আমি বাঁধন যত খুলিতে চাই

বাণী

আমি	বাঁধন যত খুলিতে চাই জড়িয়ে পড়ি তত।
	শুভদিন এলো না দিনে দিনে দিন হল হায় গত।।
		শত দুঃখ অভাব নিয়ে
		জগৎ আছে জাল বিছিয়ে
	অসহায় এ পরান কাঁদে জালে মীনের মত।।
	বোঝা যত কমাতে চাই ততই বাড়ে বোঝা,
	শান্তি কবে পাব কবে চল্‌ব হয়ে সোজা।
		দাও ব’লে হে জগৎ-স্বামী
		মুক্তি কবে পাব আমি?
কবে	উঠবে ফুটে জীবন আমার ভোরের ফুলের মত।।

জনম জনম তব তরে কাঁদিব

বাণী

জনম জনম তব তরে কাঁদিব।
যত হানিবে হেলা ততই সাধিব।।
	তোমারি নাম গাহি’ 
	তোমারি প্রেম চাহি’,
ফিরে ফিরে নিতি তব চরণে আসিব।।
জানি জানি বঁধু, চাহে যে তোমারে,
ভাসে সে চিরদিন নিরাশা-পাথারে।
	তবু জানি হে স্বামী
	কোন্ সে-লোকে আমি,
তোমারে পাব বুকে বাহুতে বাঁধিব।।

১. যত করিবে, ২. ফিরে ফিরে আমি তব চরণে আসিব, ৩. জীবন-স্বামী

অবিরাম জপ মন নারায়ণ নারায়ণ

বাণী

	অবিরাম জপ মন নারায়ণ নারায়ণ
যে	নাম করে ধ্যান যোগী ঋষি সুরাসুর নর।
	সীমা যাঁহার পায় না খুঁজি অসীম চরাচর।
যাঁর	করে শঙ্খ-গদা-পদ্মা-চক্র সুদর্শন,
যাঁর	অনন্ত লীলা, যাঁর অনন্ত প্রকাশ
	মধুকৈটভাসুর, কংসে যুগে যুগে করেন নাশ,
কভু	করাল ভীষণ কভু মদনমোহন।।
যার	মুখে গীতা হাতে বাঁশি নূপুর রাঙা পায়
কভু	শ্রীকৃষ্ণ গোকুলে কভু গোরা নদীয়ায়,
তারে	মন-গোপিনী উন্মাদিনী ডাকে অনুক্ষণ —
			তারে ডাকে অনুক্ষণ।।

পাঠান্তরঃ

নারায়ণ! নারায়ণ!
যে নাম জপেন ইন্দ্র-চন্দ্র-ব্রহ্মা-মহেশ্বর
যে নাম করেন ধ্যান যোগী সুরাসুর নর।
সীমা যাঁহার পায় না খুঁজি অসীম চরাচর।
যাঁর করে শঙ্খ-গদা-পদ্মা-চক্র সুদর্শন,
			নারায়ণ! নারায়ণ!
যাঁর অনন্ত লীলা যাঁর অনন্ত প্রকাশ
মধুকৈটভাসুর কংসে যুগে যুগে করেন নাশ
কভু করাল ভীষণ কভু মদনমোহন,
			নারায়ণ! নারায়ণ!
যার মুখে গীতা হাতে বাঁশি নূপুর রাঙা পায়
কভু শ্রীকৃষ্ণ গোকুলে কভু গোরা নদীয়ায়
মোর মন-গোপিনী উন্মাদিনী ডাকে অনুক্ষণ,
			নারায়ণ! নারায়ণ!

আল্লা রসুল তরু আর ফুল

বাণী

আল্লা রসুল তরু আর ফুল প্রেমিক-হৃদয় জানে।
কেহবা তরুরে ভালোবাসে ভাই, কেহ ফুল ধ’রে টানে।।
কেহবা ফুলের মধু চায়, কেহ চায় সে-গাছের ছায়া
গাছের ছায়ায় জুড়াইয়া পায় গুল্ সুবাসের মায়া,
তুরু ছুঁয়ে বোঝে আল্লা রসুলে রসলীলা কোন্‌খানে।।
কোন জন চাহে গুলের খশ্‌বু, কোন জন চাহে গুল্
খশ্‌বুর সাথে ফুলেরেও চাহে প্রেমিক যে বুল্‌বুল।
জালালের সাথে জামালেও চাহে, প্রেমিক যে বুল্‌বুল।।
আল্লারে ভালোবেসে যার গেছে সকল দ্বিধা ও ভয়
রসুল তাহারে প্রেম দিয়ে কন্, আল্লা যে প্রেমময়,
তিনি যে কেবল বিচারক নন, আল্লা যে প্রেমময়,
মজনুর মত দিওয়ানা সে যে লাইলার মধুপানে।।

কত ফুল তুমি পথে ফেলে দাও

বাণী

কত ফুল তুমি পথে ফেলে দাও (প্রিয়) মালা গাঁথ অকারনে
আমি চয়েছিনু একটি কুসুম সেই কথা পড়ে মনে।।
	তব ফুলবনে কত ছায়া দোলে
	জুড়াইতে চেয়েছিনু তারি তলে
চাহিলে না ফিরে চলে গেলে ধীরে ছায়া-ঢাকা অঙ্গনে।।
অঞ্জলি পাতি' চেয়েছিনু, তব ভরা ঘটে ছিল বারি
শুষ্ক-কন্ঠে ফিরিয়া আসিনু পিপাসিত পথচারী।
	বহুদিন পরে দাঁড়াইনু এসে
	তোমারি দুয়ারে উদাসীন বেশে
শুকানো মালিকা কেন দিলে তুমি তব ভিক্ষার সনে।।

বন তমালের শ্যামল ডালে দোলে ঝুলন

বাণী

বন তমালের শ্যামল ডালে দোলে ঝুলন দোলায় যুগল রাধা শ্যাম।
কিশোরী পাশে কিশোর হাসে ভাসে আনন্দ সাগরে আজ ব্রজধাম।।
	তড়িত লতায় যেন জড়িত জলধরে
	ওগো যুগল রূপ হেরি মুনির মনোহরে
পুলকে গগন ছাপিয়া বারি করে বাজে যমুনা তরঙ্গে শ্যাম শ্যাম নাম।।
	বন ময়ুর নাচে ঘন দেয়ার তালে
	দোলা লাগে কেতকী কদম ডালে।
আকাশে অনুরাগে ইন্দ্রধনু জাগে হেরে ত্রিলোক থির হয়ে রূপ অভিরাম।।