ঠুংরী

  • আমি সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায়

    বাণী

    আমি		সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে
    		দলগুলি মোর রেঙে ওঠে তোমার হাসির কিরণ মেখে’।।
    			নিত্য জানাই পেম-আরতি
    			যে পথে, নাথ, তোমার গতি
    		ওগো আমার ধ্রুব-জ্যোতি সাধ মেটে না তোমায় দেখে’।।
    		জানি, তুমি আমার পাওয়ার বহু দূরে, হে দেবতা!
    		আমি মাটির পূজারিণী, কেমন ক’রে জানাই ব্যথা।
    			সারা জীবন তবু, স্বামী,
    			তোমার ধ্যানেই কাঁদি আমি
    		সন্ধ্যাবেলায় ঝরি যেন তোমার পানে নয়ন রেখে’।।
    

  • এ কোন মায়ায় ফেলিলে আমায়

    বাণী

    এ কোন মায়ায় ফেলিলে আমায়
    	চির জনমের স্বামী-
    তোমার কারণে এ তিন ভুবনে
    	শান্তি না পাই আমি।।
    	অন্তরে যদি লুকাইতে চাই
    এ আগুন আমি কেমনে লুকাই, ওগো অন্তর্যামী।।
    মুখ থাকিতেও বলিতে পারে না বোবা স্বপনের কথা;
    বলিতেও নারি লুকাতেও নারি; তেমনি আমার ব্যথা।
    	যে দেখেছে প্রিয় বারেক তোমায়
    	বর্ণিতে রূপ- ভাষা নাহি পায়
    পাগলিনী-প্রায় কাঁদিয়া বেড়ায় অসহায়, দিবাযামী।।
    

  • এ বাসি বাসরে আসিলে কে গো

    বাণী

    এ বাসি বাসরে আসিলে কে গো ছলিতে।
    কেন পুন বাঁশি বাজালে কাফি ললিতে।। 
    নিশীথ গভীরে কেন আঁখি-নীরে এলে ফিরে ফিরে
    			গোপন কথা বলিতে।।
    দলিত কুসুম-দলে রচিয়াছি শয়ন,
    অন্ধ তিমির রাতি, নিভু নিভু নয়ন;
    মরণ বেলায় প্রিয় আনিলে কি অমিয়,
    এলে কি গো নিঠুর ঝরা ফুল দলিতে।।
    
  • কেন গো যোগিনী বিধুর অভিমানে

    বাণী

    কেন গো যোগিনী! বিধুর অভিমানে।
    যৌবনে মগন গভীর ধ্যানে।।
    হের গো কুসুম ঝরিয়া পায়ে,
    চাহিয়া রহে ধরণীর পানে।।
    
  • গুণ্ঠন খোলো পারুল মঞ্জরী

    বাণী

    গুণ্ঠন খোলো পারুল মঞ্জরী।
    বল গো মনের কথা বনের কিশোরী।।
    চৈতালী চাঁদের তিথি যে ফুরায়
    কাঁদিয়া কোয়েলিয়া পরদেশে যায়,
    মধুমাখা নাম তব, মধুকর গায় মৃদুল গুঞ্জরী।।
    বনমালী নিতি আসি' ভাঙায় ঘুম
    বনদেবী গাহে জাগো দুলালী কুসুম,
    কত মল্লিকা বেলি বকুল চামেলি
    বিলায়ে সুবাস হের গিয়াছে ঝরি'।।
    
  • না মিটিতে সাধ মোর নিশি পোহায়

    বাণী

    		না মিটিতে সাধ মোর নিশি পোহায়।
    		গভীর আঁধার ছেয়ে আজো হিয়ায়।।
    			আমার নয়ন ভ’রে
    			এখনো শিশির ঝরে,
    		এখনো বাহুর ’পরে বঁধূ ঘুমায়।।
    			এখনো কবরী-মূলে
    			কুসুম পড়েনি ঢুলে,
    		এখনো পড়েনি খুলে’ মালা খোঁপায়।।
    			নিভায়ে আমার বাতি
    			পোহাল সবার রাতি,
    (আমি) 	নিশি জেগে’ মালা গাঁথি, প্রাতে শুকায়।।
    
  • নিশুতি রাতের শশী গো

    বাণী

    নিশুতি রাতের শশী গো।
    ঘুমায় সকলে নিশীথ নিঝুম
    হরিল কে নয়নেরই ঘুম,
    কার অভিসারে জাগো গগন-পারে —
    চাঁদ ভুলানো সে-কোন্ রূপসী।।
    লুকায়ে হেরি আমি অভিসার তব
    তারকারা হেরে লুকায়ে নীরব,
    কপট ঘুম ভেঙে হের হাসিছে সব —
    দূর অলকার বাতায়নে বসি’।।
    

    নাটকঃ ‘সাবিত্রী’

  • পেয়ে কেন নাহি পাই হৃদয়ে মম

    বাণী

    পেয়ে কেন নাহি পাই হৃদয়ে মম
    হে চির-সুদূর প্রিয়তম॥
    		তুমি আকাশের চাঁদ
    আমি	পাতিয়া সরসী-ফাঁদ
    জনম	জনম কাঁদি কুমুদীর সম॥
    		নিখিলের রূপে রূপে
    		দেখা দাও চুপে চুপে
    এলে না মূরতি ধরি তুমি নিরুপম॥
    

