পিলু-বারোয়াঁ

  • আমার গানের মালা আমি করব কারে দান

    বাণী

    আমার গানের মালা আমি করব কারে দান
    মালার ফুলে জড়িয়ে আছে করূণ অভিমান।
    		মালা করব কারে দান।।
    	চোখে মলিন কাজল লেখা
    	কণ্ঠে কাঁদে কুহু কেকা,
    কপোলে যার অশ্রু-রেখা একা যাহার প্রাণ
    		মালা করব কারে দান।।
    কাথায় আমার কাঁটার বেদন মালায় সূচির জ্বালা,
    কণ্ঠে দিতে সাহস না পাই অভিশাপের মালা (ঐ)।
    	বিরহে যার প্রেম-আরতি
    	আঁধার লোকের অরুন্ধতী
    নাম না জানা সেই তপতী তারি তরে গান
    		মালা করব তারে দান।।
    
  • উঠেছে কি চাঁদ সাঁঝ গগনে

    বাণী

    উঠেছে কি চাঁদ সাঁঝ গগনে
    আজিকে আমার বিদায় লগনে।।
    জানালা পাশে চাঁপার শাখে
    ‘বউ কথা কও’ পাখি কি ডাকে?
    ফুটেছে কি ফুল মালতী বকুল —
    আমার সাধের কুসুম বনে সাঁঝ গগনে।।
    তুলসী তলায় জ্বলেছে কি দীপ
    পরেছে আকাশ তারকার টিপ?
    হারিয়ে যাওয়া বঁধূ অবেলায়
    এলো কি ফিরে দেখিতে আমায়,
    ঝুরিছে বাঁশি পিলু বারোয়াঁয় —
    কেন গো আমার যাবার ক্ষণে।।
    
  • কপোত কপোতী উড়িয়া বেড়াই

    বাণী

    উভয়ে : 	কপোত কপোতী উড়িয়া বেড়াই সুদূর বিমানে আমরা দু’জনে।
    		কানন-কান্তর শিহরি’ ওঠে মোদের প্রণয়-মদির কূজনে।।
    স্ত্রী 	:	ভ্রমর গুঞ্জে মঞ্জুল গীতি, হেরিয়া আমার বঁধূর প্রীতি,
    পুরুষ :	আমার প্রিয়ার নয়নে চাহি’ কুসুম ফুটে ওঠে বিপিনে বিজনে।।
    স্ত্রী 	:	তোমা ছাড়া স্বর্গ চাহি না, প্রিয়!
    		মোদের প্রেমে চাঁদ আসে নেমে মাটির পাত্রে পান করি অমিয়।।
    পুরুষ :	বিশ্ব ভুলায়ে ও-রাঙা পায়ে আমারে বেঁধেছে জীবনে মরণে।।
    
  • কেন ফোটে কেন কুসুম ঝ'রে যায়

    বাণী

    কেন ফোটে কেন কুসুম ঝ'রে যায়!
    মুখের হাসি চোখের জলে ম'রে যায়, হায়।।
    নিশীথে যে কাঁদিল প্রিয় ব'লে
    হায় নিশি-ভোরে সে কেন হায় স'রে যায়।।
    হায় আজ যাহার প্রেম করে গো রাজাধিরাজ
    কাল কেন সে চির-কাঙাল ক'রে যায়।।
    মান-অভিমান খেলার ছলে
    ফেরে না আর যে যায় চ'লে
    মিলন-মালা মলিন ধূলায় ভ'রে যায়।।
    
  • ফুলমালিনী এনেছ কি মালা

    বাণী

    ফুলমালিনী! এনেছ কি মালা।
    এনেছ কি মালা, ভরি’, তনু-ডালা।।
    এনেছ পসারিণী নয়ন-পাতে
    প্রেমসুধা-রস মালারই সাথে,
    অধরের অনুরাগ রাঙা-পেয়ালা।।
    এনেছ প্রীতির মালতী বকুল,
    রসে টলমল রূপের মুকুল।
    গাঁথ পরান মম তব ফুলহারে
    মালার বিনিময়ে লহ আমারে,
    বৃথা না যায় শুভ লগ্ন নিরালা।।
    
  • বাদল ঝর ঝর আসিল ভাদর

    বাণী

    বাদল ঝর ঝর আসিল ভাদর
    বহিছে তরলতর পুবালি পবন।
    মেঘলা যামিনী, দামিনী চমকায়
    কালো মেয়ের ভীরু প্রেমের মতন।।
    আমি ভুলে গেছি, মেঘেরা ভোলেনি
    সেই কালো চোখ, সেই বিনুনী-বেণী,
    প্রিয়ার দূতী সম, স্বরণে আনে মম
    এসেছিল একদিন এমন শুভ-লগন।।
    আর কিছু ছিল কি, ছিল না ত’ স্মরণে,
    শুধু জানি দুই জন ছিনু এই ভুবনে।
    সহসা মোদের মাঝে ছুটে এলো পারাপার
    কে কোথায় হারাইনু, কূল নাহি পেনু আর,
    মনে পড়ে বরষায়, তার সেই অসহায়
    বিদায় বেলার আঁখি অশ্রু-সঘন।।
    
  • মালা গাঁথা শেষ না হ’তে

    বাণী

    		মালা গাঁথা শেষ না হ’তে তুমি এলে ঘরে।
    		শূন্য হাতে তোমায় বরণ করব কেমন ক’রে।।
    			লজ্জা পাবার অবসর মোর
    			দিলে না হে চঞ্চল, চোর
    		সজ্জা-বিহীন মলিন তনু দেখলে নয়ন ভ’রে।।
    		বিফল মালার ফুলগুলি হায় কোথায় এখন রাখি,
    		ক্ষণিক দাঁড়াও, ঐ কুসুমে (তোমার) চরণ দু’টি ঢাকি।
    			আকুল কেশে পা মুছিয়ে
    			করব বাতাস আঁচল দিয়ে,
    (মোর) 	নয়ন হবে আরতি-দীপ তোমার পূজার তরে।।
    
  • মেঘ-মেদুর গগন কাঁদে হুতাশ পবন

    বাণী

    মেঘ-মেদুর গগন কাঁদে হুতাশ পবন
    কে বিরহী রহি’রহি’দ্বারে আঘাত হানো।
    শাওন ঘন ঘোর ঝরিছে বারি অঝোর
    কাঁপিছে কুটির মোর দীপ নেভানো।।
    বজ্রে বাজিয়া ওঠে তব সঙ্গীত,
    বিদ্যুতে ঝলকিছে আঁখি-ইঙ্গিত,
    চাঁচর চিকুরে তব ঝড় দুলানো, ওগো মন ভুলানো।।
    এক হাতে, সুন্দর, কুসুম ফোটাও!
    আর হাতে নিষ্ঠুর মুকুল ঝরাও।
    হে পথিক, তব সুর অশান্ত ব‍ায়
    জন্মান্তর হতে যেন ভেসে আসে হায়!
    বিজড়িত তব স্মৃতি চেনা অচেনায় প্রাণ কাঁদানো।।