দাদ্‌রা

  • শত জনম আঁধারে আলোকে

    বাণী

    শত জনম আঁধারে আলোকে তারকা-গ্রহে লোকে লোকে
    প্রিয়তম! খুঁজিয়া ফিরেছি তোমারে।।
    	স্বপন হয়ে রয়েছ নয়নে
    	তপন হ’য়ে হৃদয়-গগনে,
    হেরিয়া তোমারে বিরহ-যমুনা, প্রিয়তম! দুলিয়া উঠে বারে বারে।।
    হে লীলা-কিশোর! ডেকেছে আমারে তোমার বাঁশি,
    যুগে যুগে তাই তীর্থ-পথিক ফিরি উদাসী।
    	দেখা দাও, তবু ধরা নাহি দাও
    	ভালোবাস ব’লে তাই কি কাঁদাও,
    তোমারি শুভ্র পূজার-পুষ্প প্রিয়তম! ফুটিয়া ওঠে অশ্রুধারে।।
    
  • শ্যামা নামের লাগলো আগুন

    বাণী

    শ্যামা নামের লাগলো আগুন আমার দেহ ধূপ–কাঠিতে।
    যত জ্বলি সুবাস তত ছড়িয়ে পড়ে চারিভিতে।।
    		ভক্তি আমার ধূমের মত
    		উর্দ্ধে ওঠে অবিরত,
    শিব–লোকের দেব–দেউলে মা’র শ্রীচরণ পরশিতে।।
    ওগো অন্তর–লোক শুদ্ধ হল পবিত্র সেই ধূপ–সুবাসে,
    মা’র হাসিমুখ চিত্তে ভাসে চন্দ্রসম নীল আকাশে।
    		যা কিছু মোর পুড়ে কবে
    		চিরতরে ভস্ম হবে
    মা’র ললাটে আঁকব তিলক সেই ভস্ম–বিভূতিতে।।
    
  • সন্ধ্যা নেমেছে আমার বিজন ঘরে

    বাণী

    সন্ধ্যা নেমেছে আমার বিজন ঘরে, তব গৃহে জ্বলে বাতি।
    ফুরায় তোমারি উৎসব নিশি সুখে, পোহায় না মোর রাতি।।
    	আমার আশার ঝরা ফুলদল দিয়া,
    	তোমার বাসর শয্যা রচিছ প্রিয়া
    তোমার ভবনে আলোর দীপালি জ্বলে, আঁধার আমার সাথী।
    					পোহায় না মোর রাতি।।
    ঘুমায়ে পড়েছে আমার কাননে কুহু, নীরব হয়েছে গান;
    তোমার কুঞ্জে গানের পাখিরা তুলিয়াছে কলতান।
    	পৃথিবীর আলো মোর চোখে নিভে আসে,
    	বাজিছে বাঁশরি তোমার মিলন-রাসে;
    ওপারের বাঁশি আমায় ডাকিবে কবে, আছি তাই কান পাতি।
    					পোহায় না মোর রাতি।।
    
  • সংসারেরি দোলনাতে মা ঘুম পাড়িয়ে

    বাণী

    সংসারেরি দোলনাতে মা ঘুম পাড়িয়ে কোথায় গেলি?
    আমি অসহায় শিশুর মত ডাকি মা দুই বাহু মেলি’।।
    	অন্য শক্তি নাই মা তারা
    	‘মা’ বুলি আর কান্না ছাড়া,
    তোরে না দেখলে কেঁদে উঠি, আবার কোল পেলে মা হাসি খেলি।।
    (ও মা) ছেলেকে তোর তাড়ন করে মায়ারূপী সৎমা এসে।
    আবার ছয় রিপুতে দেখায় মা ভয় পাপ এলো পুতনার বেশে।১
    	মরি ক্ষুধা তৃষ্ণাতে মা
    	শ্যামা আমার কোলে নে মা।
    আমি ক্ষণে চমকে উঠি ভাবি দয়াময়ী মা কি এলি।।
    

