আধুনিক

  • সাধ জাগে মনে পর-জীবনে

    বাণী

    		সাধ জাগে মনে পর-জীবনে
    (আমি)	তব কপোলে যেন তিল হই।
    		ভালবাসিয়া মোরে দিল্‌ দিবে তুমি
    (যেন)		আমি তোমার মত বে-দিল্‌ হই।।
    		মোর দেওয়া যে হার নিলে না অকরুণা
    (যেন)		হয়ে সে হার তব বক্ষে রই।।
    		যাহারে ভালবেসে তুমি চাহ না মোরে
    		মরিয়া আসি যেন তাহারি রূপ ধ’রে
    (তুমি)		হার মানিবে আমি হ’ব জয়ী।।
    		হৃদি নিঙাড়ি মম আল্‌তা হব পায়ে
    		অধরে হব হাসি রূপ-লাবনি গায়ে
    		আমার যাহা কিছু তোমাতে হবে হারা
    (প্রিয়)		তুমি জানিবে না আমা বৈ।।
    
  • সুদূর সিন্ধুর ছন্দ উতল

    বাণী

    সুদূর সিন্ধুর ছন্দ উতল
    আমরা কলগীতি চঞ্চল॥
    তুফান ঝঞ্ঝা কল্লোল ছলছল
    ঊর্ধ্বে আমি ঝড় বহি শন্‌শন্‌
    মম বক্ষে তব মঞ্জির তোলে গো রণন্
    আনন্দ চিত্তে মেতে উঠি নৃত্যে
    গুরু গুরু গুরু বাজে বাদল মাদল॥
    তুমি গগন তলে উঠি মেঘের ছলে
    জল-বিম্বমালা বালা পরাও গলে।
    তুমি বাদল হাওয়ায় কর আদন যখন
    মোরে কান্না পাওয়ায়।
    ধুলি গৈরিক ঝড়ে সাগর নীলাম্বরী
    জড়াইয়া অপরূপ করে ঝলমল॥
    

  • সেদিন বলেছিলে এই সে ফুলবনে

    বাণী

    সেদিন ব’লেছিলে এই সে ফুলবনে,
    আবার হবে দেখা ফাগুনে তব সনে॥
    ফাগুন এলো ফিরে লাগে না মন কাজে,
    আমার হিয়া ভরি, উদাসী বেণু বাজে;
    শুধাই তব কথা দখিনা সমীরণে॥
    শপথ ভুলিয়াছ বন্ধু, ভুলিলে পথ কি গো,
    বারেক দিয়ে দেখা লুকালে মায়ামৃগ।
    আঁচলে ফুল লয়ে হল’ না মালা গাঁথা,
    আসার পথ তব ঢাকিল ঝরা পাতা;
    পূজার চন্দন শুকালো অঙ্গনে॥
    
  • সোনার হিন্দোলে কিশোর–কিশোরী

    বাণী

    সোনার হিন্দোলে কিশোর–কিশোরী দোলে ঝুলনের উৎসব রঙ্গে
    বিন্দু বিন্দু বারি অবিরত পড়ে ঝরি’ বাজে তাল জলদ মৃদঙ্গে।।
    	জড়াইয়া শ্যামে দোলে ভীরু রাধা
    	থির বিজুরি ডোরে মেঘ যেন বাঁধা
    পল্লব কোলে ফুলদলে দোলে (যেন) গোপীদল গোপীবল্লভ সঙ্গে।।
    	উল্লাসে থরথর খরতর বহে বায়
    	পুলকে ডালে ডালে কদম্ব শিহরায়।
    	দৃষ্টিতে গোপীদের বৃষ্টির লাবনি
    	আনন্দ উতরোল গাহে বৃন্দাবনী
    নূপুর মধুর বাজে যমুনা তরঙ্গে ঝুলনের উৎসব রঙ্গে।।
    

  • স্বপন যখন ভাঙবে তোমার দেখবে আমি নাই

    বাণী

    স্বপন যখন ভাঙবে তোমার দেখবে আমি নাই।
    মোরে শূন্য তোমার বুকেরি কাছে খুজবে গো বৃথাই।।
    	দেখবে জেগে বাহুর পরে
    	আছে নীরব অশ্রু ঝ'রে
    কাছ থেকেও ছিলাম দূরে যাই গো চলে যাই।।
    কাঁটার মতো ছিলাম বিধে আমি তোমার বুকে,
    বিদায় নিলাম চিরতরে ঘুমাও তুমি সুখে (ওগো)।
    	একলা ঘরে জেগে ভোরে
    	হয়তো মনে পড়বে মোরে,
    দূরে স'রে হয়তো পাব অন্তরেতে ঠাঁই।।
    
