দাদ্‌রা

  • আমি ভাই ক্ষ্যাপা বাউল

    বাণী

    আমি ভাই ক্ষ্যাপা বাউল, আমার দেউল আমারি এই আপন দেহ।
    আমার এ প্রাণের ঠাকুর নহে সুদূর অন্তরে মন্দির-গেহ।।
    সে থাকে সকল সুখে সকল দুখে আমার বুকে অহরহ,
    কভু তায় প্রণাম করি, বক্ষে ধরি, কভু তা’রে বিলাই স্নেহ।।
    ভুলায়নি আমারি কুল, ভুলেছে নিজেও সে কুল,
    ভুলে বৃন্দাবন গোকুল মোর সাথে মিলন বিরহ।
    সে আমার ভিক্ষা-ঝুলি কাঁধে তুলি’, চলে ধূলি-মলিন পথে,
    নাচে গায় আমার সাথে একতারাতে, কেউ বোঝে, বোঝে না কেহ।।
    
  • আমি মুক্তা নিতে আসিনি মা

    বাণী

    (মা)	আমি, মুক্তা নিতে আসিনি মা ও মা তোর মুক্তি-সাগর কূলে।
    	মোর ভিক্ষা-ঝুলি হ’তে মায়ার মুক্তা মানিক নে মা তুলে।।
    		মা তুই, সবই জানিস অন্তর্যামী,
    		সেই চরণ-প্রসাদ ভিক্ষু আমি,
    	শবেরও হয় শিবত্ব লাভ মা তোর যে চরণ ছুঁলে।।
    	তুই অর্থ দিয়ে কেন ভুলাস এই পরমার্থ ভিখারিরে,
    	তোর প্রসাদী ফুল পাই যদি মা গঙ্গা ধারাও চাই না শিরে।
    		তোর শক্তিমন্ত্রে শক্তিময়ী
    		আমি হতে পারি ব্রহ্ম-জয়ী
    	সেই মাতৃনামের মহাভিক্ষু তোর মায়াতেও নাহি ভুলে।।
    
  • আমি সন্ধ্যামালতী বনছায়া অঞ্চলে

    বাণী

    আমি	সন্ধ্যামালতী বনছায়া অঞ্চলে
    	লুকাইয়া রই ঘন পল্লব তলে ॥
    	বিহগের গীতি ভ্রমরের গুঞ্জন, নীরব হয় যখন –
    আমি	চাঁদেরে তখন পূজা করি আঁখি-জলে ॥
    আমি	লুকাইয়া কাঁদি বনের শকুন্তলা
    	মনের কথা এ জনমে হ’ল না বলা।
    গভীর নিশীথে বন-ঝিল্লির সুরে, ডাকি দূর বন্ধুরে –
    আমি	ঝ’ড়ে পড়ি যবে প্রভাতে সবার হৃদয় মুকুল খোলে ॥
    

  • আমি সুন্দর নহি জানি হে বন্ধু জানি

    বাণী

    আমি	সুন্দর নহি জানি হে বন্ধু জানি
    তুমি	সুন্দর, তব গান গেয়ে নিজেরে ধন্য মানি।।
    		আসিয়াছি সুন্দর ধরণীতে
    		সুন্দর যারা তাদেরে দেখিতে
    	রূপ-সুন্দর দেবতার পায় অঞ্জলি দেই বাণী।।
    	রূপের তীর্থে তীর্থ-পথিক যুগে যুগে আমি আসি'
    	ওগো সুন্দর বাজাইয়া যাই তোমার নামের বাশিঁ।
    		পরিয়া তোমার রূপ-অঞ্জন
    		ভুলেছে নয়ন রাঙিয়াছে মন
    	উছলি' উঠুক মোর সঙ্গীতে সেই আনন্দখানি।।
    
  • আমি হব মাটির বুকে ফুল

    বাণী

    আমি হব মাটির বুকে ফুল
    প্রভাত বেলা হয়ত পাব তোমার চরণ মূল।।
    	ঠাঁই পাব গো তোমার থালায়
    	রইব তোমার গলার মালায়
    সুগন্ধ মোর মিশবে হাওয়ায় আনন্দ আকুল।।
    আমার রঙে রঙিন হবে বন
    পাখির কণ্ঠে আনব আমি গানের হরষণ।
    	নাই যদি নাও তোমার গলে
    	তোমার পূজা বেদীর তলে
    শুকাবে গো সেই হবে মোর মরণ অতুল।।
    
