আধুনিক

  • প্রিয়তম হে বিদায়

    বাণী

    	প্রিয়তম হে, বিদায়
    আর	রাখিতে নারি, আশা-দীপ নিভে যায় দুরন্ত বায়।।
    	কত ছিল বলিবার, হায় হ’লো না বলা
    	ঝুঁরিতেছে চামেলির বন উতলা
    যেন	অনন্ত দিনের দিকে হায় হায়।।
    কে	কাঁদে দিকে দিকে হায় হায়।।
    	রহিল ছড়ানো মোর প্রাণের তিয়াস হুতাস পবনে;
    	জড়ানো রহিল মোর করুণ প্রীতি ধূসর গগনে।
    	তুমি মোরে স্মরিও
    যদি	এই পথে কোনদিন চলিতে প্রিয়
    	নিশিভোরে ঝরা ফুল দ’লে যাও পায়।।
    
  • ফাগুন ফুরাবে যবে

    বাণী

    ফাগুন ফুরাবে যবে —
    উঠিবে দীরঘ শ্বাস চম্পার বনে
    কোয়েলা নীরব হবে।।
    আমারে সেদিন যদি স্মরণে আসে
    বেদনা জাগে ঝরা ফুল সুবাসে
    আমার স্মৃতি যত ঝরা পাতার মত
    ফেলিয়া দিও নীরবে।।
    যবে বাসর নিশি ফুরাবে
    রাতের মিলন-মালা প্রভাতে মলিন হবে;
    সুখ শশী অস্ত যাবে —
    আসিবে জীবনে তব বৈশাখী মলিন হবে;
    লুটাবে পথের' পরে ভেঙে যাবে ঘর
    সেদিন স্মরণে তব আসিবে কি তাহারে
    গৃহহীন করিয়াছ যাহারে ভবে।।
    
  • ফিরিয়া এসো এসো হে ফিরে

    বাণী

    ফিরিয়া এসো এসো হে ফিরে
    বঁধু এ ঘোর বাদলে নারি থাকিতে একা।
    হায় গগনে মনে আজি মেঘের ভিড়
    	যায় নয়ন-জলে মুছে কাজল-লেখা।।
    ললাটে কর হানি’ কাঁদিছে আকাশ
    শ্বসিছে শন-শন হুতাস বাতাস।
    তোমারি মত ঝড় হানিছে দ্বারে কর,
    	খোঁজে বিজলি তোমারি পথ-রেখা।।
    মেঘেরে সুধাই তুমি কোথায়
    কাঁদন আমার বাতাসে ডুবে যায়!
    ঝড়ের নূপুর পরি’ রাঙা পায়
    	শ্যামল-সুন্দর দাও দেখা।।
    
  • ফুটলো যেদিন ফাল্গুনে হায় প্রথম গোলাপ-কুঁড়ি

    বাণী

    ফুটলো যেদিন ফাল্গুনে, হায়, প্রথম গোলাপ-কুঁড়ি
    বিলাপ গেয়ে বুলবুলি মোর গেল কোথায় উড়ি।।
    	কিসের আশায় গোলাপ বনে
    	গাইতো সে গান আপন মনে,
    লতার সনে পাতার সনে খেতো লুকোচুরি (হায়)
    সেই লতাতে প্রথম প্রেমের ফুটলো মুকুল যবে
    পালিয়ে গেল ভীরু পাখি অমনি নীরবে।
    	বাসলে ভালো যে জন কাঁদে
    	বাঁধবো তা'রে কোন সে ফাঁদে,
    ফুল নিয়ে তাই অবসাদে বনের পথে ঘুরি (হায়)।।
    
  • ফুরাবে না এই মালা গাঁথা মোর

    বাণী

    ফুরাবে না এই মালা গাঁথা মোর ফুরাবে না এই ফুল
    এই হাসি ঐ চাঁপার সুরভি ভুল নহে, ভুল নহে, নহে ভুল॥
    		জানি জানি মোর জীবনের সঞ্চয়,
    		রসঘন-মাধুরীতে হবে মধুময়
    তবে কেন আমার বকুল-কুঞ্জে বাঁশরি হইল আকুল॥
    		কৃষ্ণা তিথিতে নাই যদি হাসে চাঁদ,
    		ফুরাবে না মোর পূর্ণ রসের সাধ
    যমুনার ঢেউ থাকুক আমার (আমি) নাই দেখিলাম কূল॥
    

