আগমনী

  • আনন্দ রে আনন্দ আনন্দ আনন্দ

    বাণী

    আনন্দ রে আনন্দ, আনন্দ আনন্দ,
    দশ হাতে ঐ দশ দিকে মা ছড়িয়ে এলো আনন্দ।
    ঘরে ফেরার বাজল বাঁশি, বইছে বাতাস সুমন্দ॥
    আমার মায়ের মুখে হাসি, শরত-আলোর কিরণরাশি,
    কমল বনে উঠছে ভাসি, মায়ের গায়ের সুগন্ধ॥
    উঠলো বেজে দিগ্বিদিকে ছুটির মাদল মৃদঙ্গ,
    মনের আজি নাই ঠিকানা, যেন বনের কুরঙ্গ।
    দেশান্তরী ছেলেমেয়ে, মায়ের কোলে এলো ধেয়ে,
    শিশির নীরে এলো নেয়ে স্নিগ্ধ অকাল বসন্ত॥
    
  • আমার আনন্দিনী উমা আজো এলো না

    বাণী

    (আমার) 	আনন্দিনী উমা আজো এলো না তার মায়ের কাছে।
    		হে গিরিরাজ! দেখে এসো কৈলাসে মা কেমন আছে॥
    			মোর মা যে প্রতি আশ্বিন মাসে
    			মা মা ব’লে ছুটে আসে,
    		‘মা আসেনি’ ব’লে আজও ফুল ফোটেনি লতায় গাছে ॥
    		তত্ত্ব-তলাশ নিইনি মায়ের তাই বুঝি মা অভিমানে,
    		না এসে তার মায়ের কোলে ফিরিছে শ্মশান মশানে।
    			ক্ষীর নবনী ল’য়ে থালায়
    			কেদে ডাকি, ‘আয় উমা আয়’।
    		যে কন্যারে চায় ত্রিভুবন তাকে ছেড়ে মা কি বাঁচে॥
    
  • এবার নবীন-মন্ত্রে হবে জননী তোর উদ্বোধন

    বাণী

    এবার	নবীন-মন্ত্রে হবে জননী তোর উদ্বোধন।
    	নিত্যা হয়ে রইবি ঘরে, হবে না তোর বিসর্জন।।
    	সকল জাতির পুরুষ-নারীর প্রাণ
    	সেই হবে তোর পূজা-বেদী মা তোর পীঠস্থান:
    সেথা	শক্তি দিয়ে ভক্তি দিয়ে পাতবে মা তোর সিংহাসন।।
    সেথা	রইবে নাকো ছোয়াছুয়ি উচ্চ-নীচের ভেদ,
    	সবাই মিলে উচ্চারির মাতৃ-নামের বেদ।
    মোরা	এক জননীর সন্তান সব জানি,
    	ভাঙব দেয়াল, ভুলব হানাহানি
    	দীন-দরিদ্র রইবে না কেউ সমান হবে সর্বজন,
    	বিশ্ব হবে মহাভারত, নিত্য-প্রেমের বৃন্দাবন।।
    
  • এলো রে শ্রী দুর্গা

    বাণী

    এলো রে শ্রী দুর্গা
    শ্রী আদ্যাশক্তি মাতৃরূপে পৃথিবীতে এলো রে
    গভীর স্নেহরস ধারায় কল্যাণ কৃপা করুণায় স্নিগ্ধ করিতে॥
    উর্ধ্বে উড়ে যায় শান্তির পতাকা
    শুভ্র শান্ত মেঘ আনন্দ বলাকা
    মমতার অমৃত লয়ে শ্যামা, মা হয়ে এলো রে
    সকলের দুঃখ দৈন্য হরিতে॥
    প্রতি হৃদয়ের শতদলে শ্রীচরণ ফেলে
    বন্ধন কারার দুয়ার ঠেলে।
    এলো রে দশভুজা সর্বমঙ্গলা মা হয়ে
    দুর্বলে দুর্জয় করিতে নিরন্নে অন্ন দিতে॥
    
  • এসো আনন্দিতা ত্রিলোক-বন্দিতা

    বাণী

    এসো আনন্দিতা ত্রিলোক-বন্দিতা কর দীপান্বিতা আঁধার অবনি মা।
    ব্যাপিয়া চরাচর শারদ অম্বর ছড়াও অভয় হাসির লাবনি মা।।
    	সারাটি বরষ নিখিল ব্যথিত
    	চাহিয়া আছে মা তব আসা-পথ,
    ধরার সন্তানে ধর তব কোলে ভুলাও দুঃখ-শোক চির-করুণাময়ী মা।।
    	অটুট স্বাস্থ্য দীর্ঘ পরমায়ু
    	দাও আরো আলো নির্মল বায়ু,
    দশ হাতে তব আনো মা কল্যাণ পীড়িত-চিত গাহে অকাল জাগরণী মা।।
    