  • আয় মরু পারের হাওয়া নিয়ে যা রে

    বাণী

    আয় মরু পারের হাওয়া নিয়ে যা রে মদিনায় —
    জাত-পাক মুস্তাফার রওজা মুবারক যেথায়।।
    মরিয়া আছি দুখে মাশরেকী এই মুল্লুকে,
    পড়ব মাগরিবের নামাজ কবে খানা-এ কা'বায়।।
    হজরতের নাম তসবি করে যাব রে মিসকিন বেশে
    ইসলামের ঐ দ্বীনী ডঙ্কা বাজল প্রথম যে দেশে।
    কাঁদব ধরে মাজার শরীফ ধরে শুনব সেথায় কান পাতি, —
    নবীর মুখে তেমনি কি রে রব ওঠে 'এ্যায় উম্মতি'!
    পাক কোরানের কালাম হয়ত সেথা শোনা যায়।।
    
  • আয় মুক্তকেশী আয়

    বাণী

    (মা)		আয় মুক্তকেশী আয়
    (মা)		বিনোদ-বেণী বোঁধ দোব এলোচুলে।
    		প্রভাত রবির রাঙা জবা (মা) দুলিয়ে দোব বেণী মূলে॥
    		মেখে শ্মশান ভস্ম কালি,
    		ঢাকিস্ কেন রূপের ডালি
    		তোর অঙ্গ ধুতে গঙ্গাবারি আনব শিবের জটা খুলে॥
    		দেব না আর শ্মশান যেতে, সহস্রারে রাখব ধ’রে।
    		খেলে সেথায় বেড়াবি মা রামধনু রং শাড়ি প’রে।
    		ক্ষয় হলো চাঁদ কেঁদে কেঁদে
    (তারে)	দেব মা তোর খোঁপায় বেঁধে
    		মোর জীবন মরণ বিল্ব জবা দিব মা তোর পায়ে তুলে॥
    
  • আয় রণজয়ী পাহাড়ি দল

    বাণী

    আয় রণজয়ী পাহাড়ি দল
    শক্তি-মাতাল বুনো পাগল
    থৈ থৈ তা তা থৈ থৈ
    নেচে আয় রে দৃপ্ত পায়।
    গিরি দরি বন ভাসায় যেমন পার্বতীয়া ঝর্নাজল।
    আন তীর ধনু বর্শা হান্ বাজা রে শিঙ্গা বাজা মাদল।।
    

    নাটিকাঃ ‘সুরথ উদ্ধার’

  • আর কত দুখ্ দেবে বল মাধব বল

    বাণী

    আর কত দুখ্ দেবে, বল মাধব বল বল মাধব বল।
    দুখ্ দিয়ে যদি সুখ পাও তুমি কেন আঁখি ছলছল॥
    	তব শ্রীচরণ তলে আমি চাহি ঠাঁই,
    	তুমি কেন ঠেল বাহিরে সদাই;
    আমি কি এতই ভার এ জগতে যে, পাষাণ তুমিও টল॥
    ক্ষুদ্র মানুষ অপরাধ ভোলে তুমি নাকি ভগবান,
    তোমার চেয়ে কি পাপ বেশি হ’ল (মোরে) দিলে না চরণে স্থান।
    	হে নারায়ণ! আমি নারায়ণী সেনা,
    	মোরে কুরুকুল দিতে ব্যথা কি বাজে না,
    (যদি) চার হাতে মেরে সাধ নাহি মেটে দু’চরণ দিয়ে দ’ল॥
    
  • আর লুকাবি কোথা মা কালী

    বাণী

    আর লুকাবি কোথা মা কালী
    বিশ্ব-ভুবন আঁধার ক’রে তোর রূপে মা সব ডুবালি।।
    সুখের গৃহ শ্মশান ক’রে বেড়াস্ মা তায় আগুন জ্বালি’
    দুঃখ দেবার রূপে মা তোর ভুবন-ভরা রূপ দেখালি।।
    পূজা ক’রে, পাইনি তোরে মা গো এবার চোখের জলে এলি
    বুকের ব্যথায় আসন পাতা ব’স্ মা সেথা দুখ্‌-দুলালী।।
    
  • আরো কত দিন বাকি

    বাণী

    আরো কতদিন বাকি
    তোমারে পাওয়ার আগে বুঝি হায়! নিভে যায় মোর আঁখি।।
    কত আখি-তারা নিভিয়া গিয়াছে কাদিয়া তোমার লাগি'
    সেই আখিগুলি তারা হয়ে আজো আকাশে রয়েছে জাগি
    		যেন নীড়-হারা পাখি।।
    যত লোকে আমি তোমারি বিরহে ফেলেছি অশ্রু-জল
    ফুল হয়ে সেই অশ্রু ছুইতে চাহে, চাহে তব পদতল
    		সে-সাধ মিটিবে নাকি।।
    
