বাণী

তুমি বিরাজ কোথা হে উৎসব দেবতা
মম গৃহ অঙ্গনে এসো সঙ্গী হয়ে আনো আনন্দ বারতা॥
		পূজা সম্ভারে প্রসন্ন দৃষ্টি হানো
		শুভ শঙ্খ বাজাও দশদিক জাগানো
হে মঙ্গলময়! আসি’ অভয় দানো আনো প্রভাত আকাশ সম নির্মলতা॥
		লহ বিহগের গীতি অভিনন্দন
		চাঁদের থালিকা হতে গোপীচন্দন
আনন্দ অমরার নন্দন হে প্রণত কর চরণে কহ কথা কহ কথা॥

বাণী

তুমি যদি রাধা হতে শ্যাম,
আমারি মতন দিবস-নিশি জপিতে শ্যাম-নাম।।
কৃষ্ণ-কলঙ্কেরি জ্বালা, মনে হ’ত মালতীর মালা
চাহিয়া কৃষ্ণ-প্রেম জনমে জনমে আসিতে ব্রজধাম।।
কত অকরুণ তব বাঁশরির সুর
তুমি হইলে শ্রীমতী ব্রজ-কুলবতী বুঝিতে নিঠুর।
তুমি যে-কাঁদনে কাঁদায়েছ মোরে
আমি কাঁদাতাম তেমনি ক’রে
বুঝিতে, কেমন লাগে এই গুরু-গঞ্জনা
এ প্রাণ-পোড়ানি অবিরাম।।

বাণী

তুমি আনন্দ ঘনশ্যাম আমি প্রেম-পাগলিনী রাধা।
তব ডাক শুনে ছুটে যাই বনে আমি না মানি কুলের বাধা।।
	শূন্য প্রাণের গাগরি ঘিরে
	নিতি আসি রস-যমুনার তীরে
অঙ্গ ভাসায়ে তরঙ্গ-নীরে শুনি তব বাঁশি সাধা।।
যুগ-যুগান্ত অনন্ত কাল হৃদয়-বৃন্দাবনে
তোমাতে আমাতে এই লীলা, নাথ! চলেছে, সঙ্গোপনে।
	মোর সাথে কাঁদে প্রেম-বিগলিতা
	ভক্তি ও প্রীতি বিশাখা-ললিতা।
তোমারে যে চায়, মোর মতো, হায়! সার শুধু তার কাঁদা।।

বাণী

তিমির বিদারী অলখ-বিহারী কৃষ্ণ মুরারি আগত ঐ
টুটিল আগল নিখিল পাগল সর্বসহা আজি সর্বজয়ী।।
বহিছে উজান অশ্রু-যমুনায়
হৃদি-বৃন্দাবনে আনন্দ ডাকে, (ওরে) ‌‘আয়’,
বসুধা যশোদার স্নেহধার উথলায়
(ওগো) কাল্‌-রাখাল নাচে থৈ-তা-থৈ।।
বিশ্ব ভরি' ওঠে স্তব নমো নমঃ
অরির পুরী-মাঝে এলো অরিন্দম।
ঘিরিয়া দ্বার বৃথা জাগে প্রহরী জন
বন্ধ কারায় এলো বন্ধ-বিমোচন,
ধরি' অজানা পথ আসিল অনাগত
জাগিয়া ব্যথাহত ডাকে, মাভৈঃ।।

বাণী

তুমি	ভোরের শিশির রাতের নয়ন-পাতে।
তুমি	কান্না পাওয়াও কাননকে গো ফুল-ঝরা প্রভাতে॥
তুমি	ভৈরবী সুর উদাস বিধুর
	অতীত দিনের স্মৃতি সুদূর,
তুমি	ফোটার আগে ঝরা মুকুল বৈশাখী হাওয়াতে॥
তুমি	কাশের ফুলের করুণ হাসি মরা নদীর চরে
তুমি	শ্বেত-বসনা অশ্রুমতী উৎসব-বাসরে।
তুমি	মরুর বুকে পথ-হারা
	গোপন ব্যথার ফল্গুধারা,
তুমি	নীরব বীণা বাণীহীনা সঙ্গীত-সভাতে॥

বাণী

স্ত্রী	:	তুমি কি নিশীথ-চাঁদ ভাঙাতে ঘুম
		চুপি চুপি আসিলে বাতায়নে।
পুরুষ	:	তুমি কি গো বন-দেবী পুষ্প-শোভিতা
		চেয়ে আছ কোন দূরে আনমনে।।
স্ত্রী	:	তোমারে হেরিয়া ফোটে মালতী হেনা
		হে চির চেনা
পুরুষ	:	সুদুর বনান্তে সমীরণ হেরি' তোমায় হ'লো অধীর
		পাপিয়া ডাকে বকুল বনে।।
স্ত্রী	:	তব কলঙ্ক অধিক মধুর লাগে হে কলঙ্কী চাঁদ,
		তোমারে হেরিয়া যত সাধ জাগে প্রাণে জাগে তত অবসাদ।
পুরুষ	:	তোমার ছায়া প'ড়ে মোর আননে
		কলঙ্কী নাম হলো মোর এই ভুবনে।
উভয়ে	:	আকাশের চাঁদে কুমুদ ফুলে
		মিলন হ'লো ধরার ভুলে
		অশ্রুসায়রে সঙ্গোপনে।।