ঝুমুর

  • কালো জল ঢালিতে সই

    বাণী

    		কালো জল ঢালিতে সই চিকন কালারে পড়ে মনে।
    		কালো মেঘ দেখে শাওনে সই পড়্ল মনে কালো বরণে॥
    			কালো জলে দীঘির বুকে
    			কালায় দেখি নীল-শালুকে
    (আমি)	চম্‌কে উঠি, ডাকে যখন কালো কোকিল বনে॥
    		কল্‌মিলতার চিকন পাতায় দেখি আমার শ্যামে লো
    		পিয়া ভেবে দাঁড়াই গিয়ে পিয়াল গাছের বামে লো।
    			উড়ে গেলে দোয়েল পাখি
    			ভাবি কালার কালো আঁখি
    		আমি নীল শাড়ি পরিতে নারি কালারি কারণে লো কালারি কারণে॥
    
  • ঝুমুর নাচে ডুমুর গাছে ঘুঙুর বেঁধে গায়

    বাণী

    দ্বৈত	:	ঝুমুর নাচে ডুমুর গাছে ঘুঙুর বেঁধে গায় (লো)।
    		নাচন দুজন মাদল, বাঁশি, নূপুর নিয়ে আয় (লো)।।
    স্ত্রী	:	আর জনমে চোরকাঁটা তুই ছিলি (রে)
    		এই জনমে আঁচল ছিঁড়ে হৃদয়ে বিঁধিলি।
    পুরুষ	:	চোরকাঁটা নয় ছিলাম পানের খিলি লো
    		গয়না ছিলাম গায় (লো)।।
    স্ত্রী	:	ঝিলমিলয়ে ঝিলের জল নাচায় শালুক ফুল —
    পুরুষ	:	শালুক যেন মুখাখানি তোর লো ঝিলের ঢেউ যেন এলোচুল।
    স্ত্রী	:	কুহু কুহু ডেকে কোকিল কাহার কথা কহে
    পুরুষ	:	সেই কথা কয় কোয়েলা আর জনমে করেছি যা তোরই বিরহে।
    দ্বৈত	:	সে জনমের দু’টি হৃদয় এ জনমে হায়
    		এক হতে যে চায় লো এক হতে যে চায়।।
    
  • তুমি আমার চোখের বালি

    বাণী

    তুমি আমার চোখের বালি, ওগো বনমালী।
    আমার চোখে পড়ল কখন, তোমার রূপের কালি।।
    (চোখ)	চাইলে ও-রূপ সইতে নারি
    	নয়ন মুদেও রইতে নারি,
    তোমার লীলা, প্রিয়জনে কাঁদাও খালি।।
    কাঁদিয়ে আমায় করলে কানা, কানাই একি লীলা,
    এবার ম’রে আর জনমে যেন হই কুটিলা।
    	তোমার নয়ন-মণি রাইকে নিয়ে
    	রাখব ঘরে দুয়ার দিয়ে
    চোখে চোখে সেদিন যেন হয় মিতালি।।
    
  • নাচের নেশার ঘোর লেগেছে

    বাণী

    	নাচের নেশার ঘোর লেগেছে নয়ন পড়ে ঢু’লে (লো)।
    	বুনোফুল পড়লো ঝ’রে নাচের ঘোরে
    				দোলন-খোঁপা খুলে (লো)।।
    	শুনে এই মাদল-বাজা
    	নাচে চাঁদ রাতের রাজা নাচে লো নাচে —
    	শালুকের কাঁকাল ধ’রে
    	তাল-পুকুরের জলে হে’লে দু’লে (লো)।।
    	আঁউরে গেল ঝুম্‌কো জবা লেগে গরম গালের ছোঁওয়া
    	বাঁশি শুনে ঘুলায় মনে কয়লা-খাদের ধোঁওয়া (লো)।
    সই	নাচ ফুরালে ফিরে’ ঘরে,
    	রাত কাটাব কেমন ক’রে
    	পড়বে মনে বাঁশুরিয়ার চোখ দু’টি টুলটুলে (লো)।।
    

  • বনের হরিণ আয় রে বনের হরিণ আয়

    বাণী

    বনের হরিণ আয় রে বনের হরিণ আয়
    কাজল-পরা চোখ নিয়ে আয় আমার আঙিনায় রে।।
    (দেখ্‌) নেই বনে কেউ এক্‌লা দুপুর
    আয় ঝরা পাতায় বাজিয়ে নুপুর, ঝুমুর ঝুমুর
    তোরে ডাকে নোটন পায়রার দল ডাকে মেঘের ঝরোকায় রে।।
    কি দেখে তুই ধীরি ধীরি চাস্‌ রে ফিরি ফিরি,
    বন্‌-শিকারির তীর নহে ও, ঝরনা ঝিরি ঝিরি।
    	মাদল বাজে ঈশান কোণে
    	ঝড় উঠেছে আমার মনে
    সেই তুফানের তালে তালে নাচ্‌বি চপল পায় রে।।
    
  • বল্ সই বসে কেনে একা আনমনে

    বাণী

    বল্ সই বসে কেনে একা আনমনে
    চল সই সই পাতাবি গাঁদা ফুলের সনে।।
    নিয়ে পাথর কুচি, আউস ধানের গুছি
    অজয় নদীর ধারে খেল্‌ব নিরজনে।।
    দেখিস্‌ আস্‌বে ফিরে তোর চাঁদ নতুন চাঁদে,
    চাঁদ-মুখ রেখে ঘরে কে সই রইতে পারে 
    		আঁধার কয়লা খাদে!
    আস্‌বে পোষা কোকিল, ডাকবে মহুল বনে।।
    কিন্‌বে ধেনো জমি এবার টাকা এনে,
    সে আর যেন গয়না কাপড় না কেনে
    তোর বলতে যদি লাজে বাধে মুখে
    আমি বল্‌ব তারে যা তুই ভাবিস মনে।।
    
  • বাঁশি কে বাজায় বনে আমি চিনি

    বাণী

    বাঁশি কে বাজায় বনে আমি চিনি আমি চিনি,
    কলসে কাঁকন চুড়ি তাল দিয়ে কয় গো রিনিঝিনি।
    			আমি চিনি আমি চিনি।।
    বুঝি গো বন পাপিয়া তারেই দেখে
    ‘চোখ গেল, চোখ গেল’ বলে উঠে ডেকে।
    ও বাঁশি বাজলে ‘জলে যাসনে’, (ও বৌ যাস্‌নে)
    বলে ‘ননদিনী’ ‘ননদিনী’।আমি চিনি আমি চিনি।।
    মোর সেই বাঁশুরিয়ায় চেনে পাড়ার পড়শিরা
    চেনে তায় যায় যমুনায় গো যত প্রেমের গরবীরা।
    সে যে মোর ঘর জ্বালানো পর ভুলানো
    আমার কালো বরণ গো, তমালের ডাল দুলানো।
    মন কয় আমায় নিয়ে গো সেই ত খেলে ছিনিমিনি।।