    ১. পাপবর্গী এলো দেশে।

  • সাঁঝের পাখিরা ফিরিল কুলায়

    বাণী

    সাঁঝের পাখিরা ফিরিল কুলায় তুমি ফিরিলে না ঘরে,
    আঁধার ভবন জ্বলেনি প্রদীপ মন যে কেমন করে।।
    	উঠানে শূন্য কলসির কাছে
    	সারাদিন ধরে ঝ’রে প’ড়ে আছে
    তোমার দোপাটি গাঁদা ফুলগুলি যেন অভিমান ভরে।।
    বাসন্তী রাঙা শাড়িখানি তব ধূলায় লুটায় কেঁদে,
    তোমার কেশের কাঁটাগুলি বুকে স্মৃতির সমান বেঁধে।
    	যাইনি বাহিরে আজ সারাদিন
    	ঝরিছে বাদল শ্রান্তিবিহীন
    পিয়া পিয়া ব’লে ডাকিছে পাপিয়া এ বুকের পিঞ্জরে।।
    
  • সেদিন বলেছিলে এই সে ফুলবনে

    বাণী

    সেদিন ব’লেছিলে এই সে ফুলবনে,
    আবার হবে দেখা ফাগুনে তব সনে॥
    ফাগুন এলো ফিরে লাগে না মন কাজে,
    আমার হিয়া ভরি, উদাসী বেণু বাজে;
    শুধাই তব কথা দখিনা সমীরণে॥
    শপথ ভুলিয়াছ বন্ধু, ভুলিলে পথ কি গো,
    বারেক দিয়ে দেখা লুকালে মায়ামৃগ।
    আঁচলে ফুল লয়ে হল’ না মালা গাঁথা,
    আসার পথ তব ঢাকিল ঝরা পাতা;
    পূজার চন্দন শুকালো অঙ্গনে॥
    
  • হায় আঙিনায় সখি আজো সেই চাঁপা ফোটে

    বাণী

    হায় আঙিনায় সখি আজো সেই চাঁপা ফোটে।
    হায় আকাশে সখি আজো কি সেই চাঁদ ওঠে।।
    	সখি তাহার হাতের হেনা গাছে
    	বুঝি প্রথম মুকুল ধরিয়াছে।
    হায় যমুনায়, বাঁশি বাজে কি আর ছায়ানটে।।
    শিয়রে জানালা খুলে দে বাহিরে চাহিয়া দেখি
    আমার বাগানে আবার বসন্ত আসিয়াছে কি?
    দেখি সে ডালিম ফুলে হায় আছে কি সে রঙ আগেকার।
    ও-বাড়ির ছাদের টবে সই বেলফুল ফুটলো কি আবার?
    	আজি আসিবে সে মনে লাগে
    	তারি আসার আভাস মনে জাগে
    হায় বুঝি তাই, মোর মরণ মধুর হয়ে ওঠে।।
    
  • হে গোবিন্দ রাখ চরণে

    বাণী

    হে গোবিন্দ রাখ চরণে।
    মোরা তব চরণে শরণাগত আশ্রয় দাও আশ্রিত জনে হে॥
    	গঙ্গা ঝরে যে শ্রীচরণ বেয়ে
    	কেন দুখ পাই সে চরণ চেয়ে
    এ ত্রিতাপ জ্বালা হর হে শ্রীহরি, চাহ করুণা সিক্ত নয়নে॥
    হরি ভিক্ষা চাহিলে মানুষ নাহি ফিরায়
    তোমারি দুয়ারে হাত পাতিল যে, ফিরাবে কি তুমি তায়।
    	হরি সব তরী ডুবে যায়
    	তোমার চরণ তরী ত’ ডোবে না হায়,
    তব চরণ ধরিয়া ডুবে মরি যদি রবে কলঙ্ক নিখিল ভুবনে॥