নিশীথ-স্বপন তোর ভু’লে যা

বাণী

নিশীথ-স্বপন তোর ভু’লে যা নিশি-শেষে।
বাদল-অবসানে আকাশ উঠেছে হেসে।।
চখার পাশে আসে বিরহ-রাতের চখি
আঁধার লুকাল ঐ দূর বনে এলোকেশে।।
শরম-রাঙা গালে জাগিল কুমারী ঊষা,
তরুণ অরুণ ঐ এসো রাঙা বর-বেশে।।

পিয়া পিয়া পিয়া পাপিয়া পুকারে

বাণী

পিয়া পিয়া পিয়া পাপিয়া পুকারে।
চোখ গেল বিরহিণীর বধূর মনের কথা —
	কাঁদিয়া বেড়ায় বাদল-আঁধারে॥
প্রথম বিরহ অল্প-বয়সী
ভুলি’ গৃহকাজ রহে বাতায়নে বসি’,
পাখির পিয়া-স্বর বুকে তার তোলে ঝড় —  
	অঞ্চলে আঁখি-জল মোছে বারে বারে ॥
পরেনি বেশ, বাঁধেনি কেশ ম্লান-মুখী দীপালিকা,
নীরব দেহে যেন শুকায়ে যায় ওগো মালতীর মালিকা।
বনের বিহঙ্গ ছাড়ি’ বিহগীরে
যায় না বিদেশে, রহে সুখ-নীড়ে,
বলো কেমনে, ওগো প্রেমের বিধাতা —
	বিরহ-দাহ সহি’ হিয়ার মাঝারে ॥

এলো এলো শবেরাত তোরা জ্বাল্ রে বাতি

বাণী

এলো এলো শবেরাত তোরা জ্বাল্ রে বাতি।
হোক রওশন মুসলিম-জাহানের অন্ধকার রাতি।।
আজ ফিরদৌসের হুর-পরীরা আলোতে রাঙে
চাঁদ সেতারার প্রদীপ ভাসায় আস্‌মানি গাঙে,
ফেরেশ্‌তা সব হয়েছে আজ মোদের সাথি।।
আজ জ্বাল্‌রে বাতি প্রিয়জনের আঁধার গোরে
আজ বরষ পরে লুকিয়ে তারা এসেছে ঘরে,
রাখ্‌ তাদের তরে অশ্রু-ভেজা হৃদয় পাতি।।

নাই হ'ল মা বসন ভূষণ এই ঈদে আমার

বাণী

নাই হ'ল মা বসন ভূষণ এই ঈদে আমার।
আল্লা আমার মাথার মুকুট রসুল গলার হার।।
নামাজ রোজার ওড়না শাড়ি, ওতেই আমায় মানায় ভারি,
কল্‌মা আমার কপালে টিপ, নাই তুলনা তার।।
হেরা গুহারই হীরার তাবিজ, কোরান বুকে দোলে
হাদিস্‌ ফেকাহ্‌ বাজুবন্দ্‌ দেখে পরাণ ভোলে।
হাতে সোনার চুড়ি যে মা, হাসান হোসেন মা ফাতেমা,
মোর অঙ্গুলিতে অঙ্গুরি, মা নবীর চার ইয়ার।।

কেন আসে কেন তা’রা চ’লে যায়

বাণী

কেন আসে, কেন তা’রা চ’লে যায় ক্ষণেক তরে।
কুসুম না ফুটিতে কেন ফুল-মালি
ছিঁড়িয়া সাজি ভরে, কানন ক’রে খালি,
কাঁটার স্মৃতি বেঁধে লতার বুকে, হায়, ব্যথা-ভরে।।
	ছাড়িয়া স্নেহ-নীড় সুদূর বনছায়
	বিহগ-শিশু কেন সহসা উ’ড়ে যায়,
কাঁদে জননী তা’র ঝরা পালকখানি বুকে ঘ’রে।।

জোছনা-হসিত মাধবী নিশি

বাণী

জোছনা-হসিত মাধবী নিশি আজ।
পর পর প্রিয়া বাসন্তি-রাঙা সাজ।।
রাঙা কমল-কলি দিও কর্ণ-মূলে
পর সোনালি চেলি নব সোনাল্ ফুলে,
স্বর্ণলতার প’র সাতনরী-হার আজি উৎসব-রাত,
		রাখ রাখ গৃহ-কাজ।।
পর কবরী-মূলে নব আমের মুকুল
হাতে কাঁকন পর গেঁথে অতসীর ফুল,
দূরে গাহুক ডাহুক পাখি সখি, মুখর নিলাজ।।