বকুল ছায়ে ছিনু ঘুমায়ে গোপন পায়ে

বাণী

বকুল ছায়ে ছিনু ঘুমায়ে গোপন পায়ে আসিলে তুমি।
রাতের শেষে ভোরের মতন ভাঙিলে স্বপন নয়ন চুমি’॥
ফুলের বুকে মধুর সম আসিলে তুমি আামার প্রাণে
মরুর বুকে উঠিল ফুটে রঙিন কুসুম বেদন ভুলি’॥
জাগিয়া হেরি পরান ভরি উঠিতেছে ঢেউ এ কি এ ব্যথার
বেদনা যত মধুও তত হিয়াতে শরম নয়নে আশার।
অকালে ফাগুন আগুন শিখায় রাঙিল মনের কানন-ভূমি॥

খুলেছে আজ রঙের দোকান বৃন্দাবনে হোরির দিনে

বাণী

খুলেছে আজ রঙের দোকান বৃন্দাবনে হোরির দিনে।
প্রেম-রঙিলা ব্রজ-বালা যায় গো হেথায় আবির কিনে।।
	আজ গোকুলের রঙ মহলায়
	রামধনু ঐ রঙ পিয়ে যায়
সন্ধ্যা-সকাল রাঙতো না গো ঐ হোরির কুমকুম বিনে।।
রঙ কিনিতে এসে সেথায় রব শশী আকাশ ভেঙে'
এই ফাগুনী ফাগের রাগে অশোক শিমুল ওঠে রেঙে'।
আসে হেথায় রাধা-মাধব এই রঙেরই পথ চিনে।।

তব চলার পথে আমার গানের

বাণী

তব	চলার পথে আমার গানের ফুল ছড়িয়ে যাই গো।
তারা	ধুলায় প’ড়ে কেঁদে বলে ‘তোমার পরশ (আল্‌তা) হ’তে চাই গো।।
		ওরা রাঙা হ’য়ে অনুরাগের রসে
		তোমার চরণ-তলে পড়ে খ’সে,
	ওদের দ’লে যেও, নাই যদি হয় বক্ষে তেমার ঠাঁই গো।।
ওরা	বুক পেতে দেয় পায়ের কাছে, অশ্রু-টলমল,
বলে	‘ধূলির পথে চলো না গো, ফুলেরপেথে চল।’
	(তুমি)	চরণ ফেল কেন ভয়ে ভয়ে
		বিরহ মোর ফুটেছে ফুল হ’য়ে,
	কাঁটা আছে আমার বুকে, ফুলে কাঁটা নাই গো।।

কোন্‌ সে-সুদূর অশোক-কাননে

বাণী

কোন্‌ সে-সুদূর অশোক-কাননে বন্দিনী তুমি সীতা।
আর কতকাল জ্বলিবে আমার বুকে বিরহের চিতা।।
			সীতা — সীতা!!
	বিরহে তোমার অরণ্যচারী
	কাঁদিব রঘুবীর বল্কলধারী,
ঝরা চামেলির অশ্রু ঝরায়ে ঝুরিছে বন-দুহিতা।।
			সীতা — সীতা!!
তোমার আমার এই অনন্ত অসীম বিরহ নিয়া,
কত আদি কবি কত রামায়ন রচিবে, কে জানে প্রিয়া!
	বেদনার সুর-সাগর তীরে
	দয়িতা আমার এসো এসো ফিরে,
আবার আঁধার হৃদি-অযোধ্যা হইবে দীপান্বিতা।।
			সীতা — সীতা!!

নাটকঃ ‘বন্দিনী বিরহিনী সীতা’

ঝর ঝর ঝরে শাওন ধারা

বাণী

ঝর ঝর ঝরে শাওন ধারা।
ভবনে এলো মোর কে পথহারা।।
বিরহ রজনী একেলা যাপি
সঘনে বহে ঝড় সভয়ে কাঁপি,
উথলি’ উঠে ঢেউ কুটীরে নাহি কেউ —
গগনে নাহি মোর চন্দ্রতারা।।
নিভেছে গৃহদীপ নয়নে বারি,
আঁধারে তব মুখ নাহি নেহারি।
তোমার আকুল কুন্তল বাসে
চেনা দিনের স্মৃতি স্মরণে আসে,
আজি কি এলে মোর প্রলয়-সুন্দর —
	ঝলকে বিদ্যুতে আঁখি-ইশারা।।

চাঁদিনী রাতে মল্লিকা লতা

বাণী

চাঁদিনী রাতে মল্লিকা লতা।
আবার কহিতে চাহে কোন কথা।।
আবার ভ্রমর-নূপুর বাজে
কী যেন হারানো হিয়ার মাঝে,
আবার বেণুর উতলা রবে ব্যাকুল হ’য়ে
ওঠে গোপন ব্যথা।।
তনুর পিঞ্জর ভাঙিয়া কেন হায়,
না-জানা-আকাশে হৃদয় যেতে চায়।
বায়ুরে ডেকে বলে, বহিতে নারি আর
যে দিল, তা’রে দিও সুরভি মধু-ভাব,
কৃপা কর, আমি ঝরিয়া ম’রে যাই
সহিতে পারি না মাটির মমতা।।