একতাল

  • তোমার প্রেমে সন্দেহ মোর

    বাণী

    তোমার প্রেমে সন্দেহ মোর দুর কর নাথ ভক্তি দাও।
    যেখানে হোক তুমি আছ — এই বিশ্বাস শক্তি দাও।।
    	যে কোন জনমে আমি
    	পাইব পাব তোমায় আমি
    অবিশ্বাসের আঁধার রাতে তোমায় পাওয়ার পথ দেখাও।।
    শত দুঃখ ব্যথার মাঝে এইটুকু দাও শন্তি নাথ।
    কাঁদিবে তুমি আমার দুঃখে আজকে যতই দাও আঘাত।।
    	হয়ত কোটি জনম পরে
    	পাব তোমায় আমার করে,
    তোমায় আমায় মিলন হবে এই আশাতেই মন দোলাও।।
    
  • দুঃখ সাগর মন্থন শেষ ভারতলক্ষ্মী আয় মা আয়

    বাণী

    দুঃখ সাগর মন্থন শেষ ভারতলক্ষ্মী আয় মা আয়
    কবে সে ডুবিলি অতল পাথারে উঠিলি না আর হায় মা হায়॥
    	মন্থনে শুধু উঠে হলাহল
    	শিব নাই পান কে করে গরল
    অমৃত ভান্ড লয়ে আয় মাগো জ্বলিয়া মরি বিষের জ্বালায়॥
    হরিৎ ক্ষেত্রে সোনার শস্যে দুলে না আর তোর আঁচল
    শুকায়েছে মাগো মায়ের স্তন্য গাভীর দুগ্ধ নদীর জল।
    	চাই না মোক্ষ চাই মা বাঁচিতে
    	অক্ষয় আয়ু লয়ে ধরণীতে
    চাই প্রাণ চাই ক্ষুধায় অন্ন মুক্ত আলোকে মুক্ত বায়॥
    
  • দুর্গম গিরি কান্তার মরু

    বাণী

    দুর্গম গিরি, কান্তার–মরু, দুস্তর পারাবার হে!
    লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে, যাত্রীরা হুঁশিয়ার।।
    দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ —
    ছিঁড়িয়াছে পাল কে ধরিবে হাল, কার আছে হিম্মত।
    কে আছো জোয়ান, হও আগুয়ান, হাঁকিছে ভবিষ্যত,
    এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার।।
    তিমির রাত্রি, মাতৃ–মন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান!
    যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান।
    ফেনাইয়া ওঠে বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত অভিমান,
    ইহাদেরে পথে নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার।।
    অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানে না সন্তরণ,
    কান্ডারী, আজি দেখিব তোমার মাতৃ–মুক্তি–পণ।
    ’হিন্দু না ওরা মুসলিম’– ওই জিজ্ঞাসে কোন্‌ জন,
    কান্ডারী, বল, ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মা’র।।
    গিরি–সংকট, ভীরু যাত্রীরা, গরজায় গুরু বাজ —
    পশ্চাৎ পথ যাত্রীর মনে সন্দেহ জাগে আজ।
    কান্ডারী, তুমি ভুলিবে কি পথ? ত্যজিবে কি পথ মাঝ?
    করে হানাহানি, তবু চল টানি’– নিয়েছ যে মহাভার।।
    ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান —
    আসি’ অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন্ বলিদান!
    আজি পরীক্ষা জাতির অথবা জাতেরে করিবে ত্রাণ,
    দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, কান্ডারী হুঁশিয়ার।।
    

