যত ফুল তত ভুল কণ্টক জাগে

বাণী

	যত ফুল তত ভুল কণ্টক জাগে
	মাটির পৃথিবী তাই এত ভালো লাগে।।
হেথা	চাঁদে আছে কলঙ্ক, সাধে অবসাদ
হেথা	প্রেমে আছে গুরুগঞ্জনা অপবাদ;
আছে	মান-অভিমান পিরিতি-সোহাগে।।
হেথা	হারাই হারাই ভয়, প্রিয়তমে তাই
	ব’ক্ষে জড়ায়ে কাঁদি ছাড়িতে না চাই।
	স্বর্গের প্রেমে নাই বিরহ-অনল
	সুন্দর আঁখি আছে, নাই আখি-জল;
	রাধার অশ্রু নাই কুমকুম-ফাগে।।

নাটকঃ অন্নপূর্ণা (নাট্যকারঃ মণিলাল বন্দোপাধ্যায়)

বিদায় সন্ধ্যা আসিল ওই

বাণী

বিদায়–সন্ধ্যা আসিল ওই ঘনায় নয়নে অন্ধকার।
হে প্রিয়, আমার, যাত্রা–পথ অশ্রু–পিছল ক’রোনা আর।।
		এসেছিনু ভেসে স্রোতের, ফুল
		তুমি কেন প্রিয় করিলে ভুল
তুলিয়া খোঁপায় পরিয়া তা’য় ফেলে দিলে হায় স্রোতে আবার।।
		হেথা কেহ কারো বোঝে না মন
		যারে চাই হেলা হানে সে’ জন
যারে পাই সে না হয় আপন হেথা নাই হৃদি ভালোবাসার।
		তুমি বুঝিবেনা কি অভিমান
		মিলনের মালা করিল ম্লান
উড়ে যাই মোর, দূর বিমান সেথা গা’ব গান আশে তোমার।।

মসজিদে ঐ শোন্ রে আজান চল নামাজে চল্

বাণী

	মসজিদে ঐ শোন্ রে আজান, চল নামাজে চল্ ।
	দুঃখে পাবি সান্ত্বনা তুই বক্ষে পাবি বল।।
	ময়লা-মাটি লাগবে যা তোর দেহ-মনের মাঝে —
	সাফ হবে সব, দাঁড়াবি তুই যেম্‌নি জায়নামাজে;
(চল্)	রোজগার তুই করবি যদি আখেরের ফসল।।
	হাজার কাজের অছিলাতে নামাজ করিস কাজা
	খাজনা তারি দিলি না, যে দ্বীন-দুনিয়ার রাজা
তাঁরে	পাঁচ বার তুই করবি মনে, তাতেও এত ছল্।।
	কার তরে তুই মরিস খেটে; কে হবে তোর সাথী
	বে-নামাজীর আঁধার গোরে কে জ্বালাবে বাতি
(চল্)	খোদার নামে শির লুটায়ে জীবন কর্‌ সফল।।

খেলো না আর আমায় নিয়ে

বাণী

	খেলো না আর আমায় নিয়ে, প্রিয় অলস খেলা।
	নিঠুর খেলা খেল এবার ফুরায় খেলার বেলা।।
		(তুমি) অন্ধকারের আড়াল হতে
		লও হে টানি’ বাহির পথে,
	চঞ্চলতার বিপুল স্রোতে, দাও ভাসাতে ভেলা।।
(তুমি)	সবার চেয়ে ভালোবাসো, আঘাত যারে হানো,
	স্মরণ যারে করো তারে মরণ টানে টানো।
		ঠাঁই যারে দাও চরণ-তলে
		ভোলাও না তায় সুখের ছলে,
	মালার নামে দাও না গলে তোমার অবহেলা।।

সখি জাগো রজনী পোহায়

বাণী

	সখি জাগো, রজনী পোহায়
	মলিন কামিনী-ফুল যামিনী-গলায়।।
	চলিছে বধূ সিনানে
(ওগো) বসন বশ না মানে
	শিথিল আঁচল টানে পথের কাঁটায়।।

তুমি রহিমুর রহমান

বাণী

	তুমি রহিমুর রহমান আমি গুণাহগার বান্দা।
	হাত ধ’রে মোর পথ দেখাও য়্যা আল্লাহ্ আমি আন্ধা।।
	(মোর)	সারা জীবন গেল কেটে
		পাঁচ ভুতেরই বেগার খেটে,
(এখন)	শেষের বেলা ঘুচাও আল্লা এই দুনিয়ার ধান্দা।।
(আল্লা)	আমি তোমার বনের পাখি, কেন আমায় ধ’রে —
	রাখ্‌লে মায়ার শিক্‌লি বেঁধে এই দেহ-পিঞ্জরে।
		ব’লে এদের বাঁধা বুলি
		আল্লা তোমায় গেছি ভুলি’,
(এবার)	শিক্‌লি কেটে কাছে ডাকো শেষ কর এই কান্দা।।