অরুণ-কান্তি কেগো যোগী ভিখারী

বাণী

অরুণ-কান্তি কে গো যোগী ভিখারি।
নীরবে হেসে দাঁড়াইলে এসে
প্রখর তেজ তব নেহারিতে নারি ॥
রাস-বিলাসিনী আমি আহিরিণী
শ্যামল কিশোর রূপ শুধু চিনি,
অম্বরে হেরি আজ একি জ্যোতিঃপুঞ্জ
হে গিরিজাপতি! কোথা গিরিধারী ॥
সম্বর সম্বর মহিমা তব, হে ব্রজেশ ভৈরব,
		আমি ব্রজবালা।
হে শিব সুন্দর, বাঘছাল পরিহর, ধর নটবর-বেশ
		পর নীপ-মালা।
নব মেঘ-চন্দনে ঢাকি’ অঙ্গজ্যোতি
প্রিয় হয়ে দেখা দাও ত্রিভুবন-পতি
পার্বতী নহি আমি, আমি শ্রীমতী
বিষাণ ফেলিয়া হও বাঁশরি-ধারী ॥

বরষ মাস যায় সে নাহি আসে

বাণী

বরষ মাস যায় — সে নাহি আসে, বরষ মাস যায়।
সখি রে সেই চাঁদ ওঠে নভে ফুলবনে ফুল ফোটে বৃথায়।।
একা সহি’ মৌন হৃদয়-ব্যথা,
আমার কাঁদন শুনি’ সে মোর যদি ব্যথা পায়।।
মরমর ধ্বনি শুনি’ পল্লবে চমকিয়া উঠি সখি
ভাবি বুঝি বঁধু মোর আসিল।
যে যায় চলিয়া, চলিয়া সে যায় চিরতরে
ফিরে আর আসে না সে হায়।।

আমায় নহে গো ভালবাস শুধু

বাণী

আমায় নহে গো – ভালবাস শুধু ভালবাস মোর গান।
বনের পাখিরে কে চিনে রাখে গান হ’লে অবসান।।
চাঁদেরে কে চায় – জোছনা সবাই যাচে,
গীত শেষে বীণা প’ড়ে থাকে ধূলি মাঝে;
তুমি বুঝিবে না বুঝিবে না —
আলো দিতে পোড়ে কত প্রদীপের প্রাণ।।
যে কাঁটা-লতার আঁখি-জল, হায়, ফুল হ’য়ে ওঠে ফুটে —
ফুল নিয়ে তায় দিয়েছ কি কিছু শূন্য পত্র-পুটে!
সবাই তৃষ্ণা মিটায় নদীর জলে,
কী তৃষা জাগে সে নদীর হিয়া-তলে —
বেদনার মহাসাগরের কাছে কর সন্ধান।।

কোথায় গেলি মাগো আমার

বাণী

কোথায় গেলি মাগো আমার খেলনা দিয়ে ভুলিয়ে রেখে
ক্লান্ত আমি খেলে খেলে এ সংসারে ও-মা ধুলা মেখে।।
	বলেছিলি সন্ধ্যা হ'লে
	ধুলা মুছে নিবি কোলে
ও-মা  ছেলেরে তুই গেলি ছ'লে পাইনে সাড়া ডেকে' ডেকে'।।
এ কি খেলার পুতুল মা গো দিয়েছিলি মন ভুলাতে
আধেক তাহার হারিয়ে গেছে আধেক ভেঙে আছে হাতে।
	এ পুতুলও লাগছে মা ভার
	তোর পুতুল তুই নে গো এবার
এখন সন্ধ্যা হলো ও-মা সন্ধ্যা হলো নামলো আঁধার
	ঘুম পাড়া মা আঁচল ঢেকে।।

সন্ধ্যার গোধূলি রঙে নাহিয়া

বাণী

সন্ধ্যার গোধূলি রঙে নাহিয়া।
কে এলে কাহারে চাহিয়া।।
মধুর লগনে অপরূপ বেশে
কেন দাঁড়ালে মম দ্বারে এসে,
দিনের শেষে ঝরা ফুলের দেশে —
	আসিলে চাঁদের তরণী বাহিয়া।।
অস্ত রবির রঙ ল’য়ে কোন্‌ যাদুকর
নিরমিল তোমার মূরতি মনোহর,
মনের পদ্ম-বনে বাণীর মধুকর —
	‘সুন্দর! সুন্দর!’ — ওঠে গাহিয়া।।

এলো কৃষ্ণ কানাইয়া তমাল বনে সাজো

বাণী

এলো কৃষ্ণ কানাইয়া তমাল বনে সাজো ঝুলনের সাজে
তারে গোপবালিকার মালা পরাব আজি এ রাখাল বাজে।।
নব নীপমালাপরি আসিল কিশোর হরি
বাজিল ঘন মেঘে বাঁশরি বৃষ্টিতে নূপুর বাজে।।
সে এসেছে ঐ মেঘ চন্দন মন্থন তনু গোপী বরণ এসেছে
নীল লাবনিতে ছাইয়া অবনি বিদ্যুত হাসি হেসেছে।
ঘনঘটা গগনে দোলা লাগায় মনে মনে।
দোলা লেগেছে, নয়নে মনে দোলা লেগেছে
শয়নে স্বপনে দোলা লেগেছে-বাঁধো বাঁধো ঝুলনা
খোঁপায় পরিয়া দোপাটি মালিকা সাজো সাজো অতুলনা
নির্দয় হৃদয়হীনে বাঁধিব হৃদয় মাঝে।।