  • নিত্য শুদ্ধ কল্যাণ রূপে আছ তুমি

    বাণী

    নিত্য শুদ্ধ কল্যাণ রূপে আছ তুমি মোর সাথে।
    সান্দ্র নিবিড় সন্ধ্যায় যেই পথ ভুলি’, ধর হাতে।।
    	প্রদোষে স্বরগ-পাশে
    	তোমার করুণা ভাসে,
    স্নিগ্ধ শান্ত চাঁদ হ’য়ে, প্রভু, আঁধারে পথ দেখাতে।।
    মান তাজিয়া যে যায় প্রভু তোমার চরণ-তলে,
    পূর্ণ-রূপে নেমে আস তার হৃদয়-পদ্ম-দলে।
    	অবতার হও ভুপালিতে প্রভু
    	প্রেম-যমুনার পারে রহ কভু,
    দগ্ধ-পরানে বিরাজ হে স্বামী, দুঃখ-জ্বালা জুড়াতে।।
    
  • পরজনমে দেখা হবে প্রিয়

    বাণী

    পরজনমে দেখা হবে প্রিয়।
    ভুলিও মোরে হেথা ভুলিও।।
    এ জনমে যাহা বলা হ’ল না,
    আমি বলিব না, তুমিও ব’লো না।
    জানাইলে প্রেম করিও ছলনা,
    যদি আসি ফিরে, বেদনা দিও।।
    হেথায় নিমেষে স্বপন ফুরায়,
    রাতের কুসুম প্রাতে ঝ’রে যায়,
    ভালো না বাসিতে হৃদয় শুকায়,
    বিষ-জ্বালা-ভরা হেথা অমিয়।।
    হেথা হিয়া ওঠে বিরহে আকুলি’
    মিলনে হারাই দু’দিনেতে ভুলি’,
    হৃদয়ে যথায় প্রেম না শুকায়
    সেই অমরায় মোরে স্মরিও।।
    
  • বিদায় সন্ধ্যা আসিল ওই

    বাণী

    বিদায়–সন্ধ্যা আসিল ওই ঘনায় নয়নে অন্ধকার।
    হে প্রিয়, আমার, যাত্রা–পথ অশ্রু–পিছল ক’রোনা আর।।
    		এসেছিনু ভেসে স্রোতের, ফুল
    		তুমি কেন প্রিয় করিলে ভুল
    তুলিয়া খোঁপায় পরিয়া তা’য় ফেলে দিলে হায় স্রোতে আবার।।
    		হেথা কেহ কারো বোঝে না মন
    		যারে চাই হেলা হানে সে’ জন
    যারে পাই সে না হয় আপন হেথা নাই হৃদি ভালোবাসার।
    		তুমি বুঝিবেনা কি অভিমান
    		মিলনের মালা করিল ম্লান
    উড়ে যাই মোর, দূর বিমান সেথা গা’ব গান আশে তোমার।।
    
  • বিদায়-সন্ধা আসিল ঐ ঘনায় নয়নে অন্ধকার

    বাণী

    বিদায়-সন্ধা আসিল ঐ ঘনায় নয়নে অন্ধকার।
    হে প্রিয়, আমার, যাত্রা-পথ অশ্রু-পিছল ক’রো না আর॥
    	এসেছিনু ভেসে স্রোতের, ফুল
    	তুমি কেন প্রিয় করিলে ভুল
    তুলিয়া খোঁপায় পরিয়া তা’য় ফেলে দিলে হায় স্রোতে আবার॥
    	হেথা কেহ কারো বোঝে না মন
    	যারে চাই হেলা হানে সে’ জন
    যারে পাই সে না হয় আপন হেথা নাহি হৃদি ভালোবাসার।
    	তুমি বুঝিবে না কি অভিমান
    	মিলনের মালা করিল ম্লান
    উড়ে যাই মোর, দূর বিমান সেথা গা’ব গান আশে তোমার॥
    

