আধুনিক

  • বেদনার সিন্ধু-মন্থন শেষ হে ইন্দ্রানী

    বাণী

    বেদনার সিন্ধু-মন্থন শেষ, হে ইন্দ্রানী,
    জাগো, জাগো করে সুধা-পাত্রখানি।।
    রোদন-সায়রে ধুয়ে পুষ্পতনু
    এসো অশ্রুর বরষার ইন্দ্র-ধনু,
    হের কুলে অনুরাগে জীবন-দেবতা জাগে
    	ধরিবে বলিয়া তব পদ্মপাণি।।
    তব দুখ-রাত্রির তপস্যা শেষ- এলো শুভ দিন,
    অতল-তমসা-লক্ষ্মী গো তুমি অমরার
    এসো এসো পার হ'য়ে ব্যথার পাথার।
    অশ্রুত অশ্রুর নীরবতা কর দূর
    	কূলে কূলে হাসির তরঙ্গ হানি।।
    

  • বেলা প’ড়ে এলো জল্‌কে সই চল্ চল্

    বাণী

    বেলা প’ড়ে এলো জল্‌কে সই চল্ চল্
    ডাকিছে ওই তটিনী ছল্‌ ছল্‌।।
    বকের সারিকার মালিকা দুলিয়ে
    আসিছে সাঁঝ ঐ চিকুর এলিয়ে
    আকাশের কোলে শিশু শশীরে ঐ
    দেখিতে আসিছে তারকা দলে দল।।
    কমলিনীর মলিন মুখ
    হাসে জলে শাপলা শালুক
    বনের পথে হলো আঁধার
    জোনাকী ঐ চমকে ঝলমল্‌।।
    
  • ভবনে আসিল অতিথি সুদূর

    বাণী

    ভবনে আসিল অতিথি সুদূর।
    সহসা উঠিল বাজি রুমু রুমু ঝুম
    	নীরব অঙ্গনে চঞ্চল নূপুর।।
    মুহু-মুহু বন-কুহু বোলে
    দোয়েল ধ্যান ভুলি চমকি আঁখি খোলে
    	কে গো কে বলে বন-ময়ূর।।
    দগ্ধ হিয়ার জ্বালা জুড়ায়ে
    সজল মেঘের শীতল চন্দন কে দিল বুলায়ে?
    বকুল কেয়া বীথি হ'তে
    ছুটে এলো সমীরণ চঞ্চল স্রোতে
    চাঁদিনী নিশীথের আবেশ আনে
    	মিলন তন্দ্রাতুর অলস-দুপুর।।
    
  • ভরিয়া পরান শুনিতেছি গান

    বাণী

    ভরিয়া পরান শুনিতেছি গান আসিবে আজি বন্ধু মোর!
    স্বপন মাখিয়া সোনার পাখায় আকাশে উধাও চিত-চকোর।।
    		হিজল-বিছানো বন-পথ দিয়া
    		রাঙায়ে চরণ আসিবে গো পিয়া।
    নদীর পারে বন-কিনারে ইঙ্গিত হানে শ্যাম কিশোর।।
    		চন্দ্রচূড় মেঘের গায়
    		মরাল-মিথুন উড়িয়া যায়,
    নেশা ধরে চোখে আলো-ছায়ায় বহিছে পবন গন্ধ-চোর।।
    

  • ভুলিতে পারিনে তাই আসিয়াছি পথ ভুলি

    বাণী

    ভুলিতে পারিনে তাই আসিয়াছি পথ ভুলি’।
    ভোল মোর সে অপরাধ, আজি যে লগ্ন গোধূলি।।
    এমনি রঙিন বেলায় খেলেছি তোমায় আমায়,
    খুঁজিতে এসেছি তাই সেই পুরানো দিনগুলি।।
    তুমি যে গেছ ভুলে – ছিল না আমার মনে,
    তাই আসিয়াছি তব বেড়া–দেওয়া ফুলবনে।
    গেঁথেছি কতই মালা এই বাগানের ফুল তুলি’—
    আজও সেথা গাহে গান আমার পোষা বুলবুলি।।
    

