বাণী
সই চাঁদ কত দূরে। ফাল্গুন সন্ধ্যার রজনীগন্ধা সম — পথ চেয়ে রই, আঁখি ঝুরে।। সন্ধ্যামালতীর কলি ফুটিতে গিয়া নিরাশায় পড়িয়াছি ঢুলি, বাজিয়া শ্রান্ত হয়ে থামিয়াছে সুর ভ্রমর নূপুরে।।
রাগ ও তাল
রাগঃ
তালঃ
সই চাঁদ কত দূরে। ফাল্গুন সন্ধ্যার রজনীগন্ধা সম — পথ চেয়ে রই, আঁখি ঝুরে।। সন্ধ্যামালতীর কলি ফুটিতে গিয়া নিরাশায় পড়িয়াছি ঢুলি, বাজিয়া শ্রান্ত হয়ে থামিয়াছে সুর ভ্রমর নূপুরে।।
রাগঃ
তালঃ
যাহা কিছু মম আছে প্রিয়তম সকলি নিয়ো হে স্বামী যত সাধ আশা প্রীতি ভালোবাসা সঁপিনু চরণে আমি॥ ধ’রে যা’রে রাখি আমার বলিয়া সহসা কাঁদায়ে যায় সে চলিয়া অনিমেষ, আঁখি তুমি ধ্রুবতারা জাগো দিবসযামী॥ মায়ারি ছলনায় পুতুল খেলায় ভুলাইয়া প্রভু রেখেছিলে আমায় ভুলেছি সে খেলা আজি অবেলায় তোমারই দুয়ারে থামি॥
রাগঃ সিন্ধু-কাফি
তালঃ যৎ (৮ মাত্রা)

মদির স্বপনে মম বন-ভবনে জাগো চঞ্চলা বাসন্তিকা, ওগো ক্ষণিকা।। মোর গগনের উল্কার প্রায় চমকি ক্ষণেক চকিতে মিলায় তোমার হাসির যুঁই-কণিকা।। পুষ্প ধনু তব মন-রাঙানো বঙ্কিম ভুরু হানো হানো। তোমার উতল উত্তরীয় আমার চোখে ছুঁইয়ে দিও (প্রিয়) আমি হব (ওগো) তোমার মালার মণিকা।।
রাগঃ
তালঃ কাহার্বা
শিল্পীঃ শ্রীকান্ত আচার্য্য

প্রজাপতি! প্রজাপতি! কোথায় পেলে ভাই এমন রঙ্গীন পাখা, টুকটুকে লাল–নীল ঝিলিমিলি আঁকা–বাঁকা।। তুমি টুলটুলে বন-ফুলে মধু খাও মোর বন্ধু হয়ে সেই মধু দাও ওই পাখা দাও সোনালী –রূপালী পরাগ মাখা।। মোর মন যেতে চায় না পাঠশালাতে প্রজাপতি! তুমি নিয়ে যাও সাথী ক’রে তোমার সাথে। তুমি হাওয়ায় নেচে নেচে যাও আজতোমার মত মোরে আনন্দ দাও এই জামা ভাল লাগে না, দাও জামা ছবি–আঁকা।।
তালঃ কাহার্বা
শিল্পীঃ সাদিয়া মল্লিক

ক্ষীণ তনু যৌবন ভার বইতে নারি ধীরে চল গোরী ধীরে ধীরে টলে চিকন কাঁখে ভরা গাগরি ভরে তায় ঘাঘরি। দেহ টুটে না যায় যেন নাগরি নীল চোলি ভিজিয়া না যায় নীরে।। কঠিন ধরা হানে বেদনা কোমল পায়ে মুছায়ে দিব ব্যথা ব’স এ বকুল ছায়ে ‘না’বলি মুচকিয়া হেসো না ফিরে ফিরে।। দাঁড়ায়ে কত পথিক বহিতে সই ভার তব যদি চাহ গো সখি ভার তব আমি লব দাও আমারে ঠাঁই, তব ঐ তনুর তীরে।।
রাগঃ
তালঃ ফের্তা

আসল যখন ফুলের ফাগুন, গুল্-বাগে ফুল চায় বিদায়। এমন দিনে বন্ধু কেন বন্ধুজনে ছেড়ে যায়॥ মালঞ্চে আজ ভোর না হতে বিরহী বুলবুল কাঁদে, না ফুটিতে দলগুলি তার ঝর্ল গোলাব হিম-হাওয়ায়॥ পুরানো গুল-বাগ এ ধরা, মানুষ তাহে তাজা ফুল, ছিঁড়ে নিঠুর ফুল-মালী আয়ুর শাখা হতে তায়॥ এই ধূলিতে হল ধূলি সোনার অঙ্গ বে-শুমার, বাদশা অনেক নূতন বধূ ঝরল জীবন-ভোরবেলায়॥ এ দুনিয়ার রাঙা কুসুম সাঁজ না হতেই যায় ঝ’রে, হাজার আফ্সোস, নূতন দেহের দেউল ছেড়ে প্রাণ পালায়॥ সামলে চরণ ফেলো পথিক, পায়ের নিচে মরা ফুল আছে মিশে এই সে ধরার গোরস্থানে এই ধূলায়॥ হল সময় — লোভের ক্ষুধা মোহন মায়া ছাড় হাফিজ, বিদায় নে তো ঘরের কাছে দূরের বঁধূ ডাকছে আয়॥
রাগঃ দুর্গা-মান্দ
তালঃ কাওয়ালি
শিল্পীঃ অনুপ ঘোষাল
স্বরলিপিকার: কাজী নজরুল ইসলাম