  • আল্লা নামের শিরনি তোরা কে নিবি কে আয়

    বাণী

    		আল্লা নামের শিরনি তোরা কে নিবি কে আয়।
    মোরা 	শিরনি নিয়ে পথে হাঁকি (নিতে) কেহ নাহি চায়।।
    			এই শিরনির গুণে ওরে শোন
    			শিরিণ্ হবে তোর তিক্ত মন রে
    		রাঙা হবে ভাঙা হৃদয় এই শিরনির মহিমায়।।
    		ধররে প্রাণের তশ্‌তরি তোর আরশ পানে মেলে,
    		খোদার খিদে মিটবে রে ভাই এই শিরনি খেলে।
    			তোদের পেট পুরিলি ধূলামাটি খেয়ে
    			করলি হেলা আল্লার নাম পেয়ে
    তোরা 	কাবা পাবার দরজা পাবি আয় আল্লা নামের দরজায়।।
    
  • আল্লাতে যার পূর্ণ ঈমান কোথা সে মুসলমান

    বাণী

    আল্লাতে যার পূর্ণ ঈমান কোথা সে মুসলমান
    কোথা সে আরিফ অভেদ যাহার জীবন মৃত্যু জ্ঞান।।
    (যাঁর)	মুখে শুনি তৌহিদের কালাম —
    	ভয়ে মৃত্যুও করিত সালাম।
    যাঁর দীন দীন রবে কাঁপিত দুনিয়া জীন পরি ইনসান্‌।।
    স্ত্রী পুত্রে আল্লারে সঁপি জেহাদে যে নির্ভীক।
    হেসে কোরবানি দিত প্রাণ হায় আজ তারা মাগে ভিখ্‌।
    	কোথা সে শিক্ষা আল্লাহ্‌ ছাড়া,
    	ত্রিভুবনে ভয় করিত না যাঁরা।
    আজাদ করিতে এসেছিল যাঁরা সাথে লয়ে কোর্‌আন্‌।।
    
  • আসে বসন্ত ফুল বনে সাজে বনভূমি সুন্দরী

    বাণী

    আসে বসন্ত ফুল বনে সাজে বনভূমি সুন্দরী
    চরণে পায়েলা রুমুঝুমু মধুপ উঠিছে গুঞ্জরি (আহা)।।
    দুলে আলোছায়া বন-দুকূল
    ওড়ে প্রজাপতি কলকা ফুল
    কর্ণে অতসী স্বর্ণ-দুল
    	আলোক-লতার সাতনরি।।
    সোনার গোধূলি নামিয়া আয়
    আমার রূপালি ফুল-শোভায়
    আমার সজল আঁখি-পাতায়
    	আয় রামধনু রঙ ধরি'।
    কবি, তোর ফুলমালী কেমন
    ফাগুনে শুষ্ক পুষ্প-বন
    বরিবি বঁধুরে এলে চ্যমন (আহা)
    	রিক্ত হাতে কি ফুল ভরি'।।
    
  • আহার দেবেন তিনি রে মন

    বাণী

    		আহার দেবেন তিনি রে মন জিভ দিয়াছেন যিনি।
    		তোরে সৃষ্টি ক'রে তোর কাছে যে আছেন তিনি ঋণী।।
    		সারা জীবন চেষ্টা ক'রে,ভিক্ষা-মুষ্টি আনলি ঘরে
    (ও মন)	তাঁর কাছে তুই হাত পেতে দেখ কি দান দেন তিনি।।
    		না চাইতে ক্ষেতের ফসল পায় বৃষ্টির জল
    		তুই যে পেলি পুত্র-কন্যা তোরে কে দিল তা বল।
    		যাঁর করুণায় এত পেলি,তাঁরেই কেবল ভুলে গেলি
    (তোর)	ভাবনার ভার দিয়ে তাঁকে ডাক রে নিশিদিন-ই।।
    

  • ইয়া আল্লাহ তুমি রক্ষা কর দুনিয়া ও দ্বীন

    বাণী

    		ইয়া আল্লাহ, তুমি রক্ষা কর দুনিয়া ও দ্বীন।
    		শান-শওকতে হোক পূর্ণ আবার নিখিল মুসলেমিন।
    			আমিন আল্লাহুম্মা আমিন।।
    (খোদা)	মুষ্টিমেয় আরববাসী যে ঈমানের জোরে
    তোমার	নামের ডঙ্কা বাজিয়েছিল দুনিয়াকে জয় ক’রে
    (খোদা)	দাও সে ঈমান, সেই তরক্কী, দাও সে একিন।
    			খোদা দাও সে একিন।
    			আমিন আল্লাহুম্মা আমিন।।
    হায়!		যে-জাতির খলিফা ওমর শাহানশাহ হয়ে
    		ছেঁড়া কাপড় প’রে গেলেন উপবাসী র’য়ে
    		আবার মোদের সেই ত্যাগ দাও, খোদা
    		ভোগ-বিলাসে মোদের জীবন ক’রো না মলিন।
    			আমিন আল্লাহুম্মা আমিন।।
    (খোদা)	তুমি ছাড়া বিশ্বে কারো করতাম না ভয়
    		তাই বিশ্বে হয়নি মোদের কভু পরাজয়
    		দাও সেই দিক্ষা শক্তি সেই ভক্তি দ্বিধাহীন।
    			আমিন আল্লাহুম্মা আমিন।।
    