  • ভুলে যেয়ো ভুলে যেয়ো

    বাণী

    	ভুলে যেয়ো, ভুলে যেয়ো সেদিন যদি পড়ে আমায় মনে
    যবে	চৈতী বাতাস উদাস হয়ে ফিরবে বকুল বনে।।
    		তোমার মুখের জোছনা নিয়ে
    		উঠবে যে চাঁদ ঝিলমিলিয়ে,
    	হেনার সুবাস ফেলবে নিশাস তোমার বাতায়নে।।
    		শুনবে যেন অনেক দূরে
    		ক্লান্ত বাঁশির করুন সুরে —
    	বিদায় নেওয়া কোন বিরহীর কানে কাঁদে নিরজনে।।
    
  • ভেসে আসে সুদূর স্মৃতির সুরভি

    বাণী

    ভেসে আসে সুদূর স্মৃতির সুরভি হায় সন্ধ্যায়
    রহি’ রহি’ কাঁদি’ ওঠে সকরুণ পূরবী, আমারে কাঁদায়।।
    কা’রা যেন এসেছিল, এসে ভালোবেসেছিল।
    ম্লান হ’য়ে আসে মনে তাহাদের সে-ছবি, পথের ধুলায়।।
    কেহ গেল দ’লে – কেহ ছ’লে, কেহ গলিয়া নয়ন নীরে
    যে গেল সে জনমের মত গেল চলিয়া এলো না, এলো না ফিরে।
    কেহ দুখ দিয়া গেল কেহ ব্যথা নিয়া গেল
    কেহ সুধা পিয়া গেল কেহ বিষ করবী তাহারা কোথায় আজ
    				তাহারা কোথায়।।
    
  • ভোরে স্বপনে কে তুমি দিয়ে দেখা

    বাণী

    	ভোরে স্বপনে কে তুমি দিয়ে দেখা, লুকালে সহসা
    মোর	তপনের রাঙা কিরণ যেন ঘিরিল তমসা।।
    	না ফুটিতে মোর কথার কুড়িঁ
    	চপল বুলবুলি গেলে উড়ি'
    গেলে	ভাসিয়া ভোরের সুর যেন বিষাদ অলসা।।
    	জেগে দেখি হায়, ঝরা ফুলে আছে ছেয়ে তোমার পথতল,
    	ওগো অতিথি, কাদিছেঁ বনভূমি ছড়ায়ে ফুল দল!
    	মুখর আমার গানের পাখি
    	নীরব হলো হায় বারেক ডাকি'
    যেন	ফাগুনের জোছনা-বর্ষিত রাতে নামিল বরষা।।
    
  • ভোলো ভোলো গো লায়লী মজনুর ভালোবাসা

    বাণী

    ভোলো ভোলো গো লায়লী মজনুর ভালোবাসা।
    সেই তো প্রেমিক প্রেম কয় তারে,
    প্রিয়া যদি কয় ভোলো সে-প্রিয়ারে।
    আজি হতে তাই ছাড়িলাম আমি তোমারে পাবার আশা
    			ভোলো মজনুর ভালোবাসা।।
    
  • মদির স্বপনে মম বন-ভবনে

    বাণী

    মদির স্বপনে মম বন-ভবনে
    জাগো চঞ্চলা বাসন্তিকা, ওগো ক্ষণিকা।।
    মোর গগনের উল্কার প্রায়
    চমকি ক্ষণেক চকিতে মিলায়
    তোমার হাসির যুঁই-কণিকা।।
    পুষ্প ধনু তব মন-রাঙানো
    বঙ্কিম ভুরু হানো হানো।
    তোমার উতল উত্তরীয়
    আমার চোখে ছুঁইয়ে দিও (প্রিয়)
    আমি হব (ওগো) তোমার মালার মণিকা।।
    
