বাণী

	আজ যুগের পরে ঘরে১ ফিরে মায়ের কথা পড়লো মনে।
	শূন্য ঘরে মন বসে না গুমরে মরে হিয়ার বনে।।
		আজো সে ঘর সবাই আছে,
		মা কেবলই নেই গো কাছে, — 
	ঐ দাওয়া আর ঐ কানাচে আজো মায়ের স্বরটি রনে।।
	যত্ন কারুর সইতে নারি, কণ্ঠ ছিঁড়ে কান্না আসে;
	ওষ্ঠ চেপে যায় না রাখা, রূপ যে তোমার চক্ষে ভাসে!
		পাইনি মাগো সাতটি বরষ
		একটুকু ক্ষীণ স্নেহের পরশ, — 
(ও মা)	‘বুনো’ তোমার হ’ল না বশ চল্‌লো ফিরে ফের বিজনে।
	হার্‌লো স্নেহ বাঁধন-হারার বাঁধ্‌তে নিয়ে ডোর-সৃজনে।।

১. ঘরকে

বাণী

গঙ্গা সিন্ধু নর্মদা কারেরী যমুনা ঐ
বাহিয়া চলেছে আগের মতন, কই রে আগের মানুষ কই।।
		মৌনী স্তব্ধ সে হিমালয়
		তেমনি অটল মহিমময়
নাই তার সাথে সেই ধ্যানী ঋষি, আমরাও আর সে জাতি নই।।
		আছে সে আকাশ ইন্দ্র নাই
		কৈলাসে সে যোগীন্দ্র নাই
অন্নদা-সুত ভিক্ষা চাই কি কহিব এরে কপাল বই।।
		সেই আগ্রা সে দিল্লী ভাই
		প’ড়ে আছে, সেই বাদশা নাই
নাই কোহিনুর ময়ূর-তখ্ত নাই সে বাহিনী বিশ্বজয়ী।
		আমরা জানি না, জানে না কেউ
		কূলে ব’সে কত গণিব ঢেউ
দেখিয়াছি কত, দেখিব এও নিঠুর বিধির লীলা কতই।।

বাণী

হৃদয় কেন চাহে হৃদয়, আমি জানি মন জানে
জানে নদী কেন যে সে, যায় ছুটে সাগর পানে।।
কেহ বারি কেন চাহে, জানে চাতক, জানে মেঘ,
জানে চকোর সুদূর নভে, চাঁদ কেন তারে টানে।।
কুসুম কেন চাহে শিশির, জানে শিশির, জানে ফুল,
জানে বুলবুল আছে কাঁটা, তবু যায় গুল-বাগানে।
আঁখি চাহে আঁখি-বারি , মন চাহে মনোব্যথা
প্রাণ আছে যার সেই জানে, কেন চাহে প্রাণে প্রাণে।।

বাণী

মরুর ধুলি উঠলো রেঙে রঙিন গোলাপ রাগে
বুলবুলিরা উঠলো গেয়ে মক্কার গুলবাগে।।
	খোদার প্রেমের কোন দিওয়ানা
	দ্বারে দ্বারে দেয় রে হানা,
নবীন আশার আলোক পেয়ে, ঘুমন্ত সব জাগে।।
এ কোন তরণ প্রেমিক এলো কা'বার অঙ্গনে
সবুজ পাতার নিশান দোলায় শুকনো খেজুর বনে।
	এলো নব দীনের নকীব
	চির-চাওয়া খোদার হাবীব
নিখিল পাপী-তাপী যাঁহার পায়ের পরশ মাগে।।

বাণী

ভীরু এ মনের কলি ফোটালে না কেন ফোটালে না —
জয় করে কেন নিলে না আমারে, কেন তুমি গেলে চলি।।
		ভাঙ্গিয়া দিলে না কেন মোর ভয়,
		কেন ফিরে গেলে শুনি অনুনয়;
কেন সে বেদনা বুঝিতে পার না মুখে যাহা নাহি বলি।।
কেন চাহিলে না জল নদী তীরে এসে,
সকরুণ অভিমানে চলে গেলে মরু–তৃষ্ণার দেশে।।
		ঝোড়ো হাওয়া ঝরা পাতারে যেমন
		তুলে নেয় তার বক্ষে আপন
কেন কাড়িয়া নিলে না তেমনি করিয়া মোর ফুল অঞ্জলি।।

বাণী

স্বপ্নে দেখি একটি নতুন ঘর
তুমি আমি দু’জন প্রিয় তুমি আমি দু’জন।
বাহিরে বকুল-বনে কুহু পাপিয়া করে কুজন।।
		আবেশে ঢুলে’ ফুল-শয্যায় শুই
		মুখ টিপে হাসে মল্লিকা যুঁই
কানে কানে গানে গানে কহে ‘চিনেছি উতল সমীরণ’।।
পূর্ণিমা চাঁদ কয়, গান আর সুর, চঞ্চল ওরা দু’জন
প্রেম-জ্যোতি আনন্দ-আঁখিজল, ছল ছল ওরা দু’জন।
মৌমাছি কয়, গুন্‌ গুন্‌ গান গাই
মুখোমুখি দু’জনে সেইখানে যাই
শারদীয়া শেফালি গায়ে পড়ে কয় —
‘ব্রজের মধুবন — এই তো ব্রজের মধুবন’।।