  • এসো মা ভারত-জননী আবার

    বাণী

    এসো	মা ভারত-জননী আবার জগৎ-তারিণী সাজে।
    	রাজরানী মা’র ভিখারিনী বেশ দেখে প্রাণে বড় বাজে॥
    		শিশু-জগতেরে মায়ের মতন,
    		তুমি মা প্রথম করিলে পালন,
    আজ	মাগো তোরই সন্তানগণ কাঁদিছে দৈন্য-লাজে॥
    		আঁধার বিশ্বে তুমি কল্যাণী
    		জ্বালিলে প্রথম জ্ঞান-দীপ আনি;
    	হইলে বিশ্ব-নন্দিতা রানী নিখিল নর-সমাজে॥
    		দেখা মা পুন সে অতীত মহিমা,
    		মুছে দে ভীরুতা গ্লানির কালিমা,
    	রাঙায়ে আবার দশদিক-সীমা দাঁড়া মা বিশ্ব-মাঝে॥
    
  • ওরে আয় অশুচি আয়রে পতিত

    বাণী

    ওরে		আয় অশুচি আয়রে পতিত এবার মায়ের পূজা হবে।
    যেথা		সকল জাতির সকল মানুষ নির্ভয়ে মা’র চরণ ছোবে।
    		(সেথা) এবার মায়ের পূজা হবে॥
    সেথা		নাই মন্দির নাই পূজারি নাই শাস্ত্র নাইরে দ্বারী,
    সেথা		মা বলে যে ডাকবে এসে মা তাহারেই কোলে লবে॥
    মা		সিংহ-আসন হ’তে নেমে বসেছে দেখ্ ধূলির তলে
    মার		মঙ্গল ঘট পূর্ণ হবে সবার ছোঁওয়া তীর্থ জলে।
    মোরা		জননীকে দেখিনি, তাই ভাইকে আঘাত হেনেছে ভাই,
    আজ		মাকে দেখে বুঝবি মোরা এক মা’র সন্তান সবে।
    এবার		ত্রিলোক জুড়ে পড়বে সাড়া মাতৃ মন্ত্র মাভৈঃ রবে॥
    
  • ওরে আলয়ে আজ মহালয়া

    বাণী

    ওরে	আলয়ে আজ মহালয়া মা এসেছে ঘর।
    তোরা 	উলু দে রে, শঙ্খ বাজা, প্রদীপ তুলে ধর্‌।।
    		(এলো মা, আমার মা)
    		মাকে ভুলে ছিলাম ওরে
    		কাজের মাঝে মায়ার ঘোরে,
    আজ	বরষ পরে মাকে ডাকার মিলল অবসর।।
    	মা ছিল না ব’লে সবাই গেছে পায়ে দ’লে,
    	মার খেয়েছি যত তত ডেকেছি মা ব’লে।
    		মা এসেছে ছুটে রে তাই 
    		ভয় নাইরে আর ভয় নাই,
    মা	অভয়া এনেছে রে দশ হাতে তাঁর বর।।
    
  • জয় দুর্গা জননী দাও শক্তি

    বাণী

    [ওম্ সর্বমঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থসাধিকে।
    শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরী নারায়ণী নমোস্তুতে।।]
    	জয় দুর্গা, জননী, দাও শক্তি
    	শুদ্ধ জ্ঞান দাও, দাও প্রেম-ভক্তি,
    অসুর-সংহারি কবচ-অস্ত্র দাও মা, বাঁধি বাহুতে।।
    অর্থ-বিভব দাও, যশ দাও মাগো, প্রতি ঘরে দাও শান্তি,
    পরম-অমৃত দাও, দূর কর’ মৃত্যু-সম বাঁচিয়া থাকার এই ক্লান্তি।
    	শ্রান্তিবিহীন উৎসাহ দাও কর্মে
    	নবীন দীক্ষা দাও শক্তির ধর্মে
    মোদের রক্ষা কর’ বরাভয় বর্মে, চিন্ময় জ্যোতি দাও প্রতি অণুতে।।
    