  • মধুকর মঞ্জির বাজে

    বাণী

    মধুকর মঞ্জির বাজে বাজে
    		গুন্‌ গুন্‌ মঞ্জুল গুঞ্জরণে।
    মৃদুল দোদুল নৃত্যে
    		বন শবরী মাতে কুঞ্জবনে।।
    বাজাইছে সমীর দখিনা
    পল্লবে মর্মর বীণা,
    বনভুমি ধ্যান–আসীনা
    		সাজিল রাঙা কিশলয়–বসনে।।
    ধূলি ধূসর প্রান্তর পরেছিল গৈরিক সন্ন্যাস–সাজ
    নব–দূর্বাদল শ্যাম হলো আনন্দে আজ।
    লতিকা–বিতানে ওঠে ডাকি’
    মুহু মুহু ঘুমহারা পাখি
    নব নীল অঞ্জন মাখি’
    		উদাসী আকাশ হাসে চাঁদের সনে।।
    

  • মনে রাখার দিন গিয়েছে

    বাণী

    মনে রাখার দিন গিয়েছে এখন ভোলার বেলা
    আর লাগে না ভালো আমার হৃদয় নিয়ে খেলা।।
    	লগ্ন ছিল ছিল সময়
    	পরান ভরা চিল প্রণয়,
    সেদিন যদি আসতে মলয় বসতো ফুলের মেলা।।
    সুকুমার সুন্দর যাহা চিল আমার মাঝে
    গেছে ম'রে নিরাশাতে ঝ'রে গেছে লাজে।
    	আজ উদাসীন শূন্য মনে
    	ঘুরে বেড়াই অকারণে
    তোমার চেয়েও আমি আমায় হানি অবহেলা।।
    
  • মরম-কথা গেল সই মরমে ম’রে

    বাণী

    মরম-কথা গেল সই মরমে ম’রে।
    শরম বারণ যেন করিল চরণ ধ’রে।।
    ছল ক’রে কত শত সে মম রুধিত পথ
    লাজ ভয়ে পলায়েছি সে ফিরেছে ব্যথাহত
    অনাদরে প্রেম-কুসুম গিয়াছে ম’রে।।
    কত যুগ মোর আশে ব’সে ছিল পথ-পাশে
    কত কথা কত গান জানায়েছে ভালোবেসে
    শেষে অভিমানে নিরাশে গিয়াছে স’রে।।
    

  • মহুয়া ফুলের মদির ঘন সুবাসে

    বাণী

    মহুয়া ফুলের মদির ঘন সুবাসে,
    নয়ন ঝিমিয়ে আসে।।
    মাতাল পাপিয়া ‘পিয়া পিয়া’ ডাকে
    দোলন-চাঁপার ঝুলন শাখে,
    ঝিরিঝিরি হাওয়ায় মন উদাসে।।
    নিদাঁলি ছাওয়া চৈতালি হাওয়া,
    স্বপনের ঘোর লাগে আকাশে
    মৌমাছির পাখা জড়িয়ে আসে।।
    
  • মালঞ্চে আজ কাহার যাওয়া আসা

    বাণী

    মালঞ্চে আজ কাহার যাওয়া আসা।
    ঝরা পাতায় বাজে
    মৃদুল তাহার পায়ের ভাষা।।
    আসার কথা জানায়
    ঐ যে ফুলের আখর সবুজ পাতায়,
    ঐ দোয়েল শ্যামার কূজন কয় যে বাণী
    ঐ ঐ তার ভালোবাসা।।
    মদির সমীরণে
    তনুর সুবাস পাই যে ক্ষণে ক্ষণে,
    সবুজ বসন ফেলি’
    পরল ঐ বন কুস্‌মী রাঙা চেলি।
    তাই বসুন্ধরায় জাগে অরুণ আশা —
    ঐ ঐ যে আলোকের পিপাসা।।
    
