ভক্তিমূলক

  • অন্ধকারের তীর্থপথে ভাসিয়ে দিলাম

    বাণী

    অন্ধকারের তীর্থপথে ভাসিয়ে দিলাম নামের তরী
    মায়া মোহের ঝড় বাদলে এবার আমি ভয় না করি।
    	যে নাম লেখা তারায় তারায়
    	যে নাম ঝরে অশ্রুধারায়
    যাত্রা শুরু সেই নামেরি জপমালা বক্ষে ধরি।।
    এই আঁধারের অন্তরালে লক্ষ রবি চন্দ্র জ্বলে
    নিত্য ফোটে আলোর কমল জানি তোমার চরণ তলে।
    	এবার ওগো অশিব নাশন
    	থামাও তোমার ঢেউর নাচন
    সেই ত অমর মরণ যদি ধ্যান সাগরে ডুবে মরি।।
    
  • আমার মুক্তি নিয়ে কি হবে মা

    বাণী

    আমার	মুক্তি নিয়ে কি হবে মা, (মাগো) আমি তোরেই চাই
    		স্বর্গ আমি চাইনে মাগো, কোল্ যদি তোর পাই॥
    (মাগো)		কি হবে সে মুক্তি নিয়ে,
    			কি হবে সে স্বর্গে গিয়ে;
    		যেথায় গিয়ে তোকে ডাকার আর প্রয়োজন নাই॥
    		যুগে যুগে যে লোকে মা প্রকাশ হবে তোর
    (আমি)	পুত্র হয়ে দেখব লীলা এই বাসনা মোর।
    			তুই, মাখাস্ যদি মাখ্‌ব ধূলি,
    			শুধু তোকে যেন নাহি ভুলি;
    		তুই, মুছিয়ে ধূলি নিবি তুলি বক্ষে দিবি ঠাঁই॥
    
  • আমি মুক্তা নিতে আসিনি মা

    বাণী

    (মা)	আমি, মুক্তা নিতে আসিনি মা ও মা তোর মুক্তি-সাগর কূলে।
    	মোর ভিক্ষা-ঝুলি হ’তে মায়ার মুক্তা মানিক নে মা তুলে।।
    		মা তুই, সবই জানিস অন্তর্যামী,
    		সেই চরণ-প্রসাদ ভিক্ষু আমি,
    	শবেরও হয় শিবত্ব লাভ মা তোর যে চরণ ছুঁলে।।
    	তুই অর্থ দিয়ে কেন ভুলাস এই পরমার্থ ভিখারিরে,
    	তোর প্রসাদী ফুল পাই যদি মা গঙ্গা ধারাও চাই না শিরে।
    		তোর শক্তিমন্ত্রে শক্তিময়ী
    		আমি হতে পারি ব্রহ্ম-জয়ী
    	সেই মাতৃনামের মহাভিক্ষু তোর মায়াতেও নাহি ভুলে।।
    
  • আর কত দুখ্ দেবে বল মাধব বল

    বাণী

    আর কত দুখ্ দেবে, বল মাধব বল বল মাধব বল।
    দুখ্ দিয়ে যদি সুখ পাও তুমি কেন আঁখি ছলছল॥
    	তব শ্রীচরণ তলে আমি চাহি ঠাঁই,
    	তুমি কেন ঠেল বাহিরে সদাই;
    আমি কি এতই ভার এ জগতে যে, পাষাণ তুমিও টল॥
    ক্ষুদ্র মানুষ অপরাধ ভোলে তুমি নাকি ভগবান,
    তোমার চেয়ে কি পাপ বেশি হ’ল (মোরে) দিলে না চরণে স্থান।
    	হে নারায়ণ! আমি নারায়ণী সেনা,
    	মোরে কুরুকুল দিতে ব্যথা কি বাজে না,
    (যদি) চার হাতে মেরে সাধ নাহি মেটে দু’চরণ দিয়ে দ’ল॥
    
  • এলো রে এলো ঐ রণ-রঙ্গিণী

    বাণী

    এলো রে এলো ঐ রণ-রঙ্গিণী শ্রীচন্ডী, চন্ডী এলো রে এলো ঐ
    অসুর সংহারিতে বাঁচাতে উৎপীড়িতে
    ধ্বংস করিতে সব বন্ধন বন্দী, শ্রীচন্ডী, চন্ডী, এলো রে এলো ঐ॥
    দনুজ দলনে চামুন্ডা এলো ঐ প্রলয় অগ্নি জ্বালি নাছিছে
    তাথৈ তাথৈ তাতা থৈ থৈ দুর্বলে বলে মা মাভৈঃ মাভৈঃ
    মুক্তি লভিবি সব শৃঙ্খল বন্দী, শ্রীচন্ডী, চন্ডী, এলো রে এলো ঐ॥
    রক্ত-রঞ্জিত অগ্নি শিখায় করালী কোন্ রসনা দেখা যায়।
    পাতাল তলের যত মাতাল দানব পৃথিবীতে এসেছিল হইয়া মানব
    তাদের দন্ড দিতে আসিয়াছে চন্ডীকা সাজিয়া চন্ডী, শ্রীচন্ডী, চন্ডী এলো রে॥
    
