৃজন-আদিম তমঃ অপসারি'
    	সহস্রদল কিরণ বিথারি'
    আসিলে মা তুমি গগন বিদারি' মানস-মরাল-বাহিনী।।
    	ভারতে ভারতী মূক তুমি আজি
    	বীণাতে উঠিছে ক্রন্দন বাজি'
    ছিন্ন চরণ-শতদলরাজি কহিছে বিষাদ-কাহিনী।।
    	ঊর মা আবার কমলাসীনা, (মাগো)
    	করে ধর পুনঃ সে রুদ্রবীণা
    নব সুর তানে বানী দীনাহীনা জাগাও অমৃতভাষিণী
    			মা জাগাও অমৃতভাষিণী।।
    
  • তোমায় আমায় মিল খেয়েছে

    বাণী

    		তোমায় আমায় মিল খেয়েছে ও প্রেয়সী রাজ-যোটক।
    		আমি যেন গোদা চরণ তুমি তাহে বিষ্ফোটক।।
    		আমি কুম্‌ড়ো তুমি দা, আমি কাঁচকলা তুমি আদা,
    		তুমি তেজী, (আর) আমি ম্যাদা,
    আমি		সাপ, তুমি বেজি যেন, বাপ! তুমি হস্তিনী আমি ঘোটক।।
    		তুমি বঁটী আমি চিচিঙ্গে, আমি চিল, পিছে তুমি ফিঙে
    		আমি টিঙ্ টিঙে, (আর) তুমি ডিঙ্ ডিঙে
    প্রিয়ে		আমি ভেতো বাঙালিটি, তুমি যেন বর্গী-ঠগ্‌।।
    		আমি দাড়ি তুমি ক্ষুর, তুমি সাপ আমি ল্যাজুড়,
    		তুমি মাফ, আমি কসুর
    		আমি ভাঙা ভোঙা কলার ভেলা তুমি খিদিরপুরের ডক্।।
    		তুমি বঁড়্ শি আমি মাছ; আমি মোম্ তুমি আগুন-আঁচ,
    		তুমি আমার হাতের পাঁচ
    		তুমি আ জনমে স্বামী হয়ো আমায় দিও পদোদক।।
    
  • তোমার বীণার মূর্ছনাতে বাজাও

    বাণী

    তোমার বীণার মূর্ছনাতে বাজাও আমার বাণী।
    তোমার সুরে শোনাও আমার গানের আধেকখানি।।
    	শুনব শুধু তোমার কথা
    	এবার আমার নীরবতা,
    আমার সুরের ছবি আঁকুক তোমার পদ্মপাণি।।
    
  • নাচে ঐ আনন্দে নন্দ-দুলাল

    বাণী

    নাচে ঐ আনন্দে নন্দ-দুলাল
    তাতা থৈ তাতা থৈ — নাচে বৃন্দাবনে হরি ব্রজ-গোপাল।।
    ছন্দ নামে, দক্ষিণে বামে,
    টলে বাঁকা শিখী-পাখা।
    উছল যমুনা-জলে বাজিছে তাল।
    		নাচে নন্দ-দুলাল।।
    বিরাট খেলে হের আজ শিশুর রূপে,
    স্বর্গে কাঙাল করি’ ধরায় এলো চুপে চুপে।
    এত রূপ কেমনে দেখি,
    দিলে কেন দুটি আঁখি
    তাহে আবার পলক পড়ে;
    আজি বিশ্ব-পালক হ’ল বালক রাখাল।।
    
  • নূপুর মধুর রুনুঝুনু বোলে

    বাণী

    নূপুর মধুর রুনুঝুনু বোলে।
    মন-গোকুলে রুনুঝুনু বোলে।।
    	কূলের বাঁধন টুটে,
    	যমুনা উথলি' ওঠে,
    পুলকে কদম ফোটে পেখম খোলে
    	শিখী পেখম খোলে।।
    ব্রজনারী কুল ভুলে'
    	লুটায় সে পদমুলে
    চোখে জল, বুকে প্রেম- তরঙ্গ দোলে।।
    	শ্রীমতি রাধারই সাথে
    	বিশ্ব ছুটেছে পথে,
    হরি হরি ব'লে মাতে ত্রিভুবন ভোলে।
    	নামে ত্রিভুবন ভোলে।।
    

  • পেয়ে কেন নাহি পাই হৃদয়ে মম

    বাণী

    পেয়ে কেন নাহি পাই হৃদয়ে মম
    হে চির-সুদূর প্রিয়তম॥
    		তুমি আকাশের চাঁদ
    আমি	পাতিয়া সরসী-ফাঁদ
    জনম	জনম কাঁদি কুমুদীর সম॥
    		নিখিলের রূপে রূপে
    		দেখা দাও চুপে চুপে
    এলে না মূরতি ধরি তুমি নিরুপম॥
    

  • ব'লো বঁধুয়ারে নিরজনে

    বাণী

    (সখি) ব'লো বঁধুয়ারে নিরজনে
    দেখা হ'লে রাতে ফুল-বনে।।
    কে করে ফুল চুরি জেনেছে ফুলমালী
    কে দেয় গহীন রাতে ফুলের কুলে কালি
    জেনেছে ফুলমালী গোপনে।।
    ও-পথে চোর-কাঁটা, সখি, তায় বলে দিও
    বেঁধে না বেঁধে না লো যেন তার উত্তরীয়।
    এ বনফুল লাগি' না আসে কাঁটা' দলি'
    আপনি যাব চলি' বঁধুয়ার কুঞ্জ-গলি
    বিনা মূলে বিকাইব ও-চরণে।।
    