  • ফুলমালিনী এনেছ কি মালা

    বাণী

    ফুলমালিনী! এনেছ কি মালা।
    এনেছ কি মালা, ভরি’, তনু-ডালা।।
    এনেছ পসারিণী নয়ন-পাতে
    প্রেমসুধা-রস মালারই সাথে,
    অধরের অনুরাগ রাঙা-পেয়ালা।।
    এনেছ প্রীতির মালতী বকুল,
    রসে টলমল রূপের মুকুল।
    গাঁথ পরান মম তব ফুলহারে
    মালার বিনিময়ে লহ আমারে,
    বৃথা না যায় শুভ লগ্ন নিরালা।।
    
  • বঁধু তোমার আমার এই যে বিরহ এক জনমের নহে

    বাণী

    বঁধু, তোমার আমার এই যে বিরহ এক জনমের নহে।
    তাই যত কাছে পাই তত এ হিয়ায় কি যেন অভাব রহে।।
    	বারে বারে মোরা কত সে ভুবনে আসি
    	দেখিয়া নিমেষে দুইজনে ভালোবাসি,
    দলিয়া সহসা মিলনের সেই মালা (কেন) চলিয়া গিয়াছি দোঁহে।।
    আমরা বুঝি গো বাঁধিব না ঘর, অভিশাপ বিধাতার।
    শুধু চেয়ে থাকি, কেঁদে কেঁদে ডাকি, চাঁদ আর পারাবার
    		যেন চাঁদ আর পারাবার।
    	মোদের জীবন-মঞ্জরি দুটি হায়!
    	শতবার ফোটে শতবার ঝ'রে যায়;
    আমি কাদি ব্রজে (বঁধু), তুমি কাঁদ মথুরায়, মাঝে অপার যমুনা বহে।।
    

  • বরণ করেছি তারে সই

    বাণী

    বরণ করেছি তারে সই বারণ ক’রো না
    মরম সঁপেছি তারে নিতে মরণ যাতনা।।
    	গোপনে সঁপেছি মন
    	গোপনে করি যতন,
    কাঁদে প্রাণ তারি তরে, মিলিতে বাসনা।।
    
  • ভোরের হাওয়া এলে

    বাণী

    ভোরের হাওয়া এলে ঘুম ভাঙাতে কি
    		চুম হেনে নয়ন-পাতে।
    ঝিরি ঝিরি ধীরি ধীরি কুণ্ঠিত ভাষা
    		গুণ্ঠিতারে শুনাতে॥
    হিম-শিশিরে মাজি’ তনুখানি
    ফুল-অঞ্জলি আন ভরি’ দুই পাণি,
    ফুলে ফুলে ধরা যেন ভরা ফুলদানি
    		বিশ্ব-সুষমা সভাতে॥
    
  • রহি' রহি' কেন সে-মুখ পড়ে মনে

    বাণী

    রহি' রহি' কেন সে-মুখ পড়ে মনে
    ফিরায়ে দিয়াছি যারে অনাদরে অকারণে।
    উদাসী অলস দুপুরে
    মন উড়ে' যেতে চায় সুদূরে
    যে বন-পথে সে ভিখারির বেশে
    করুণা জাগায়ে ছিল সকরুণ নয়নে।।
    তার বুকে ছিল তৃষ্ণা মোর ঘটে ছিল বারি
    পিয়াসি ফটিকজল জল পাইল না গো
    ঢলিয়া পড়িল হায় জলদ নেহারি।
    তার অহ্জলির ফুল পথ-ধূলিতে
    ছড়ায়েছি-সেই ব্যথা নারি ভুলিতে
    অন্তরালে যারে রাখিনু চিরদিন
    অন্তর জুড়িয়া কেন কাঁদে সে গোপনে।।
    
  • সখি আর অভিমান জানাব না

    বাণী

    সখি আর অভিমান জানাব না বাস্‌ব ভালো নীরবে।
    যে চোখের জলে গল্‌ল না, (তার) মুখের কথায় কি হবে॥
    অন্তর্যামী হয়ে অন্তরে মোর
    	দিবা-নিশি রহে যে চিত-চোর,
    অন্তরে মোর কোন্ সে-ব্যথা বোঝে না সে, কে ক’বে॥
    সখি এবার আমার প্রেম নিবেদন গোপনে,
    সূর্যমুখী চাহে যেমন তপনে।
    	কুমুদিনী চাঁদে ভালোবাসে
    	তাই চিরদিন অশ্রুর সায়রে ভাসে,
    চির জীবন জানি কাঁদিতে হবে তাহারে চেয়েছি যবে॥১
    ১. শেষ পাঁচ পঙক্তির পাঠ্যন্তর :
    সখি	এবার আমার প্রেম বিবেদন আপন মনে গোপনে,
    	সূর্যমুখী চাহে যেমন চাওয়ার নেশা তপনে।
    	কুমুদিনী চাঁদে ভালোবাসে
    	তাই সে অশ্রু সায়রে ভাসে,
    	হাজার জনম কাঁদিতে হইবে তাহারে চেয়েছি যবে॥
    
  • স্বপনে এসো নিরজনে

    বাণী

    (প্রিয়া) স্বপনে এসো নিরজনে।
    (প্রিয়া) আধো রাতে চাঁদের সনে।।
    	রহিব যখন মগন ঘুমে
    	যেয়ো নীরবে নয়ন চুমে’,
    মধুকর আসে যেমন গোপনে মল্লিকা চামেলি বনে।।
    	বাতায়নে চাঁপার ডালে
    	এসো কুসুম হয়ে নিশীথ কালে,
    ভীরু কপোতী সম এসো হৃদয়ে মম বাহুর মালা হয়ে বাসর শয়নে।।