  • বিশ্ব ব্যাপিয়া আছ তুমি জেনে

    বাণী

    বিশ্ব ব্যাপিয়া আছ তুমি জেনে শান্তি ত’ নাহি পাই।
    রূপ ধরে এসো, দাঁড়াও সুমুখে, দেখিয়া আঁখি জুড়াই॥
    	আমার মাঝারে যদি তুমি রহ
    	কেন তবে এই অসীম বিরহ
    কেন বুকে বাজে নিবিড় বেদনা মনে হয় তুমি নাই॥
    চাঁদের আলোকে ভরে না গো মন, দেখিতে চাই যে চাঁদ,
    ফুলর গন্ধ পাইলে, জাগে যে ফুল দেখিবার সাধ।
    	(ওগো) সুন্দর, যদি নাহি দেবে ধরা
    	কেন প্রেম দিলে বেদনায় ভরা
    রূপের লাগিয়া কেন প্রাণ কাঁদে রূপ যদি তব নাই॥
    
  • বুনো ফুলের করুণ সুবাস

    বাণী

    বুনো ফুলের করুণ সুবাস ঝুরে।
    নাম-না-জানা গানের পাখি, তোমার গানের সুরে।।
    	জানাতে হায় এলে কোথা
    	বনের ছায়ার মনের ব্যথা,
    তরুর ছায়া ফেলে এলে মরুর বুকে উড়ে।।
    এলে চাঁদের তৃষ্ণা নিয়ে কৃষ্ণা তিথির রাতে,
    পাতার বাসা ফেলে এলে সজল নয়ন-পাতে।
    	ওরে পাখি, তোর সাথে হায়
    	উড়তে নারি দূর অলকায়,
    বন্ধনে যে বাঁধা আমি মলিন মাটির পুরে।।
    
  • বৃন্দাবনী কুমকুম আবির রাগে

    বাণী

    বৃন্দাবনী কুমকুম আবির রাগে যেন মোর অন্তর বাহির রাঙ্গে।।
    		রস-যমুনা যেন বহে
    		কভু মধুর মিলনে কভু বিধুর বিরহে,
    রস-তৃষাতুরা ব্রজ-নাগরী যেন গাগরিতে সেই রস মাগে।।
    যেন মোর কুঞ্জ-দুয়ারে,
    ভাব-বিলাসিনী শ্রীমতী আসে অভিসারে।
    		যেন মোর নিবিড় ধ্যানে
    		মুরলী-ধ্বনি শুনি কানে,
    বিরহের বরষায় আশা-নীপ-শাখায় যেন ঝুলনের দোলা লাগে।।
    
  • ব্রজগোপাল শ্যাম সুন্দর

    বাণী

    ব্রজগোপাল শ্যাম সুন্দর
    যশোদা দুলাল শিশু নটবর॥
    নন্দ নন্দন নয়নানন্দ
    চরণে মধুর সৃজন ছন্দ
    ভুবন মোহন কৃষ্ণচন্দ্র
    অপরূপ রূপ হেরে চরাচর॥
    কোটি গ্রহতারা চরণে নূপুর
    ওঙ্কার ধ্বনি বাঁশরির সুর।
    বঙ্কিম আঁখি বাঁকা শিখীপাখা
    বাঁকা শ্রীচরণ ভঙ্গিমা বাঁকা
    কৃষ্ণময় শ্রীঅঙ্গ ডাকা
    করাল মধুর প্রভু গিরিধর॥
    
  • ভরিয়া পরান শুনিতেছি গান

    বাণী

    ভরিয়া পরান শুনিতেছি গান আসিবে আজি বন্ধু মোর!
    স্বপন মাখিয়া সোনার পাখায় আকাশে উধাও চিত-চকোর।।
    		হিজল-বিছানো বন-পথ দিয়া
    		রাঙায়ে চরণ আসিবে গো পিয়া।
    নদীর পারে বন-কিনারে ইঙ্গিত হানে শ্যাম কিশোর।।
    		চন্দ্রচূড় মেঘের গায়
    		মরাল-মিথুন উড়িয়া যায়,
    নেশা ধরে চোখে আলো-ছায়ায় বহিছে পবন গন্ধ-চোর।।
    

