বাণী

সুনয়না চোখে কথা ক’য়ে যায়
বনের রানী, দুটি ফুলে শুনি
নয়ন ফাঁকে প্রাণ লুকিয়ে চায়॥
দেহ দেউলে, দুটি দীপ দুলে
হেরি সারা অন্তর তায়॥

বাণী

বিষাদিনী এসো শাওন সন্ধ্যায়
		কাঁদিব দুজনে।
দীপালির উৎসবে আঁধারের ঠাঁই নাহি
		কাহারো হাসি যদি নিভে যায়।
তোমারি মতো তাই ম্লান-মুখ চিরদিন
		লুকায়ে রাখি অবগুণ্ঠনে॥

বাণী

হোক প্রবুদ্ধ সঙ্ঘবন্ধ মোদের মহাভারত হোক সার্থক নাম।
হোক এই জাতি ধর্মে এক, কর্মে এক, মর্মে এক — 
এক লক্ষ্যে মধুর সখ্যে,
পূর্ণ হউক পূর্ণ হউক আর্যাবর্তধাম।।

নাটিকাঃ ‘সুরথ উদ্ধার’

বাণী

তরুণ অশান্ত কে বিরহী।
নিবিড় তমসায় ঘন ঘোর বরষায় —
দ্বারে হানিছ কর রহি রহি।।
ছিন্ন পাখা কাঁদে মেঘ-বলাকা
কাঁদে ঘোর অরণ্য আহত-শাখা
	চোখে আশা-বিদ্যুৎ
	এলে কোন মেঘদূত,
বিধূর বঁধূর মোর বারতা বহি’।।

বাণী

বেলা গেল সন্ধ্যা হ’ল, (ওরে) এখন খোল আঁখি।
তুই সোনার খনির কাছে এসে ফিরলি ধূলা-মাখি।।
	এ সংসারের সার ছেড়ে তুই
	সং সেজে হায়, বেড়াস নিতুই,
যে তোরে ধন-রত্ন দিলো তারেই দিলি ফাঁকি।।
ভুলে রইলি যাদের নিয়ে, তাদের পেলি কোথা হতে,
তোর যাবার বেলায় কেউ কি সাথি হবে রে তোর পথে।
	এখনো তুই ডাক একবার
	নাইরে সীমা তাহার দয়ার,
সে-ই করবে ক্ষমা, ঘুম পাড়াবে শীতল বুকে রাখি।।

বাণী

পথে কি দেখলে যেতে আমার গৌর দেবতারে।
যা’রে কোল যায় না দেওয়া, কোল দেয় সে ডেকে তারে।।
নবীন সন্ন্যাসী সে রূপে তার পাগল করে
আঁখির ঝিনুকে তা’র অবিরল মুক্তা ঝরে।
কেঁদে সে কৃষ্ণের প্রেম ভিক্ষা মাগে দ্বারে দ্বারে।।
জগতের জগাই-মাধাই মগ্ন যারা পাপের পাঁকে
সকলের পাপ নিয়ে সে সোনার গৌর-অঙ্গে মাখে।
উদার বক্ষে তাহার ঠাঁই দেয় সকল জাতে
দেখেছ প্রেমের ঠাকুর সচল জগন্নাথে?
একবার বললে হরি যায় নিয়ে সে ভবপারে।।