একতাল

  • অসুর-বাড়ির ফেরত এ মা

    বাণী

    অসুর-বাড়ির ফেরত এ মা
    শ্বশুর-বাড়ির ফেরত নয়।
    দশভুজার করিস পূজা
    		ভুলরূপে সব জগতময়।।
    নয় গোরী নয় এ উমা
    মেনকা যার খেতো চুমা
    রুদ্রাণী এ, এযে ভূমা
    		এক সাথে এ ভয়-অভয়।।
    অসুর দানব করল শাসন এইরূপে মা বারে বারে,
    রাবণ-বধের বর দিল মা এইরূপে রাম-অবতারে।
    দেব-সেনানী পুত্রে লয়ে মা
    এই বেশে যান দিগ্বিজয়ে
    সেই রূপে মা’র কর্‌রে পূজা
    		ভারতে ফের আসবে জয়।।
    
  • আয় মা উমা! রাখ্‌ব এবার

    বাণী

    (মা)		আয় মা উমা! রাখ্‌ব এবার ছেলের সাজে সাজিয়ে তোরে।
    (ওমা)		মা’র কাছে তুই রইবি নিতুই, যাবি না আর শ্বশুর ঘরে।।
    				মা হওয়ার মা কী যে জ্বালা
    				বুঝবি না তুই গিরি-বালা
    		তোরে না দেখলে শূন্য এ বুক কী যে হাহাকার করে।।
    		তোরে টানে মা শঙ্কর-শিব আসবে নেমে জীব-জগতে,
    		আনন্দেরই হাট বসাব নিরানন্দ ভূ-ভারতে।
    				না দেখে যে মা, তোর লীলা
    				হ’য়ে আছি পাষাণ-শীলা
    		আয় কৈলাসে তুই ফির্‌বি নেচে বৃন্দাবনের নূপুর প’রে।।
    
  • কাঁদিছে তিমির-কুন্তলা সাঁঝ

    বাণী

    কাঁদিছে তিমির-কুন্তলা সাঁঝ আমার হৃদয় গগনে।
    এসো প্রিয়া এসো বঁধূ-বেশে এই বিদায়-গোধূলি-লগনে।।
    	দিনের চিতার রক্ত-আলোকে
    	শুভ-দৃষ্টি গো হবে চোখে চোখে,
    আমার মরণ-উৎসব-ক্ষণে শঙ্খ বাজুক সঘনে।।
    চাঁদের প্রদীপ জ্বালাইয়া হের খুঁজিছে মোদেরে তারাদল,
    সজল-বসনা বাদল-পরীর নয়ন করিছে ছল ছল।।
    	মরণে তোমারে পাইব বলিয়া 
    	জীবনে করেছি আরাধনা প্রিয়া,
    এসো মায়ালোক-বিহারিণী মোর কুহেলি-আঁধার-স্বপনে।।
    
  • তোমার প্রেমে সন্দেহ মোর

    বাণী

    তোমার প্রেমে সন্দেহ মোর দুর কর নাথ ভক্তি দাও।
    যেখানে হোক তুমি আছ — এই বিশ্বাস শক্তি দাও।।
    	যে কোন জনমে আমি
    	পাইব পাব তোমায় আমি
    অবিশ্বাসের আঁধার রাতে তোমায় পাওয়ার পথ দেখাও।।
    শত দুঃখ ব্যথার মাঝে এইটুকু দাও শন্তি নাথ।
    কাঁদিবে তুমি আমার দুঃখে আজকে যতই দাও আঘাত।।
    	হয়ত কোটি জনম পরে
    	পাব তোমায় আমার করে,
    তোমায় আমায় মিলন হবে এই আশাতেই মন দোলাও।।
    