  • বরণ করেছি তারে সই

    বাণী

    বরণ করেছি তারে সই বারণ ক’রো না
    মরম সঁপেছি তারে নিতে মরণ যাতনা।।
    	গোপনে সঁপেছি মন
    	গোপনে করি যতন,
    কাঁদে প্রাণ তারি তরে, মিলিতে বাসনা।।
    
  • বেলা প’ড়ে এলো জল্‌কে সই চল্ চল্

    বাণী

    বেলা প’ড়ে এলো জল্‌কে সই চল্ চল্
    ডাকিছে ওই তটিনী ছল্‌ ছল্‌।।
    বকের সারিকার মালিকা দুলিয়ে
    আসিছে সাঁঝ ঐ চিকুর এলিয়ে
    আকাশের কোলে শিশু শশীরে ঐ
    দেখিতে আসিছে তারকা দলে দল।।
    কমলিনীর মলিন মুখ
    হাসে জলে শাপলা শালুক
    বনের পথে হলো আঁধার
    জোনাকী ঐ চমকে ঝলমল্‌।।
    
  • মালঞ্চে আজ কাহার যাওয়া আসা

    বাণী

    মালঞ্চে আজ কাহার যাওয়া আসা।
    ঝরা পাতায় বাজে
    মৃদুল তাহার পায়ের ভাষা।।
    আসার কথা জানায়
    ঐ যে ফুলের আখর সবুজ পাতায়,
    ঐ দোয়েল শ্যামার কূজন কয় যে বাণী
    ঐ ঐ তার ভালোবাসা।।
    মদির সমীরণে
    তনুর সুবাস পাই যে ক্ষণে ক্ষণে,
    সবুজ বসন ফেলি’
    পরল ঐ বন কুস্‌মী রাঙা চেলি।
    তাই বসুন্ধরায় জাগে অরুণ আশা —
    ঐ ঐ যে আলোকের পিপাসা।।
    
  • সখি বলো বঁধুয়ারে নিরজনে

    বাণী

    (সখি) ব’লো বঁধুয়ারে নিরজনে
    দেখা হ’লে রাতে ফুল–বনে।।
    কে করে ফুল চুরি জেনেছে ফুলমালী
    কে দেয় গহীন রাতে ফুলের কুলে কালি
    জেনেছে ফুলমালী গোপনে।।
    ও–পথে চোর–কাঁটা, সখি, তায় বলে দিও
    বেঁধে না বেঁধে না লো যেন তার উত্তরীয়।
    এ বনফুল লাগি’ না আসে কাঁটা’ দলি’
    আপনি যাব চলি’ বঁধুয়ার কুঞ্জ–গলি
    বিনা মূল্যে বিকাইব ও–চরণে।।
    
  • সবুজ শোভার ঢেউ খেলে যায়

    বাণী

    সবুজ শোভার ঢেউ খেলে যায়
    নবীন আমন ধানের ক্ষেতে।।
    হেমন্তের ঐ শিশির-নাওয়া হিমেল হাওয়া
    	সেই নাচনে উঠলো মেতে।।
    টইটুম্বুর ঝিলের জলে
    কাঁচা রোদের মানিক ঝলে
    চন্দ্র ঘুমায় গগন-তলে সাদা মেঘের আঁচল পেতে।।
    নটকানো রঙ শাড়ি প’রে কে বালিকা
    ভোর না হতে যায় কুড়াতে শেফালিকা।
    	আনমনা মন উড়ে বেড়ায়
    	অলস প্রজাপতির পাখায়
    মৌমাছিদের সাথে সে চায় কমল-বনের তীর্থে যেতে।।
    
  • হাওয়াতে নেচে’ নেচে' যায় ঐ তটিনী

    বাণী

    হাওয়াতে নেচে’ নেচে’ যায় ঐ তটিনী।
    পাহাড়ের পথ-ভোলা কিশোরী নটিনী।।
    		তরঙ্গ আঁচল দুলায়ে
    		বনভূমির মন ভুলায়ে,
    চলেছে চপল পায়ে একাকিনী উদাসিনী।।
    এঁকে বেঁকে থম্‌কে গিয়ে,
    হরিণীরে চম্‌কে দিয়ে।
    ছুটিয়া যায় সুদূরে
    আয় আয় বলি, ডাকে কে কুলের বধূরে,
    নেচে চলে পথ বেভুল ঘর-ছাড়া বিবাগিনী।।
    
  • হে গোবিন্দ ও অরবিন্দ চরণে

    বাণী

    হে গোবিন্দ, ও অরবিন্দ চরণে শরণ দাও হে।
    বিফল জনম কাটিল কাঁদিয়া, শান্তি নাহি কোথাও হে।।
    	জীবন-প্রভাত কাটিল খেলায়,
    	দুপুর ফুরাল মোহের মেলায়।
    ডাকিব যে নাথ সন্ধ্যা-বেলায়, ডাকিতে পারিনি তাও হে।।
    এসেছি দুঃখ-জীর্ণ পথিক মৃত্যু-গহন রাতে।
    কিছু নাহি প্রভু সম্বল, শুধু জল আছে আঁখি-পাতে।।
    	সন্তান তব বিপথগামী,
    	ফিরিয়া এসেছে হে জীবন-স্বামী।
    পাপী তাপী তবু সন্তান আমি ধূলা মুছে-কোলে নাও হে।।