  • জাগো যোগমায়া জাগো মৃন্ময়ী

    বাণী

    জাগো যোগমায়া জাগো মৃন্ময়ী চিন্ময়ী রূপে জাগো,
    তব কনিষ্ঠা কন্যা ধরণী কাঁদে আর ডাকে মা গো।।
    	বরষ বরষ কৃথা কেঁদে যাই
    	কৃথাই মা তোর আগমনী গাই
    সেই কবে মা আসিলি ত্রেতায় আর আসিলি না গো।।
    কোটী নয়নের নীল পদ্ম মা ছিঁড়িয়া দিলাম চরণে তোর,
    জাগিলিনে তুই, এলিনে ধরায় মা কবে হয় হেন কঠোর।
    	দশ ভুজে দশ গ্রহরণ ধরি’
    	আয় মা দশ দিক আলো করি’
    দশ হাতে আন্‌ কল্যাণ ভরি’ নিশীথ-শেষে ঊষা গো।।
    
  • দুঃখ সাগর মন্থন শেষ ভারতলক্ষ্মী আয় মা আয়

    বাণী

    দুঃখ সাগর মন্থন শেষ ভারতলক্ষ্মী আয় মা আয়
    কবে সে ডুবিলি অতল পাথারে উঠিলি না আর হায় মা হায়॥
    	মন্থনে শুধু উঠে হলাহল
    	শিব নাই পান কে করে গরল
    অমৃত ভান্ড লয়ে আয় মাগো জ্বলিয়া মরি বিষের জ্বালায়॥
    হরিৎ ক্ষেত্রে সোনার শস্যে দুলে না আর তোর আঁচল
    শুকায়েছে মাগো মায়ের স্তন্য গাভীর দুগ্ধ নদীর জল।
    	চাই না মোক্ষ চাই মা বাঁচিতে
    	অক্ষয় আয়ু লয়ে ধরণীতে
    চাই প্রাণ চাই ক্ষুধায় অন্ন মুক্ত আলোকে মুক্ত বায়॥
    
  • ভারতলক্ষ্মী মা আয় ফিরে এ ভারতে

    বাণী

    ভারতলক্ষ্মী মা আয় ফিরে এ ভারতে
    ব্যথায় মোদের চরণ ফেলে অরুণ আশার সোনার রথে॥
    অশ্রু গঙ্গার জলে ধুই মা তোর চরণ নিতি
    ত্রিশ কোটি কণ্ঠে বাজে রোদনে তোর বোধনগীতি
    আয় মা দলিত রাঙা হৃদয় বিছানো পথে॥
    বিজয়া তোর হ’ল কবে শতাব্দী চলিয়া যায়
    ভারত-বিজয়-লক্ষ্মী ভারতে ফিরিয়া আয়
    বিসর্জনের কান্না মা এবার তুই এসে থামা
    সফল কর এ তপস্যা মা স্থান দে স্বাধীন জগতে॥
    
  • মা এসেছে মা এসেছে মা এসেছে রে

    বাণী

    মা এসেছে, মা এসেছে, মা এসেছে রে
    মা এসেছে, মা এসেছে উঠ্‌ল কলরোল।
    (ওরে) দিকে দিকে বেজে ওঠে সানাই কাঁসর ঢোল॥
    ভরা নদীর কূলে কূলে, শিউলি শালুক পদ্মফুলে।
    মায়ের আসার আভাস দুলে আনন্দ-হিল্লোল,
    সেই খুশিতে পড়ল নিটোল নীল আকাশে টোল্॥
    বিনা কাজের মাতন রে আজ কাজে দে ভাই ক্ষমা,
    বে-হিসাবী করব খরচ সাধ যা আছে জমা।
    এক বছরের অতৃপ্তি ভাই, এই ক’দিনে কিসে মিটাই,
    কে জানে ভাই ফিরব কিনা আবার মায়ের কোল্ ।
    আনন্দে আজ আনন্দকে পাগল ক’রে তোল্॥
    
  • যার মেয়ে ঘরে ফিরল না আজ

    বাণী

    যার মেয়ে ঘরে ফিরল না আজ তার ঘরে তুই যা মা উমা!
    আজ ঘুম নাই যে মায়ের চোখে সেই মাকে তুই জড়িয়ে ঘুমা॥
    (মা)	এমন আনন্দেরই হাটে
    	কেঁদে যাহার দিবস কাটে
    ‘মা আমি এসেছি’ বলে, সেই জননীর খা মা চুমা॥
    যে মা’র বুক শূন্য আজি, কাঁদে আয় রে গোপাল বলে,
    মা! তোর দুই কুমার নিয়ে, তুলে দে সেই শূন্য কোলে।
    	ওমা! এই কটি দিন বিপুল স্নেহে
    	তুমি বিরাজ কর প্রতি গেহে;
    সকল অভাব পূর্ণ ক’রে আনন্দ দে শান্তি দে মা॥