  • দুর্গম গিরি কান্তার মরু

    বাণী

    দুর্গম গিরি, কান্তার–মরু, দুস্তর পারাবার হে!
    লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে, যাত্রীরা হুঁশিয়ার।।
    দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ —
    ছিঁড়িয়াছে পাল কে ধরিবে হাল, কার আছে হিম্মত।
    কে আছো জোয়ান, হও আগুয়ান, হাঁকিছে ভবিষ্যত,
    এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার।।
    তিমির রাত্রি, মাতৃ–মন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান!
    যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান।
    ফেনাইয়া ওঠে বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত অভিমান,
    ইহাদেরে পথে নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার।।
    অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানে না সন্তরণ,
    কান্ডারী, আজি দেখিব তোমার মাতৃ–মুক্তি–পণ।
    ’হিন্দু না ওরা মুসলিম’– ওই জিজ্ঞাসে কোন্‌ জন,
    কান্ডারী, বল, ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মা’র।।
    গিরি–সংকট, ভীরু যাত্রীরা, গরজায় গুরু বাজ —
    পশ্চাৎ পথ যাত্রীর মনে সন্দেহ জাগে আজ।
    কান্ডারী, তুমি ভুলিবে কি পথ? ত্যজিবে কি পথ মাঝ?
    করে হানাহানি, তবু চল টানি’– নিয়েছ যে মহাভার।।
    ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান —
    আসি’ অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন্ বলিদান!
    আজি পরীক্ষা জাতির অথবা জাতেরে করিবে ত্রাণ,
    দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, কান্ডারী হুঁশিয়ার।।
    

  • বৃন্দাবনী কুমকুম আবির রাগে

    বাণী

    বৃন্দাবনী কুমকুম আবির রাগে যেন মোর অন্তর বাহির রাঙ্গে।।
    		রস-যমুনা যেন বহে
    		কভু মধুর মিলনে কভু বিধুর বিরহে,
    রস-তৃষাতুরা ব্রজ-নাগরী যেন গাগরিতে সেই রস মাগে।।
    যেন মোর কুঞ্জ-দুয়ারে,
    ভাব-বিলাসিনী শ্রীমতী আসে অভিসারে।
    		যেন মোর নিবিড় ধ্যানে
    		মুরলী-ধ্বনি শুনি কানে,
    বিরহের বরষায় আশা-নীপ-শাখায় যেন ঝুলনের দোলা লাগে।।
    
  • মাগো আমি তান্ত্রিক নই

    বাণী

    মাগো আমি তান্ত্রিক নই তন্ত্র মন্ত্র জানি না মা।
    আমার মন্ত্র যোগ-সাধনা ডাকি শুধু শ্যামা শ্যামা।।
    	যাই না আমি শ্মশান মশান
    	দিই না পায়ে জীব বলিদান,
    খুঁজতে তোকে খুজি না মা অমাবস্যা ঘোর ত্রিযামা।।
    ঝিল্লী যেমন নিশীথ রাতে একটানা সুর গায় অবিরাম
    তেমনি করে নিত্য আমি জপি শ্যামা তোমারি নাম।
    	শিশু যেমন অনায়াসে
    	জননীরে ভালোবাসে,
    তেমনি সহজ সাধনা মোর তাতেই পাব তোর দেখা মা।।
    
  • শূণ্য এ বুকে পাখি মোর আয়

    বাণী

    শূন্য এ–বুকে পাখি মোর আয় ফিরে আয় ফিরে আয়!
    তোরে না হেরিয়া সকালের ফুল অকালে ঝরিয়া যায়।।
    		তুই নাই ব’লে ওরে উন্মাদ
    		পান্ডুর হ’ল আকাশের চাঁদ,
    কেঁদে নদী–জল করুণ বিষাদ ডাকে: ‘আয় ফিরে আয়’।।
    		গগনে মেলিয়া শত শত কর
    		খোঁজে তোরে তরু, ওরে সুন্দর!
    তোর তরে বনে উঠিয়াছে ঝড় লুটায় লতা ধূলায়!
    		তুই ফিরে এলে, ওরে চঞ্চল
    		আবার ফুটিবে বন ফুল–দল
    ধূসর আকাশ হইবে সুনীল তোর চোখের চাওয়ায়।।
    
  • স্নিগ্ধ শ্যাম কল্যাণ রূপে রয়েছ

    বাণী

    স্নিগ্ধ শ্যাম কল্যাণ রূপে রয়েছ মোদেরে ঘেরি
    তব অনন্ত করুণা ও স্নেহ নিশিদিন নাথ হেরি।।
    	তব চন্দন-শীতল কান্তি
    	সৌম্য-মধুর তব১ প্রশান্তি
    জড়ায়ে রয়েছে ছড়ায়ে রয়েছে অঙ্গে ত্রিভুবনেরই।।
    বাহিরে তুমি বন্ধু স্বজন আত্মীয় রূপী মম
    অন্তরে তুমি পরমানন্দ প্রিয় অন্তরতম।
    	নিবেদন করে তোমাতে যে প্রাণ
    	সেই জানে তুমি কত মহান
    যেমনি সে ডাকে সড়া দাও তাকে তিলেক কর না দেরি।।
    

    ১. চির