  • মালতী মঞ্জরি ফুটিবে যবে অলস বেলায়

    বাণী

    মালতী মঞ্জরি ফুটিবে যবে অলস বেলায়
    প্রিয় হে প্রিয় মোরে স্মরিও সেই সন্ধ্যায়।।
    ঝরা পল্লবে ফেলি দীরঘ শ্বাস
    কাঁদিয়া ফিরিবে যবে চৈতী বাতাস,
    নাগকেশরের ঝরা কেশর দলে খুঁজিও আমায়।।
    মল্লিকা মুকুলের প্রথম সুবাস
    বিরহী পরাণ যবে করিবে উদাস,
    পিয়াল নদীর কূলে কাঁদিয়া বাঁশি ডাকিবে প্রিয়ায়।।
    
  • মালার ডোরে বেঁধো না গো

    বাণী

    মালার ডোরে বেঁধো না গো বাহুর ডোরে বাঁধো।
    কাঁদোই যদি, আমার বুকে মুখ লুকিয়ে কাঁদো।।
    	তোমার পূজার আসন হতে
    	নামাও এবার ধূলির পথে,
    দেবতা ব’লে সেধো না গো, প্রিয় ব’লে সাধো।।
    পূজারিণী, জাগো জাগো — হৃদয় দুয়ার খোলো।
    নিবেদনের ফুলে বরণ-মালা গেঁথে তোলো।।
    
  • মোর দুখ নিশি কবে হবে ভোর

    বাণী

    মোর দুখ নিশি কবে হবে ভোর
    ভুবনে ছাড়ালো প্রভাতের আলো —
    আমারি ভবনে কেন আঁধার ঘোর ॥
    সূর্য-কিরণে সাগর শুকায় —
    সে রবি-কিরণে শুকালো না হায়
    আমার বিরহী আঁখির লোর ॥
    আশোক বনে সীতার সঙ্গিনী প্রমীলার সম
    নিশীথের আঁধার মুখ লুকায়ে কাঁদে অন্তরে মম। 
    মালা চন্দন লয়ে মন্দির মাঝে
    ফেলে নববধূ সাজ পূজারিণী-সাজে
    শূন্য মন্দিরে আমি একা কাঁদি জড়ায়ে ছিন্ন মালার ডোর ॥
    

  • মোর না মিটিতে আশা ভাঙিল খেলা

    বাণী

    মোর না মিটিতে আশা ভাঙিল খেলা,
    জীবন প্রভাতে এ লো বিদায় বেলা।।
    আঁচলের ফুলগুলি করুণ নয়ানে
    নিরাশায় চেয়ে আছে মোর মুখপানে,
    বাজিয়াছে বুকে যেন, কার অবহেলা।।
    আঁধারের এলোকেশ দু’ হাতে জড়ায়ে
    যেতে যেতে নিশীথিনী কাঁদে বনছায়ে।
    		বুঝি দুখ-নিশি মোর
    		হবে না হবে না ভোর,
    ভিড়িবে না কূলে মোর বিরহের ভেলা।।
    

  • মোরা আর জনমে হংস-মিথুন ছিলাম

    বাণী

    মোরা আর জনমে হংস–মিথুন ছিলাম নদীর চরে
    যুগলরূপে এসেছি গো আবার মাটির ঘরে।।
    তমাল তরু চাঁপা–লতার মত
    জড়িয়ে কত জনম হ’ল গত,
    সেই বাঁধনের চিহ্ন আজো জাগে হিয়ার থরে থরে।।
    বাহুর ডোরে বেঁধে আজো ঘুমের ঘোরে যেন
    ঝড়ের বন–লতার মত লুটিয়ে কাঁদ কেন।
    বনের কপোত কপোতাক্ষীর তীরে
    পাখায় পাখায় বাঁধা ছিলাম নীড়ে
    চিরতরে হ’ল ছাড়াছাড়ি নিঠুর ব্যাধের শরে।।