  • ভারত শ্মশান হ’ল মা তুই শ্মশানবাসিনী ব’লে

    বাণী

    ভারত শ্মশান হ’ল মা, তুই শ্মশানবাসিনী ব’লে।
    জীবন্ত-শব নিত্য মোরা, চিতাগ্নিতে মরি জ্ব’লে।।
    আজ হিমালয় হিমে ভরা,
    দারিদ্র্য-শোক-ব্যাধি-জরা,
    নাই যৌবন, যেদিন হতে শক্তিময়ী গেছিস্ চ’লে।।
    (মা) ছিন্নমস্তা হয়েছিস্ তাই হানাহানি হয় ভারতে,
    নিত্য-আনন্দিনী, কেন টানিস্ নিরানন্দ পথে?
    শিব-সীমন্তিনী বেশে
    খেল্ মা আবার হেসে হেসে,
    ভারত মহাভারত হবে, আয় মা ফিরে মায়ের কোলে।।
    
  • মাগো আমি তান্ত্রিক নই

    বাণী

    মাগো আমি তান্ত্রিক নই তন্ত্র মন্ত্র জানি না মা।
    আমার মন্ত্র যোগ-সাধনা ডাকি শুধু শ্যামা শ্যামা।।
    	যাই না আমি শ্মশান মশান
    	দিই না পায়ে জীব বলিদান,
    খুঁজতে তোকে খুজি না মা অমাবস্যা ঘোর ত্রিযামা।।
    ঝিল্লী যেমন নিশীথ রাতে একটানা সুর গায় অবিরাম
    তেমনি করে নিত্য আমি জপি শ্যামা তোমারি নাম।
    	শিশু যেমন অনায়াসে
    	জননীরে ভালোবাসে,
    তেমনি সহজ সাধনা মোর তাতেই পাব তোর দেখা মা।।
    
  • মায়ের আমার রূপ দেখে যা

    বাণী

    মায়ের আমার রূপ দেখে যা মা যে আমার কেবল জ্যোতি।
    (মার) কৌশিকি রূপ দেখ্ রে চেয়ে, মা, শুদ্ধা মহা স্বরস্বতী।।
    	পরম শুভ্র জ্যোতির্ধারায়
    	নিখিল বিশ্ব যায় ডুবে যায়।
    কোটি শ্বেতশতদলে বিরাজে মা বেদবতী।।
    সপ্তসর্গ সপ্ত পাতাল শুদ্ধ হয়ে উঠল নেয়ে
    সাত্ত্বিকি মোর জগন্মাতার জ্যোতির্সুধার প্রসাদ পেয়ে।
    	নৃত্যময়ী শব্দময়ী কালী
    	এলো শান্ত কল্যাণ-দীপ জ্বালি’
    দেখ রে পরমাত্মায় সব জননী সে জ্যোতিষ্মতী।।
    
  • মোরা ছিনু একেলা হইনু দু’জন

    বাণী

    	মোরা ছিনু একেলা, হইনু দু’জন।
    	সুন্দরতর হ’ল নিখিল ভুবন।।
    আজি	কপোত-কপোতী শ্রবণে কুহরে,
    	বীণা বেণু বাজে বন-মর্মরে।
    	নির্ঝর-ধারে সুধা চোখে মুখে ঝরে,
    	নূতন জগৎ মোরা করেছি সৃজন।।
    	মরিতে চাহি না, পেয়ে জীবন-অমিয়া!
    	আসিব এ কুটিরে আবার জনমিয়া।
    	আরো চাই আরো চাই অশেষ জীবন।।
    আজি	প্রদীপ-বন্দিনী আলোক-কন্যা,
    	লক্ষ্মীর শ্রী লয়ে আসিল অরণ্যা,
    	মঙ্গল-ঘটে এলো নদীজল-বন্যা,
    	পার্বতী পরিয়াছে গৌরী-ভূষণ।।
    
