নাইতে এসে ভাটির স্রোতে কলসি গেল ভেসে

বাণী

নাইতে এসে ভাটির স্রোতে কলসি গেল ভেসে
সেই দেশে যাইও রে কলসি, বন্ধু রয় যে দেশে।।
জলকে এসে' কাল সকালে কখন মনের ভুলে
ভাসিয়েছিলাম বন্ধুর লাগি' খোঁপার কুসুম খুলে'
কূলে এসে লাগলো সে ফুল আজকে বেলাশেষে।।
কালকে আমার খোঁপার কুসুম পায়নি খুজেঁ যারে,
কলসি আমার যাও রে ভেসে' খুঁজে আনো তারে।
আমার নয়ন-জল নিয়ে যাও, ঢেলো বন্ধুর পা'য়;
পিদিম জ্বেলে' রইব জেগে তাহারি আশায়
আর কতদিন রইব এমন যোগিনীরই বেশে।।

ও বাবা! তুর্কী-নাচন নাচিয়ে দিলে

বাণী

	ও বাবা! তুর্কী-নাচন নাচিয়ে দিলে।
(ওসে)	কোন্ অভাগা অঙ্ক-লক্ষ্মী নাম দিল এই শঙ্খ-চিলে।।
		দিন রাত্তির অঙ্ক কষে
		পান্ হতে চুন কখন্ খসে,
	স্ত্রী ব’লে আন্‌নু ঘরে শাড়ি পরা কোন্ উকিলে।।
	প্রাণ-পাখি মোর খাঁচা-ছাড়া, (এই) ঝুল্‌তি বেণীর গুল্‌তি ঢিলে’
	মাতঙ্গিনী মহিষিণী গুঁতিয়ে ফাটায় পেটের পিলে।
		যেমন বাঘ দেখে ছাগ ছুটেরে ভাই
		তেমনি কাছা খুলে পালিয়ে বেড়াই
	ওগো মাগো এসে রক্ষা কর হালুম-বাঘায় ফেল্‌ল গিলে।।

ভেঙো না ভেঙো না ধ্যান

বাণী

ভেঙো না ভেঙো না ধ্যান হে আমার ধ্যানের দেবতা।
পূজা লহ, অর্ঘ্য লহ ক’য়ো না ক’য়ো না কথা।।
পাষাণ মূরতি তুমি পাষাণ হইয়া থাকো,
মন্দির-বেদী হতে ধরার ধূলায় নেমো নাকো।
তুমিও মাটির মানুষ বুঝায়ে দিও না ব্যথা।।
সহিবে সকলি স্বামী হেনো হেলা ব্যথা দিও,
সহিবে না অপমান ভালোবাসার আমার হে প্রিয়,
থাক তুমি হিয়ার মাঝে তোমার মন্দির যথা।।

সন্ধ্যা ঘনালো আমার বিজন ঘরে

বাণী

সন্ধ্যা ঘনালো আমার বিজন ঘরে তব গৃহে জ্বলে বাতি।
হাসিয়া ফুরায় তব উৎসব-নিশি (প্রিয়) পোহায় না মোর রাতি ॥
	আমার আয়ুর ঝরা ফুলগুলি ল’য়ে
	দোলে তব গলে মিলনের মালা হ’য়ে,
তোমার ভবনে আলোর দীপালি জ্বলে আঁধার আমার সাথি ॥
মোর মালঞ্চে ঘুমায়ে পড়েছে কুহু, নীরব হয়েছে গান -,
তোমার কুঞ্জে গানের পাখিরা বুঝি তুলিয়াছে কলতান।
	পৃথিবীর আলো মোর চোখে নিভে আসে,
	বাজিছে বাঁশরি তোমার মিলন-রাসে;
ওপারের বাঁশি আমারে ডাকিবে কবে আছি তাই কান পাতি’ ॥

নয়নে ঘনাও মেঘ মালবিকা

বাণী

নয়নে ঘনাও মেঘ, মালবিকা!
গগনে জাগাও তব নীরদ-লিখা।।
বিদ্যুৎ হানে যদি গরজায় বাজ
সুন্দর মৃত্যুরে নাহি ভয় আজ,
আমার এ বনে এসো মনোবালিকা।।
ঝরুক এ শিরে মোর ঘন বরষা
ফুটিবে কাননে ফুল আছে ভরসা,
এসো জল-ছল-ছল পথে অভিসারিকা।।

ওরে তরু তমাল শাখা

বাণী

ওরে	তরু তমাল শাখা।
আছে	পল্লবে তোর মোর বল্লভ কৃষ্ণ কান্তি মাখা।
আমি	তাইতো তমাল কুঞ্জে আসি
	তাইতো তমাল ভালোবাসি,
তোর	পথ-ছায়ায় আছে যে তার (কৃষ্ণ) চরণ-চিহ্ন আঁকা।।
	তোর চূড়ায় ময়ূর নাচে,
যেন	কৃষ্ণ-ময়ূর পাখা তাই দেখে পরান বাঁচে —
	কৃষ্ণহারা পরান আমার বাঁচে।
	তোর শাখাতে স্বর্ণ-লতা দোলে
	আমি ভাবি শ্যামের পীত বসন বলে,
মোর	অঙ্গ যেন থাকে রে তোর কালো ছায়ায় ঢাকা
তোর	ছায়া নয় রে শ্যামের ছোঁওয়া, যেন শ্যামের শীতল ছোঁওয়া।।