মওলা আমার সালাম লহ এ সংসারের কাজে

বাণী

মওলা আমার সালাম লহ এ সংসারের কাজে।
দ্বীন-দুনিয়ার দুই কাজে মোর থেকো হিয়ার মাঝে।।
	কাজা ক’রে নামাজ রোজা
	না বই যেন পাপের বোঝা,
দুনিয়াদারী ভুলে যেন দহি’ দুঃখ-লাজে।।
সঞ্চিত দৌলতের কিছু দান জাকাতে যেন ফের,
দান ক’রে মোর সব না হারাই, শক্তি রেখো দানে।
	কোরান হ’তে নীতি নিয়ে
	কাজে যেন দেই বিলিয়ে,
যে কাবার পথে হই বিবাগী মোসাফিরের সাজে।।

গঙ্গা সিন্ধু নর্মদা কারেরী যমুনা ঐ

বাণী

গঙ্গা সিন্ধু নর্মদা কারেরী যমুনা ঐ
বাহিয়া চলেছে আগের মতন, কই রে আগের মানুষ কই।।
		মৌনী স্তব্ধ সে হিমালয়
		তেমনি অটল মহিমময়
নাই তার সাথে সেই ধ্যানী ঋষি, আমরাও আর সে জাতি নই।।
		আছে সে আকাশ ইন্দ্র নাই
		কৈলাসে সে যোগীন্দ্র নাই
অন্নদা-সুত ভিক্ষা চাই কি কহিব এরে কপাল বই।।
		সেই আগ্রা সে দিল্লী ভাই
		প’ড়ে আছে, সেই বাদশা নাই
নাই কোহিনুর ময়ূর-তখ্ত নাই সে বাহিনী বিশ্বজয়ী।
		আমরা জানি না, জানে না কেউ
		কূলে ব’সে কত গণিব ঢেউ
দেখিয়াছি কত, দেখিব এও নিঠুর বিধির লীলা কতই।।

কানাই রে কই তোর চূড়া বাঁশরি

বাণী

নিত্যানন্দ	:	কানাই রে কই তোর চূড়া বাঁশরি!
			তুই নাকি সেই নন্দদুলাল এলি নদীয়ায় ব্রজ পাশরি’।।
নিমাই		:	কি পুছসি আমারে ভাই
			এবার চূড়া বাঁশরি নাই,
			ব্রজের খেলা বাঁশির তান
			ন’দের খেলা হরি-গান।
			ব্রজের বেশ ধড়াচূড়া
			ন’দের বেশ কৌপীন পরা,	
			ব্রজের খেলা রাখাল হয়ে,
			ন’দের খেলা ধূলি ল’য়ে।
নিত্যানন্দ	:	নদীয়াতে বিষ্ণুপ্রিয়া, ব্রজের রাইকিশোরী।।

নাটক : ‘বিষ্ণুপ্রিয়া’ (নিত্যানন্দ ও নিমাইয়ের গান)

এই আমাদের বাংলাদেশ

বাণী

এই আমাদের বাংলাদেশ এই আমাদের বাংলাদেশ
যে দিকে চাই স্নিগ্ধ শ্যামল চোখ জুড়ানো রূপ অশেষ।।
চন্দনিত শীতল বাতাস বয় এ দেশে নিরন্তর
জোছনা সম কোমল হয়ে আসে হেথায় রবির কর
জীবন হেথায় স্নেহ সরস সরল হৃদয় সহজ বেশ।।
নিত্য হেথা করছে মেঘে স্বর্গ হতে শান্তি জল
মাঠে ঘাটে লক্ষ্মী হেথায় ছড়িয়ে রাখে ফুল কমল।
হাঙ্গোর কুমির শার্দুল সাপ খেলার সাথি এই জাতির
দিল্লির যশ করল হরণ এই দেশেরি প্রতাপ বীর
একদা এই দেশের ছেলে জয় করেছে দেশ বিদেশ।।

রেকর্ড: ‘প্রতাপদিত্য’, (নাটিকার: যোগেশ চৌধুরী)

আজি চৈতী হাওয়ার মাতন লাগে

বাণী

আজি	চৈতী হাওয়ার মাতন লাগে হলুদ চাঁপার ডালে ডালে।
	তালী বনে বাজে তারি করতালি ঐ তালে তালে।।
		ভ্রমর মুখে গুনগুনিয়ে
		যায় সে মৃদু সুর শুনিয়ে
	শুকনো পাতার মর্মরে তার নূপুর বাজে রুনুঝুনিয়ে।।
	ফুলে পাতায় রঙ মাখায় সে ফিকে সবুজ নীলে লালে
আজি	ওড়ে তাহার রঙের নিশান প্রজাপতির পাখার পালে পালে।।

রেকর্ড-নাটিকা, ‘বাসন্তিকা’

বিজন গোঠে কে রাখাল বাজায় বেণু

বাণী

	বিজন গোঠে কে রাখাল বাজায় বেণু
আমি	সুর শুনে তা'র বাউল হয়ে এনু (গো)।।
	ঐ সুরে পড়ে মনে কোন সুদুর বৃন্দাবনে
যেত	নন্দ-দুলাল ব্রজ-গোপাল বাজিয়ে বেণু বনে
পথে	লুটতো কেঁদে গোপাবালা, ভূরতো তৃণ-ধেণু গো
		কেঁদে ভুলতো তৃণ-ধেণু।।
কবে	নদীয়াতে গোরা
ও ভাই	ডেকেছিল এমনি সুরে এমনি পাগল-করা।
কেঁদে	ডাকতো বৃথাই শচীমাতা, সাধতো বসুন্ধরা,
প্রেমে	গ'লে যত নর-নারী যাচতো পদ-বেণু গো
		তারা যাচতো পদ-রেণু।।