বাণী

সেদিন প্রভাতে অরুণ শোভাতে হেসেছ বুকে মোর মধু-হাসিনী।
পরেছ গলায় আমার দেওয়া ফুল সে কি গো সবি ভুল বিজন-বাসিনী।।
		যেচেছ কত না আদর সোহাগ
		ক্ষণে অভিমান ক্ষণে অনুরাগ,
কত প্রিয় নামে ডেকেছ আমায় সে কি গো গেছ ভুলে মধুভাষিণী।।
		আমার সাধ-আশ-সাধনা-সুখ-হাসি
		তোমার সনে প্রিয় সকলি গেছে ভাসি,
কেন ফেলে দিলে নিরাশার কূলে, কোন্ অপরাধে বল উদাসিনী।।

বাণী

সজল হাওয়া কেঁদে বেড়ায় কাজল আকাশ ঘিরে,
			তুমি এসো ফিরে।
উঠ্‌ছে কাঁদন ভাঙন-ধরা নদীর তীরে তীরে,
			তুমি এসো ফিরে।।
	বন্ধু তব বিরহেরি
	অশ্রু ঝরে গগন ঘেরি’
লুটিয়ে কাঁদে বনভূমি অশান্ত সমীরে।।
আকাশ কাঁদে, আমি কাঁদি বাতাস কেঁদে সারা,
তুমি কোথায়, কোথায় তুমি পথিক পথহারা।
	দুয়ার খুলে নিরুদ্দেশে
	চেয়ে আছি অনিমেষে,
আঁচল ঢেকে রাখবো কত আশার প্রদীপটিরে।

বাণী

সাহারাতে ফুটল রে রঙিন গুলে লালা
সেই ফুলেরি খোশবুতে আজ দুনিয়া মাতোয়ালা।।
সে ফুল নিয়ে কাড়াকাড়ি চাঁদ -সুরুজ গ্রহ-তারায়
ঝুঁকে প'ড়ে চুমে সে ফুল নীল গগন নিরালা।।
সেই ফুলেরি রঙ লেগে আজ ত্রিভুবন উজালা।।
চাহে সে ফুল জ্বীন ও ইনসান হুরপরী ফেরেশতায়
ফকির দরবেশবাদশা চাহে করিতে গরার মালা (তারে)
চেনে রসিক ভ্রমর,বুলবুল সেই ফুলের ঠিকানা
কেউ বলে হযরত মোহাম্মদ (বলে) কেউ বা কমলিওয়ালা।।

বাণী

সুরের ধারার পাগল-ঝোরা নামিল সখি মোর পরানে।
	ভরি’ মোর নিশীথ নিঝুম,
	বাজে নূপুর কার রুমুঝুম,
	মোর চোখে নাহি ঘুম —
পাষাণ টুটে লো যায় ছুটে মন-তটিনী মোর সাগর পানে।।
পান্‌সে চাঁদের জোছনাতে ঐ বেলের কুঁড়ি মুঞ্জরে,
মন যেতে চায় ফুল-বিছানো বকুল-বীথির পথ ধ’রে।
	আজ চাইবে যে, দিব তাকে
	সেই ফুল ছুঁয়ে এই আপনাকে,
অরুণ-রাগে হৃদয় জাগে, ভাসিয়া যাব নৃত্যে গানে।।

বাণী

সখি আর অভিমান জানাব না বাস্‌ব ভালো নীরবে।
যে চোখের জলে গল্‌ল না, (তার) মুখের কথায় কি হবে॥
অন্তর্যামী হয়ে অন্তরে মোর
	দিবা-নিশি রহে যে চিত-চোর,
অন্তরে মোর কোন্ সে-ব্যথা বোঝে না সে, কে ক’বে॥
সখি এবার আমার প্রেম নিবেদন গোপনে,
সূর্যমুখী চাহে যেমন তপনে।
	কুমুদিনী চাঁদে ভালোবাসে
	তাই চিরদিন অশ্রুর সায়রে ভাসে,
চির জীবন জানি কাঁদিতে হবে তাহারে চেয়েছি যবে॥১
১. শেষ পাঁচ পঙক্তির পাঠ্যন্তর :
সখি	এবার আমার প্রেম বিবেদন আপন মনে গোপনে,
	সূর্যমুখী চাহে যেমন চাওয়ার নেশা তপনে।
	কুমুদিনী চাঁদে ভালোবাসে
	তাই সে অশ্রু সায়রে ভাসে,
	হাজার জনম কাঁদিতে হইবে তাহারে চেয়েছি যবে॥

বাণী

(প্রিয়া) স্বপনে এসো নিরজনে।
(প্রিয়া) আধো রাতে চাঁদের সনে।।
	রহিব যখন মগন ঘুমে
	যেয়ো নীরবে নয়ন চুমে’,
মধুকর আসে যেমন গোপনে মল্লিকা চামেলি বনে।।
	বাতায়নে চাঁপার ডালে
	এসো কুসুম হয়ে নিশীথ কালে,
ভীরু কপোতী সম এসো হৃদয়ে মম বাহুর মালা হয়ে বাসর শয়নে।।