  • কৃষ্ণ কৃষ্ণ বোল রে মন কৃষ্ণ কৃষ্ণ বোল

    বাণী

    কৃষ্ণ কৃষ্ণ বোল রে মন, কৃষ্ণ কৃষ্ণ বোল
    কৃষ্ণ কৃষ্ণ বোল রে মন, প্রেমের লহর তোল
    	রে মন মায়ার বন্ধন খোল।।
    নিরালা হৃদয়-যমুনাতে কে বাজায় বাঁশি আধেক রাতে
    তুই কুল ভুলে চল তাহারি সাথে প্রেম-আনন্দে দোল।
    	ও তুই প্রেম-আনন্দে দোল।।
    সে গোলক হাতে ভালবাসে গোকুল বৃন্দাবন
    মধুর প্রেমের-ভিখারি সে মদন মোহন।
    প্রেম দিয়ে যে বাঁধতে পারে, সাধ কবে তার কাছে হারে
    মুনি-ঋষি পায় না তারে গোপীরা পায় কোল।
    	ও তার গোপীরা পায় কোল।।
    
  • কেঁদো না কেঁদো না মাগো কে বলেছে কালো

    বাণী

    	কেঁদো না কেঁদো না মাগো কে বলেছে কালো?
    	ইষৎ হাসিতে তোর ত্রিভুবন আলো, কে বলেছে কালো।।
    		কে দিয়েছে গালি তোরে, মন্দ সে মন্দ!
    		যে বলেছে কালি তোরে, অনধ সে অন্ধ!
    মোর	তারায় সে দেখে নাই তার নয়ন-তারা য়নাই আলো!
    		তাই তারায় সে দেখে নাই।।
    রাখে	লুকিয়ে মা তোর নয়ন-কমল (মাগো)
    		কোটি আলোর সহস্র দল
    তোর	রূপ দেখে মা লজ্জায় শিব অঙ্গে ছাই মাখালো।।
    তোর	নীল -কপোলে কোটি তারা, চন্দনেরি ফোটার পারা
    		ঝিকিমিকি করে গো —
    মা	তোর দেহলতায় অতুল কোটি রবি -শশীর মুকুল
    		ফোটে আবার ঝরে গো —
    তুমি	হোমের শিখা বহ্নি- জ্যোতি, তুমি স্বাহা দীপ্তিমতী
    	আঁধার ভুবন ভবনে মা কল্যাণ-দীপ জ্বালো
    		তুমি কল্যাণ-দীপ জ্বালা।।
    

  • ললাটে মোর তিলক একো মুছে বঁধুর চরণ-ধুলি

    বাণী

    ললাটে মোর তিলক একো মুছে বঁধুর চরণ-ধুলি
    আঁখিতে মোর কাজল মেখো ঘন শ্যামের বরণগুলি।।
    	বঁধুর কথা মধুর প্রিয়
    	কর্ণ মূলে দুলিয়ে দিও
    বক্ষে আমার হার পরিও বঁধুর পায়ের নূপুর খুলি।।
    তার পীত বসন দিয়ে ক'রো এই যোগিনীর উত্তরীয়
    হবে অঙ্গেরই চন্দন আমার কলঙ্ক তার মুছে নিও।
    	সে দেয় যা ফেলে মনের ভুলে
    	তাই অঞ্চলে মোর দিও তুলে
    তার বনমালার বাসি ফুলে ভ'রো আমার ভিক্ষা ঝুলি।।
    
  • হে গোবিন্দ রাখ চরণে

    বাণী

    হে গোবিন্দ রাখ চরণে।
    মোরা তব চরণে শরণাগত আশ্রয় দাও আশ্রিত জনে হে॥
    	গঙ্গা ঝরে যে শ্রীচরণ বেয়ে
    	কেন দুখ পাই সে চরণ চেয়ে
    এ ত্রিতাপ জ্বালা হর হে শ্রীহরি, চাহ করুণা সিক্ত নয়নে॥
    হরি ভিক্ষা চাহিলে মানুষ নাহি ফিরায়
    তোমারি দুয়ারে হাত পাতিল যে, ফিরাবে কি তুমি তায়।
    	হরি সব তরী ডুবে যায়
    	তোমার চরণ তরী ত’ ডোবে না হায়,
    তব চরণ ধরিয়া ডুবে মরি যদি রবে কলঙ্ক নিখিল ভুবনে॥