বাণী

স্বদেশ আমার! জানি না তোমার শুধিব মা কবে ঋণ।
দিনের পরে মা দিন চ’লে যায় এলো না সে শুভদিন।।
		খাই দাই আর আরামে ঘুমাই
		পাগলের যেন ব্যথা-বোধ নাই
ললাট-লিখন বলিয়া এড়াই ভীরুতা, শক্তি ক্ষীণ।
অভাগিনী তুমি, সন্তান তব সমান ভাগ্যহীন।।
কত শতাব্দী করেছি মা পাপ মানুষেরে করি ঘৃণা
জানি মা মুক্তি পাব না তাহার প্রায়শ্চিত্ত বিনা।
		ক্ষুদ্র ম্লেচ্ছ কাঙাল ভাবিয়া
		রেখেছি যাদেরে চরণে দাবিয়া
তাদের চরণ-ধূলি মাখি যদি আসিবে সে শুভদিন
নূতন আলোকে জাগিবে পুলকে জননী ব্যথা-মলিন।।

বাণী

(প্রিয়া) স্বপনে এসো নিরজনে।
(প্রিয়া) আধো রাতে চাঁদের সনে।।
	রহিব যখন মগন ঘুমে
	যেয়ো নীরবে নয়ন চুমে’,
মধুকর আসে যেমন গোপনে মল্লিকা চামেলি বনে।।
	বাতায়নে চাঁপার ডালে
	এসো কুসুম হয়ে নিশীথ কালে,
ভীরু কপোতী সম এসো হৃদয়ে মম বাহুর মালা হয়ে বাসর শয়নে।।

বাণী

সংসারেরি দোলনাতে মা ঘুম পাড়িয়ে কোথায় গেলি?
আমি অসহায় শিশুর মত ডাকি মা দুই বাহু মেলি’।।
	অন্য শক্তি নাই মা তারা
	‘মা’ বুলি আর কান্না ছাড়া,
তোরে না দেখলে কেঁদে উঠি, আবার কোল পেলে মা হাসি খেলি।।
(ও মা) ছেলেকে তোর তাড়ন করে মায়ারূপী সৎমা এসে।
আবার ছয় রিপুতে দেখায় মা ভয় পাপ এলো পুতনার বেশে।১
	মরি ক্ষুধা তৃষ্ণাতে মা
	শ্যামা আমার কোলে নে মা।
আমি ক্ষণে চমকে উঠি ভাবি দয়াময়ী মা কি এলি।।

১. পাপবর্গী এলো দেশে।

বাণী

সখি, সে হরি কেমন বল্‌। 
নাম শুনে যা’র এত প্রেম জাগে চোখে আনে এত জল।।
সখি	সে কি আসে এই পৃথিবীতে
	গাহি’ রাধা নাম বাঁশরিতে?
যা’র অনুরাগে বিরহ-যমুনা হয়ে ওঠে চঞ্চল।।
তা’রে কি নামে ডাকিলে আসে
কোন্‌ রূপ কোন্‌ গুন পাইলে, সে রাধা সম ভালোবাসে?
	সখি শুনেছি সে নাকি কালো
	জ্বালে কেমনে সে এত আলো,
মায়া ভুলাইতে মায়াবী সে নাকি করে গো মায়ার ছল।।

বাণী

সবুজ শোভার ঢেউ খেলে যায়
নবীন আমন ধানের ক্ষেতে।।
হেমন্তের ঐ শিশির-নাওয়া হিমেল হাওয়া
	সেই নাচনে উঠলো মেতে।।
টইটুম্বুর ঝিলের জলে
কাঁচা রোদের মানিক ঝলে
চন্দ্র ঘুমায় গগন-তলে সাদা মেঘের আঁচল পেতে।।
নটকানো রঙ শাড়ি প’রে কে বালিকা
ভোর না হতে যায় কুড়াতে শেফালিকা।
	আনমনা মন উড়ে বেড়ায়
	অলস প্রজাপতির পাখায়
মৌমাছিদের সাথে সে চায় কমল-বনের তীর্থে যেতে।।

বাণী

স্বাগতা কনক-চম্পক বর্ণা।
ছন্দিতা চপল নৃত্যের ঝর্না।।
মঞ্জুলা বিধুর যৌবন-কুঞ্জে
যেন ও-চরণ-নূপুর গুঞ্জে,
মন্দিরা মুরলী-শোভিত হাতে
এসো গো বিরহ-নীরস-রাতে,
হে প্রিয়া করিব প্রাণ অপর্ণা।।