  • শঙ্কর অঙ্গলীনা যোগ মায়া

    বাণী

    শঙ্কর অঙ্গলীনা যোগ মায়া শঙ্করী শিবানী।
    বালিকা-সম লীলাময়ী নীল-উৎপল-পাণি।।
    	সজল-কাজল-ঝর্না
    	মুকত বেণী অপর্ণা,
    তিমির বিভাবরী স্নিগ্ধা শ্যামা কালিকা ভবানী।।
    প্রলয় ছন্দময়ী চন্ডী শব্দ-নূপুর-চরণা,
    শাম্ভবী শিব-সীমন্তিনী শঙ্করাভরণা।
    	অম্বিকা দুঃখহারিণী
    	শরণাগত-তারিণী,
    জগদ্ধাত্রী শান্তিদাত্রী প্রসীদ মা ঈশানী।।
    
  • শূণ্য এ বুকে পাখি মোর আয়

    বাণী

    শূন্য এ–বুকে পাখি মোর আয় ফিরে আয় ফিরে আয়!
    তোরে না হেরিয়া সকালের ফুল অকালে ঝরিয়া যায়।।
    		তুই নাই ব’লে ওরে উন্মাদ
    		পান্ডুর হ’ল আকাশের চাঁদ,
    কেঁদে নদী–জল করুণ বিষাদ ডাকে: ‘আয় ফিরে আয়’।।
    		গগনে মেলিয়া শত শত কর
    		খোঁজে তোরে তরু, ওরে সুন্দর!
    তোর তরে বনে উঠিয়াছে ঝড় লুটায় লতা ধূলায়!
    		তুই ফিরে এলে, ওরে চঞ্চল
    		আবার ফুটিবে বন ফুল–দল
    ধূসর আকাশ হইবে সুনীল তোর চোখের চাওয়ায়।।
    
  • স্নিগ্ধ শ্যাম কল্যাণ রূপে রয়েছ

    বাণী

    স্নিগ্ধ শ্যাম কল্যাণ রূপে রয়েছ মোদেরে ঘেরি
    তব অনন্ত করুণা ও স্নেহ নিশিদিন নাথ হেরি।।
    	তব চন্দন-শীতল কান্তি
    	সৌম্য-মধুর তব১ প্রশান্তি
    জড়ায়ে রয়েছে ছড়ায়ে রয়েছে অঙ্গে ত্রিভুবনেরই।।
    বাহিরে তুমি বন্ধু স্বজন আত্মীয় রূপী মম
    অন্তরে তুমি পরমানন্দ প্রিয় অন্তরতম।
    	নিবেদন করে তোমাতে যে প্রাণ
    	সেই জানে তুমি কত মহান
    যেমনি সে ডাকে সড়া দাও তাকে তিলেক কর না দেরি।।
    

    ১. চির

  • স্বদেশ আমার জানি না তোমার

    বাণী

    স্বদেশ আমার! জানি না তোমার শুধিব মা কবে ঋণ।
    দিনের পরে মা দিন চ’লে যায় এলো না সে শুভদিন।।
    		খাই দাই আর আরামে ঘুমাই
    		পাগলের যেন ব্যথা-বোধ নাই
    ললাট-লিখন বলিয়া এড়াই ভীরুতা, শক্তি ক্ষীণ।
    অভাগিনী তুমি, সন্তান তব সমান ভাগ্যহীন।।
    কত শতাব্দী করেছি মা পাপ মানুষেরে করি ঘৃণা
    জানি মা মুক্তি পাব না তাহার প্রায়শ্চিত্ত বিনা।
    		ক্ষুদ্র ম্লেচ্ছ কাঙাল ভাবিয়া
    		রেখেছি যাদেরে চরণে দাবিয়া
    তাদের চরণ-ধূলি মাখি যদি আসিবে সে শুভদিন
    নূতন আলোকে জাগিবে পুলকে জননী ব্যথা-মলিন।।