    চলচ্চিত্রঃ ‘দিকশূল’

  • বন-মল্লিকা ফুটিবে যখন গিরি-ঝর্নার তীরে

    বাণী

    বন-মল্লিকা ফুটিবে যখন গিরি-ঝর্নার তীরে।
    সেই চৈতালি গোধূলি-লগনে এসো তুমি ধীরে ধীরে — 
    				গিরি-ঝর্নার তীরে।।
    বনের কিশোর এসো সেথা হেসে হেসে
    সাজায়ো আমায় বন-লক্ষ্মীর বেশে,
    ধোওয়াব তোমার চরণ-কমল বিরহ-অশ্রু নীরে।।
    ঘনায়ে গহন সন্ধ্যার মায়া আসিও সোনার রথে,
    অতি সুকোমল শিঁরিশ, কুসুম বিছায়ে রাখিব পথে।
    মালতী-কুঞ্জে ডাকিবে পাপিয়া পাখি
    তুমি এসে বেঁধো আলোক-লতার রাখি,
    ভ্রমরের সম পিপাসিত মোর আঁখি কাঁদিবে তোমারে ঘিরে।।
    
  • বনের তাপস কুমারী আমি গো

    বাণী

    বনের তাপস কুমারী আমি গো, সখি মোর বনলতা।
    নীরবে গোপনে দুইজনে কই আপন মনের কথা।।
    যবে 	গিরিপথে ফিরি সিনান করিয়া,
    	লতা টানে মোর আঁচল ধরিয়া,
    হেসে বলি, ওরে ছেড়ে দে, আসিছে তোদের বন-দেবতা।।
    ডাকি যদি তারে আদর করিয়া — ওরে বন বল্লরি,
    আনন্দে তার ফোটা ফুলগুলি অঞ্চলে পড়ে ঝরি'।
    	লুকায়ে যখন মোর দেবতায়
    	আবরিয়া রাখে কুসুমে পাতায়,
    চরণে আমার (ও সে) আসিয়া জড়ায় যবে হই ধ্যানরতা।।
    
  • বরণ করে নিও না গো

    বাণী

    বরণ করে নিও না গো নিও হরণ ক’রে।
    ভীরু আমায় জয় কর গো তোমার মনের জোরে।।
    	পরান ব্যাকুল তোমার তরে
    	চরণ শুধু বারণ করে,
    লুকিয়ে থাকি তোমার আশায় রঙিন বসন প’রে।।
    লজ্জা আমার ননদিনী জটিলারই প্রায়,
    যখনই যাই, শ্যামের কাছে দাঁড়ায়ে আছে ঠায়।
    	চাইতে নারি চোখে চোখে
    	দেখে পাছে কোন লোকে,
    নয়নকে তাই শাসন (বারণ) করি অশ্রুজলে ভ’রে।।
    
  • বল প্রিয়তম বল

    বাণী

    বল প্রিয়তম বল —
    মোর নিরাশা-আঁধারে আলো দিতে তুমি কেন দীপ হ’য়ে জ্বল॥
    	যত কাঁটা পড়ে মোর পথে যেতে যেতে,
    	কেন তুমি তাহা লহ বঁধু বুক পেতে।
    যদি ব্যথা পাই বুঝি পথে তাই তুমি ফুল বিছাইয়া চল॥
    	বল হে বিরহী,
    তুমি আমারে অমৃত এনে দাও কেন নিজে উপবাসী রহি’।
    	মোর পথের দাহন আপন বক্ষে নিয়ে,
    	মেঘ হয়ে চল সাথে সাথে ছায়া দিয়ে।
    মোর ঘুম না আসিলে কেন কাঁদ চাঁদ হয়ে ঢলঢল॥
    
