ভাটিয়ালী

  • আমি ময়নামতীর শাড়ি দেবো

    বাণী

    আমি ময়নামতীর শাড়ি দেবো, চলো আমার বাড়ি
    ওগো ভিনগেরামের নারী
    তোরে সোনাল ফুলের বাজু দেবো চুড়ি বেলোয়ারি।।
    তোরে বৈঁচী ফুলের পৈঁচী দেবো কলমিলতার বালা,
    রক্ত-শালুক দিবো পায়ে, পরবে আলতা তা'রি।।
    হলুদ-চাঁপার বরণ কন্যা এসো আমার নায়
    সরষে ফুলের সোনার রেণু মাখাবো ওই গায়!
    ঠোঁটে দিবো রাঙা পলাশ মহুয়া ফুলের মউ,
    বকুল-ডালে ডাকবে পাখি, 'বউ গো কথা কও!'
    আমি সব দিবো গো, যা পারি আর যা দিতে না পারি।।
    
  • ও কুল-ভাঙ্গা নদী রে

    বাণী

    	ও, কুল-ভাঙ্গা নদী রে,
    	আমার চোখের নীর এনেছি মিশাতে তোর নীরে।।
    	যে লোনা জলের সিন্ধুতে নদী, নিতি তব আনাগোনা
    	মোর চোখের জল লাগবে না ভাই তার চেয়ে বেশি লোনা।
    	আমায় কাঁদাতে দেখে আসবিনে তুই রে,
    	উজান বেয়ে ফিরে' নদী, উজান বেয়ে ফিরে'।।
    		আমার মন বোঝে না, নদী —
    তাই	বারে বারে আসি ফিরে তোর কাছে নিরবধি।
    	তোরই অতল তলে ডুবিতে চাই রে,
    		তুই ঠেলে দিস তীরে (ওরে)।।
    
  • তোর রূপে সই গাহন ক’রে জুড়িয়ে গেল গা

    বাণী

    তোর রূপে সই গাহন ক’রে জুড়িয়ে গেল গা
    তোর গাঁয়েরি নদীর ঘাটে বাঁধলাম এ মোর না।।
    	তোর চরণের আলতা লেগে
    	পরান আমার উঠল রেঙে (রে)
    ও তোর বাউরি কেশের বিনুনীতে জড়িয়ে গেল পা।
    তোর বাঁকা ভুরু বাঁকা আঁখি বাঁকা চলন, সই,
    দেখে পটে আঁকা ছবির মতন দাঁড়িয়ে পথে রই।
    	উড়ে এলি’ দেশান্তরী
    	তুই কি ডানা-কাটা পরী (রে)
    তুই শুকতারারি সতিনী সই সন্ধ্যাতারার জা’।।
    
  • তোমার আসার আশায় দাঁড়িয়ে থাকি

    বাণী

    তোমার আসার আশায় দাঁড়িয়ে থাকি একলা বালুচরে
    নদীর পানে চেয়ে চেয়ে মন যে কেমন করে।।
    অনেক দূরে তরী বেয়ে আসে যদি কেউ,
    আমার বুকে দুলে ওঠে উজান নদীর ঢেউ;
    নয়ন মুছে চেয়ে দেখি সে গিয়েছে স'রে।।
    আঁচল-ঢাকা ফুলগুলিও শুকায় বুকের তলে
    ঘরে ফিরি গাগরি মোর ভ'রে নয়ন জলে।
    বিদেশে তো যায় অনেকে আবার ফিরে আসে,
    কপাল দোষে তুমি শুধু রইলে পরবাসে;
    অধীর নদী রোদন বাজে বুকের পিঞ্জরে।।