  • ঈদজ্জোহার তকবীর শোন ঈদ্গাহে

    বাণী

    ঈদজ্জোহার তকবীর শোন ঈদ্গাহে!
    (তোর) কোরবানিরই সামান নিয়ে চল্ রাহে।।
    কোরবানির রঙে রঙিন পর লেবাস্
    পিরহানে মাখ্‌রে ত্যাগের গুল্-সুবাস,
    হিংসা ভুলে প্রেমে মেতে
    ঈদগাহেরই পথে যেতে দে মোবারকবাদ দ্বীনের বাদ্শাহে।।
    খোদারে দে প্রাণের প্রিয়, শোন্ এ ঈদের মাজেরা
    যেমন পুত্র বিলিয়ে দিলেন খোদার নামে হাজেরা,
    	ওরে কৃপণ, দিস্‌নে ফাঁকি আল্লাহে।।
    তোর পাশের ঘরে গরীব কাঙাল কাঁদছে যে
    তুই তারে ফেলে ঈদ্গাহে যাস্ সঙ সেজে,
    	তাই চাঁদ উঠ্ল, এলো না ঈদ্
    	নাই হিম্মৎ, নাই উম্মিদ,
    শোন্ কেঁদে কেঁদে বেহেশ্‌ত হ’তে হজরত আজ কি চাহে।।
    
  • উচাটন মন ঘরে রয় না

    বাণী

    (পিয়া মোর) উচাটন মন ঘরে রয় না।
    (পিয়া মোর) ডাকে পথে বাঁকা তব নয়না।।
    	ত্যজিয়া লোক-লাজ
    	সুখ-সাধ গৃহ-কাজ,
    (প্রিয়া মোর) নিজ গৃহে বনবাস সয়না।।
    	লইয়া স্মৃতির লেখা
    	কত আর কাঁদি একা,
    (পিয়া মোর) ফুল গেলে কাঁটা কেন যায় না।।
    
  • এ কি অপরূপ রূপে মা তোমায়

    বাণী

    এ কি অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লী-জননী।
    ফুলে ও ফসলে কাদা মাটি জলে ঝলমল করে লাবনি॥
    রৌদ্রতপ্ত বৈশাখে তুমি চাতকের সাথে চাহ জল,
    আম কাঁঠালের মধুর গন্ধে জ্যৈষ্ঠে মাতাও তরুতল।
    ঝঞ্ঝার সাথে প্রান্তরে মাঠে কভু খেল ল’য়ে অশনি॥
    কেতকী-কদম-যূথিকা কুসুমে বর্ষায় গাঁথ মালিকা,
    পথে অবিরল ছিটাইয়া জল খেল চঞ্চলা বালিকা।
    তড়াগে পুকুরে থই থই করে শ্যামল শোভার নবনী॥
    শাপলা শালুক সাজাইয়া সাজি শরতে শিশির নাহিয়া,
    শিউলি-ছোপানো শাড়ি পরে ফের আগামনী-গীত গাহিয়া।
    অঘ্রাণে মা গো আমন ধানের সুঘ্রাণে ভরে অবনি॥
    শীতের শূন্য মাঠে তুমি ফের উদাসী বাউল সাথে মা,
    ভাটিয়ালি গাও মাঝিদের সাথে গো, কীর্তন শোনো রাতে মা।
    ফাল্গুনে রাঙা ফুলের আবিরে রাঙাও নিখিল ধরণী॥
    
  • এ কোন মায়ায় ফেলিলে আমায়

    বাণী

    এ কোন মায়ায় ফেলিলে আমায়
    	চির জনমের স্বামী-
    তোমার কারণে এ তিন ভুবনে
    	শান্তি না পাই আমি।।
    	অন্তরে যদি লুকাইতে চাই
    এ আগুন আমি কেমনে লুকাই, ওগো অন্তর্যামী।।
    মুখ থাকিতেও বলিতে পারে না বোবা স্বপনের কথা;
    বলিতেও নারি লুকাতেও নারি; তেমনি আমার ব্যথা।
    	যে দেখেছে প্রিয় বারেক তোমায়
    	বর্ণিতে রূপ- ভাষা নাহি পায়
    পাগলিনী-প্রায় কাঁদিয়া বেড়ায় অসহায়, দিবাযামী।।