  • বল সখি বল ওরে স'রে যেতে বল

    বাণী

    বল সখি বল ওরে স'রে যেতে বল।
    মোর মুখে কেন চায় আঁখি-ছলছল,
    	ওরে স'রে যেতে বল।।
    পথে যেতে কাঁপে গা শরমে জড়ায় পা,
    মনে হয় সারা পথ হয়েছে পিছল
    	ওরে স'রে যেতে বল।।
    জল নিতে গিয়ে সই ওর চোখে চেয়ে রই
    সান-বাঁধা ঘাট যেন কাঁপে টলমল
    	ওরে স'রে যেতে বল।।
    প্রথম বিরহ মোর
    চায় কি ও চিত-চোর;
    চাঁদিনী চৈতী রাতে আনে সে বাদল
    	স'রে যেতে বল
    	ওরে স'রে যেতে বল।।
    

  • বলেছিলে তুমি তীর্থে আসিবে

    বাণী

    বলেছিলে তুমি তীর্থে আসিবে আমার তনুর তীরে।
    তুমি আসিলে না, (হায়!) আশার সূর্য ডুবিল সাগর-নীরে।।
    	চলে যাই যদি, চিরদিন মনে
    	তোমার সে-কথা রহিবে স্মরণে
    শুধু সেই কথা শোনার লাগিয়া হয়তো আসিব ফিরে।।
    শুধু সেই আশে হয়তো এ তনু মরণে হবে না লীন
    পথ চেয়ে চেয়ে, তব নাম গেয়ে বাজাব বিরহ-বীণ।
    	হের গো, আমার যাবার সময় হলো
    	তোমার সে-কথা মিথ্যা হবে না বলো,
    কোন শুভক্ষণে নিমেষের তরে জড়াবে কন্ঠ ঘিরে।।
    
  • বল্লরি-ভুজ-বন্ধন খোলো

    বাণী

    	বল্লরি-ভুজ-বন্ধন খোলো।
    	অভিসার-নিশি অবসান হ’ল।।
    	পান্ডুর চাঁদ হের অস্তাচলে
    	জাগিয়া শ্রান্ত-তনু পড়েছে ঢ’লে,
    তার 	মল্লিকা১ মালা ম্লান বক্ষতলে — 
    	অভিমান-অবনত আঁখি তোলো।।
    	উতল সমীর আমি নিমেষের২ ভুল,
    	কুসুম ঝরাই কভু৩ ফোটাই মুকুল।
    	আলোকে শুকায় মোর প্রেমের শিশির
    	দিনের বিরহ আমি মিলন নিশির,
    	হে প্রিয়, ভীরু এ স্বপন-বিলাসীর — 
    	অকরুণ প্রণয় ভোলো ভোলো।।
    

    ১. মিলনের, ২. ক্ষণিকের, ৩. আমি

  • বিকাল বেলার ভুঁইচাঁপা গো

    বাণী

    বিকাল বেলার ভুঁইচাঁপা গো সকাল বেলার যুঁই
    কারে কোথায় দেব আসন তাই ভাবি নিতুই।।
    ফুলদানিতে রাখব কারে,কারে গাঁথি কণ্ঠ -হারে
    কারে যেন দেব তারে কারে বুকে থুই।।
    সমান অভিমানী ওরা সমান সুকোমল
    চাঁপা আমার চোখের আলো,যুঁই চোখের জল।
    বর্ষা-মুখর শ্রাবণ-প্রাতে,কাঁদি আমি যুথীর সাথে
    চাঁপায় চাহি চৈতী-রাতে,প্রিয় আমার দুই।।
    

  • বিদায় বেলায় করুণ সুরে গাইছ কেন গান

    বাণী

    বিদায় বেলায় করুণ সুরে গাইছ কেন গান।
    সুরের সাথে হল আকুল পাষাণ পরান।।
    	আজকে ব্যথায় উঠল ভ’রে
    	মালার কুসুম পড়ল ঝ’রে,
    পরান আমার কেমন করে নেবে তব দান।।
    	বৃথায় ফুলে সাজাও মোরে
    	ভাসাও যত নয়ন লোরে,
    প্রাণের ঠাকুর ডাকেন মোরে কাঁদে মম প্রাণ।।
    
