বাণী

শেষ হ’ল মোর এ জীবনে ফুল ফোটাবার পালা।
ওগো মরণ, অর্ঘ্য লহ সেই কুসুমের ডালা।।
	কাটলো কীটে ঝরলো যে-ফুল
	শুকালো যে আশার মুকুল,
তাই দিয়ে হে মরণ তোমার গেঁথেছি আজ মালা।।
সুন্দর এই ধরণীতে কতই ছিল সাধ বাঁচিতে,
হঠাৎ তোমার বাজলো বেণু বিদায়-করুণ ভৈরবীতে।
	তোমার আঁধার-শান্ত কোলে
	শ্রান্ত তনু পড়ুক ঢ’লে,
আর সহে না কুসুম-বিহীন কন্টকের জ্বালা।।

বাণী

আয় সবে ভাই বোন
আয় সবে আয় শোন্ 
	পদধূলি শিরে লয়ে মা’র।
মা’র বড় কেহ নাই
কেহ নাই, কেহ নাই,
	নত করি’ বল সবে — ‘মা আমার! মা আমার!’

রেকর্ড-নাটিকাঃ ‘মাতৃস্তোত্র’

বাণী

ভেঙো না ভেঙো না ধ্যান হে আমার ধ্যানের দেবতা।
পূজা লহ, অর্ঘ্য লহ ক’য়ো না ক’য়ো না কথা।।
পাষাণ মূরতি তুমি পাষাণ হইয়া থাকো,
মন্দির-বেদী হতে ধরার ধূলায় নেমো নাকো।
তুমিও মাটির মানুষ বুঝায়ে দিও না ব্যথা।।
সহিবে সকলি স্বামী হেনো হেলা ব্যথা দিও,
সহিবে না অপমান ভালোবাসার আমার হে প্রিয়,
থাক তুমি হিয়ার মাঝে তোমার মন্দির যথা।।

বাণী

ওরে		নীল যমুনার জল! বল রে মোরে বল 
		কোথায় ঘনশ্যাম — আমার কৃষ্ণ ঘনশ্যাম।
আমি		বহু আশায় বুক বেঁধে যে এলাম — এলাম ব্রজধাম।।
তোর		কোন্‌ কূলে কোন্‌ বনের মাঝে
		আমার কানুর বেণু বাজে,
আমি 		কোথায় গেলে শুনতে পাব ‌‌‘রাধা রাধা’ নাম।।
আমি 		শুধাই ব্রজের ঘরে ঘরে — কৃষ্ণ কোথায় বল্‌;
কেন		কেউ কহে না কথা, হেরি সবার চোখে জল।
		বল্‌ রে আমার শ্যামল কোথায়
		কোন্‌ মথুরায় কোন দ্বারকায় — বল্‌ যমুনা বল।
বাজে		বৃন্দাবনের কোন্‌ পথে তাঁর নূপুর অভিরাম।। 

বাণী

আমার সকল আকাশ ভ'রলো তোমার তনুর কমল-গন্ধে
আমার বন-ভবন ঘিরল মধুর কৃষ্ণ-মকরন্দে।।
	এলামেলো মলয় বহে
	বন্ধু এলো, এলো কহে
উজ্জ্বল হ'ল আমার ভুবন তোমার মুখ-চন্ধে।।
আমার দেহ-বীণায় বাজে তোমার চরণ-নূপুর-ছন্দ
সকল কাজে জাগে শুধু অধীর আনন্দ।
	আমার বুকের সুখের মাঝে
	তোমার উদাস বেণু বাজে
তোমার ছোওয়ায় আবেশ জাগে ব্যাকুল বেণীর বন্ধে।।

বাণী

প্রিয়তম এসো ফিরে রহিবে কি দূরে দূরে
ভুলি মোরে চিরতবে ভাসাইয়া আঁখি-নীরে॥
		আছি ব’সে পথ চেয়ে
		আঁধার এলো যে ছেয়ে
মনের বনের ছায়ে এসো মিলন মধুর সুরে॥
		নয়নের মণিহারা
		নিভে গেছে শুকতারা
ভেসে আসে কালো মেঘ আমার গগন ঘিরে॥