কুহু কুহু কুহু কুহু কোয়েলিয়া

বাণী

কুহু কুহু কুহু কুহু কোয়েলিয়া
কুহরিল মহুয়া-বনে
চমকি জাগিনু নিশীথ শয়নে।।
শূন্য ভবনে মৃদুল সমীরে
প্রদীপের শিখা কাঁপে ধীরে ধীরে
চরণ-চিহ্ন রাখি দলিত কুসুমে
	চলিয়া গেছ তুমি দূর-বিজনে।।
বাহিরে ঝরে ফুল আমি ঝুরি ঘরে
বেণু-বনে সমীরণ হাহাকার করে
ব’লে যাও কেন গেলে এমন ক’রে
	কিছু নাহি ব’লে সহসা গোপনে।।

আঁচলে হংস-মিথুন আঁকা

বাণী

আঁচলে হংস-মিথুন আঁকা
		বলাকা-পে’ড়ে শাড়ি দুলায়ে।
চলিছে কিশোরী শ্যামা একা
		রুমুঝুমু বাজে নূপুর মৃদু পায়ে।।
ভয়ে ভয়ে চলে আধো-আঁধারে
বিরহী বন্ধুর দূর অভিসারে,
পথ কাঁদে যেয়ো না যেয়ো না যেয়ো না ওগো
		থামো ক্ষণেক এ ঠাঁয়ে।।

আমার মা যে গোপাল-সুন্দরী

বাণী

	আমার মা যে গোপাল-সুন্দরী। 
যেন	এক বৃন্তে কৃষ্ণ-কলি অপরাজিতার মঞ্জরি।।
মা	আধেক পুরুষ অর্ধ অঙ্গে নারী
	আধেক কালি আধেক বংশীধারী,
	অর্ধ অঙ্গে পীতাম্বর আর অর্ধ অঙ্গে দিগম্বরী।।
মা	সেই পায়ে প্রেম-কুসুম ফোটায় নূপুর-পরা যে চরণ,
মা'র	সেই পায়ে রয় সর্প-বলয় যে পায়ে প্রলয়- মরণ। 
	মার আধ-ললাটে অগ্নি-তিলক জ্বলে
	চন্দ্রলেখা আধেক ললাট তলে,
	শক্তিতে আর ভক্তিতে মা আছেন যুগল রূপ ধরি'।।

যাদের তরে এ সংসারে খাটনু জনম ভর

বাণী

যাদের তরে এ সংসারে খাটনু জনম ভর,
তাদের কেউ হবে না হে নাথ মরণ-সাথি মোর।।
	শত পাপ শত অধর্ম ক’রে
বিভব রতন আনলেম ঘরে
সে সকল ভাগ বাটোয়ারা ক’রে খাবে পাঁচ ভুত চোর।।
জীবনে তোমার লই নাই নাম তোমাতে হয় নাই মতি
মরণ-বেলায় তাই কাঁদি প্রভু কি হবে মোর গতি।
	চেয়ে দেখি আজ  যাবার বেলায়
	কর্ম কেবল মোর সাথে যায়
তরিবার আর না দেখি উপায় বিনা পদতরী তোর।।

নদীর নাম সই অঞ্জনা

বাণী

নদীর নাম সই অঞ্জনা নাচে তীরে খঞ্জনা,
		পাখি সে নয় নাচে কালো আঁখি।
আমি যাব না আর অঞ্জনাতে জল নিতে সখি লো,
		ঐ আঁখি কিছু রাখিবে না বাকি॥
সেদিন তুলতে গেলাম দুপুর বেলা
কলমি শাক ঢোলা ঢোলা (সই)
হ’ল না আর সখি লো শাক তোলা,
আমার মনে পড়িল সখি, ঢল ঢল তা’র চটুল আঁখি
ব্যথায় ভ’রে উঠলো বুকের তলা।
ঘরে ফেরার পথে দেখি,
নীল শালুক সুঁদি ও কি
ফু’টে আছে ঝিলের গহীন জলে।
আমার অমনি পড়িল মনে
সেই ডাগর আঁখি লো
ঝিলের জলে চোখের জলে হ’ল মাখামাখি॥

কুল রাখ না–রাখ সে তুমি জান

বাণী

কুল রাখ না–রাখ তুমি সে জান।
গোকুলে তোমার কাজ কুল ভোলানো।।
মহতের পিরিতি বালির বাঁধ সম।
কভু হাতে দাও দড়ি কভু চাঁদ আন।।
কভু তুমি রাধার, চন্দ্রাবলীর কভু
তুমি যখন যা’র তখন তা’র দিকে টান।
রাজার অপরাধের নালিশ কোথায় করি।
তুমি জান শুধু বাঁশিতে মন–ভেজানো।।