  • বিদায়-সন্ধা আসিল ঐ ঘনায় নয়নে অন্ধকার

    বাণী

    বিদায়-সন্ধা আসিল ঐ ঘনায় নয়নে অন্ধকার।
    হে প্রিয়, আমার, যাত্রা-পথ অশ্রু-পিছল ক’রো না আর॥
    	এসেছিনু ভেসে স্রোতের, ফুল
    	তুমি কেন প্রিয় করিলে ভুল
    তুলিয়া খোঁপায় পরিয়া তা’য় ফেলে দিলে হায় স্রোতে আবার॥
    	হেথা কেহ কারো বোঝে না মন
    	যারে চাই হেলা হানে সে’ জন
    যারে পাই সে না হয় আপন হেথা নাহি হৃদি ভালোবাসার।
    	তুমি বুঝিবে না কি অভিমান
    	মিলনের মালা করিল ম্লান
    উড়ে যাই মোর, দূর বিমান সেথা গা’ব গান আশে তোমার॥
    
  • বিদেশী তরী এলো কোথা হ’তে

    বাণী

    বিদেশী তরী এলো কোথা হ’তে
    প্রভাত-ঘাটে, আলোর স্রোতে।।
    অসীম বিরহ-রাতের শেষে
    কে এলো কিশোর-নাইয়ার বেশে,
    বাঁশরি বাজায়ে দুয়ারে এসে —
    	ডাকে হেসে অকূল-পথে।।
    অঙ্গনে এলা শুভ দিনের আলো,
    বুঝি মোর নিরাশার শর্বরী গো পোহালো।
    আশাবরি সুরে বেণুকা বাজে
    চির-চাওয়া এলো অভিসারে-সাজে,
    	পূর্বাচলের ঘাটে অরুণ-রথে।।
    
  • বিধুর তব অধর-কোণে মধুর হাসির রেখা

    বাণী

    বিধুর তব অধর-কোণে মধুর হাসির রেখা।
    তারি লাগি' ভিখারি মন ফেরে একা একা।।
    সজাগ হয়ে আছে শ্রবণ, থির হয়েছে অধীর পবন।
    তুমি কথা কইবে কখন গাইবে কুহু কেকা।।
    কখন তুমি চাইবে, প্রিয়া, সলাজ অনুরাগে।
    তিমির-তীরে অরুণ ঊষা তারি আশায় জাগে।
    কেমন ক'রে চাঁদ যে টানে — সিন্ধু জানে, জোয়ার জানে —
    দেখিতে আসি, আসিনিকো দিতে তোমায় দেখা।।
    

    নাটক: ‌‘চক্রব্যূহ’

  • বিরহের অশ্রু সায়রে বেদনার শতদল

    বাণী

    বিরহের অশ্রু সায়রে বেদনার শতদল
    উদাসী অশান্ত বায়ে টলে টলমল টলমল।।
    	তব রাঙা পদতলে, প্রিয়
    	এই শতদলে রাখিয়ো,
    বাজাইও মধুকর বীণা অনুরাগ-চঞ্চল।।
    ঝড় এলো, এলো এলায়ে মেঘের কুন্তল
    তুমি কোথায়, হায়, নিরাশায় ঝরে কমল-দল।
    	কেমনে কাটে তব বেলা
    	কোথা কোন লোকে একেলা;
    দুই কূলে  দুই জন কাঁদি, মাঝে নদী ছলছল।।
    
  • বৃথা তুই কাহার 'পরে করিস অভিমান

    বাণী

    বৃথা তুই কাহার পরে করিস অভিমান
    পাষাণ-প্রতিমা সে যে হৃদয় পাষাণ।।
    রূপসীর নয়নে জল নয়ন-শোভার তরে
    ও শুধু মেঘের লীলা নভে যে বাদল ঝরে।
    চাতকেরই তরে তাহার কাঁদে না পরান।।
    প্রণয়ের স্বপন-মায়া,ধরিতে মিলায় কায়া
    গো-ধূলির রঙের খেলা ক্ষণে অবসান।।
    

  • বেণুকার বনে কাঁদে বাতাস বিধুর

    বাণী

    বেণুকার বনে কাঁদে বাতাস বিধুর —
    সে আমারি গান, প্রিয় সে আমারি সুর॥
    হলুদ চাঁপার ডালে সহসা নিশীথ কালে
    ডেকে ওঠে সাথি হারা পাখি ব্যথাতুর॥
    নদীর ভাটির স্রোতে শ্রান্ত সাঁঝে
    অশ্রু জড়িত মোর সুর যে বাজে।
    সে সুরের আভাসে আঁখিপুরে জল আসে,
    মনে পড়ে চলে-যাওয়া প্রিয়রে সুদূর॥