  • স্বপ্নে দেখি একটি নতুন ঘর

    বাণী

    স্বপ্নে দেখি একটি নতুন ঘর
    তুমি আমি দু’জন প্রিয় তুমি আমি দু’জন।
    বাহিরে বকুল-বনে কুহু পাপিয়া করে কুজন।।
    		আবেশে ঢুলে’ ফুল-শয্যায় শুই
    		মুখ টিপে হাসে মল্লিকা যুঁই
    কানে কানে গানে গানে কহে ‘চিনেছি উতল সমীরণ’।।
    পূর্ণিমা চাঁদ কয়, গান আর সুর, চঞ্চল ওরা দু’জন
    প্রেম-জ্যোতি আনন্দ-আঁখিজল, ছল ছল ওরা দু’জন।
    মৌমাছি কয়, গুন্‌ গুন্‌ গান গাই
    মুখোমুখি দু’জনে সেইখানে যাই
    শারদীয়া শেফালি গায়ে পড়ে কয় —
    ‘ব্রজের মধুবন — এই তো ব্রজের মধুবন’।।
    
  • হয়ত আমার বৃথা আশা তুমি ফিরে আসবে না

    বাণী

    হয়ত আমার বৃথা আশা তুমি ফিরে আসবে না।
    আশা-তরী ডুববে কূলে দুখের স্রোতে ভাসবে না।।
    	হয়তো তুমি এমনি ক'রে
    	পথ চাওয়াবে জনম ভ'রে
    রইবে দূরে চিরতরে সামনে এসে হাসবে না।।
    কামনা মোর রইলো মনে রূপ ধ'রে তা উঠলো না;
    বারে বারে ঝরলো মুকুল ফুল হয়ে তা ফুটলো না।
    	অবুঝ এ প্রাণ তবু কেন
    	তোমার ধ্যানেই বিভোর হেন
    তুমি চির চপল নিঠুর - জানি, ভালোবাসবে না।।
    

  • হাওয়াতে নেচে’ নেচে' যায় ঐ তটিনী

    বাণী

    হাওয়াতে নেচে’ নেচে’ যায় ঐ তটিনী।
    পাহাড়ের পথ-ভোলা কিশোরী নটিনী।।
    		তরঙ্গ আঁচল দুলায়ে
    		বনভূমির মন ভুলায়ে,
    চলেছে চপল পায়ে একাকিনী উদাসিনী।।
    এঁকে বেঁকে থম্‌কে গিয়ে,
    হরিণীরে চম্‌কে দিয়ে।
    ছুটিয়া যায় সুদূরে
    আয় আয় বলি, ডাকে কে কুলের বধূরে,
    নেচে চলে পথ বেভুল ঘর-ছাড়া বিবাগিনী।।
    
  • হৃদয় কেন চাহে হৃদয় আমি জানি মন জানে

    বাণী

    হৃদয় কেন চাহে হৃদয়, আমি জানি মন জানে
    জানে নদী কেন যে সে, যায় ছুটে সাগর পানে।।
    কেহ বারি কেন চাহে, জানে চাতক, জানে মেঘ,
    জানে চকোর সুদূর নভে, চাঁদ কেন তারে টানে।।
    কুসুম কেন চাহে শিশির, জানে শিশির, জানে ফুল,
    জানে বুলবুল আছে কাঁটা, তবু যায় গুল-বাগানে।
    আঁখি চাহে আঁখি-বারি , মন চাহে মনোব্যথা
    প্রাণ আছে যার সেই জানে, কেন চাহে প্রাণে প্রাণে।।
    
  • হে প্রিয়! তোমার আমার মাঝে

    বাণী

    হে প্রিয়! তোমার আমার মাঝে এ বিরহের পারাবার
    				কেমনে হইব পার।।
    	নিশীথের চখা-চখির মতন
    	দুই কূলে থাকি’ কাঁদি দুই জন
    আসিল না দিন মোদের জীবনে অন্তহীন আঁধার।।
    সেধেছিনু বুঝি বাদ
    কাহার মিলনে সে কোন্‌ জনমে তাই মিটিল না সাধ।
    	স্মৃতি তব ঝরা পালকের প্রায়
    	লুটায় মনের বালুচরে, হায়।
    সে কোন্‌ প্রভাতে কোন্‌ নবলোকে মিলিব মোরা আবার।।