মা গো আমায় শিখাইলি কেন আল্লা নাম

বাণী

মা গো আমায় শিখাইলি কেন আল্লা নাম।
নাম জপিলে আর হুঁশ থাকে না, ভুলি সকল কাম।।
লোকে বলে, আল্লাতালায় যায় না নাকি পাওয়া
ও-নাম জপিলে প্রাণে কেন বহে দখিন হাওয়া।
ও-নাম জপিলে হিয়ার মাঝে কেন এত ব্যথা বাজে,
কে তবে মা আমার বুকে কাঁদে অবিরাম।।
পুরুষরা সব মস্‌জিদে যায় আমি ঘরে কাঁদি
কে যেন কয় কানের কাছে তুই যে আমার বাঁদি —
			তাই ঘরে রাখি বাঁধি’।
মা গো আমার নামাজ রোজা খোদায় ভালোবাসা
ঐ নাম জপিলেই মেটে আমার বেহেশ্‌তের পিয়াসা,
শত ঈদের চাঁদও দিতে নারে আল্লাহ্ নামের দাম।।

চরণে দলিয়া গিয়াছে চলিয়া

বাণী

চরণে দলিয়া গিয়াছে চলিয়া
			তবু কেন তারে ভালোবাসি।
বলিতে পারি না বোঝাতে পারি না
			আঁখি-জলে যায় বুক ভাসি’।।
কেন সে বিরাজে		হৃদয়েরি মাঝে
তার স্বর যেন 		সদা প্রাণে বাজে
কি বাঁধনে মোরে		বেঁধেছে বল সে
			দিয়ে গেছে গলে প্রেম-ফাঁসি।।

বসন্ত মুখর আজি

বাণী

বসন্ত মুখর আজি।
দক্ষিণ সমীরণে মর্মর গুঞ্জনে
বনে বনে বিহ্বল বাণী ওঠে বাজি’।।
অকারণ ভাষা তার ঝর ঝর ঝরে
মুহু মুহু কুহু কুহু পিয়া পিয়া স্বরে,
পলাশ বকুলে অশোক শিমুলে —
সাজানো তাহার কল–কথার সাজি।।
দোয়েল মধুপ বন–কপোত কূজনে,
ঘুম ভেঙে দেয় ভোরে বাসর শয়নে।
মৌনী আকাশ সেই বাণী–বিলাসে
অস্ত চাঁদের মুখে মৃদু মৃদু হাসে,
বিরহ–শীর্ণা গিরি–ঝর্ণার তীরে —
পাহাড়ি বেণু হাতে ফেরে সুর ভাঁজি’।।

আর অনুনয় করিবে না কেউ

বাণী

আর অনুনয় করিবে না কেউ কথা কহিবার তরে
আর দেখিবে না স্বপন রাতে গো কেহ কাদেঁ হাত ধ'রে।
	তব মুখ ঘিরে আর মোর দু' নয়ন
	ভ্রমরের মত করিবে না জ্বালাতন
তব পথ আর পিছল হবে না আমার অশ্রু ঝরে'।
তোমার ভুবনে পড়িবে না আর কোনদিন ছায়া মম
তোমার পূর্ণ-চাদেঁর তিথিতে আসিব না রাহু-সম।
	আর শুনিবে না করুণ কাতর
	এই ক্ষুধাতুর ভিখারির স্বর
শুনিবে না আর কাহারও রোদন রাতের আকাশ ভ'রে।।

কে দিল খোঁপাতে ধুঁতুরা ফুল লো

বাণী

কে দিল খোঁপাতে ধুঁতুরা ফুল লো
খোঁপা খুলে কেশ হলো বাউল লো।।
পথে সে বাজালো মোহন–বাঁশি
তোর ঘরে ফিরে যেতে হলো এ ভুল লো।।
কে নিল কেড়ে তোর পৈঁচী চুড়ি
বৈঁচি মালায় ছি ছি খোয়ালি কুল লো।।
ও সে বুনা পাগল পথে বাজায় মাদল
পায়ে ঝড়ের নাচন শিরে চাঁচর চুল লো।।
দিল নাকেতে নাকছাবি বাবলা ফুলি
কুঁচের চুড়ি আর ঝুঁমকো ফুল দুল লো।।
সে নিয়ে লাজ দু’কূল দিল ঘাঘরি
সে আমার গাগরি ভাসালো জলে বাতুল লো।।

নাটকঃ মহুয়া

আমি মূলতানী গাই

বাণী

	আমি মূলতানী গাই
শ্রোতারা বাছুর সম মুখপানে চেয়ে মম
	ঘন ঘন তোলে হাই।।
জাপটে সুরের দাড়ি
শ্বশুরের দাড়ি, ভাসুরের দাড়ি
	সাপটে তান মারি-আ-আ-আ
	জাপটে সুরের দাড়ি
পমকে ধমক দেই, মীরে মাড় চটকাই।।
হায় হায় রে হায়-
বোলতানে আবোল-তাবোল তানে খেলি হা-ডু-ডু
কিত-কিত - হা-ডু-ডু- হা-ডু-ডু-কিত-কিত-কিত-কিত-কিত
	মোড়-মোড়-মোড়
আমি	বাটের চাট মেরে সুরে করি চিত
আমি	তালের সিঙ দিয়ে বেদম গুতাই।।
মোর	মুখের হা দেখে হিপোপটেমাস
	আফ্রিকার জঙ্গলে ভয়ে করে বাস
আমি	যত নাহি গাই তার অধিক রাগাই।।