এসো কল্যাণী চির-আয়ুষ্মতী

বাণী

এসো কল্যাণী চির-আয়ুষ্মতী।
তব নির্মল করে ভবন-প্রদীপ জ্বালো জ্বালো জ্বালো সতী।।
মঙ্গল-শঙ্খ বাজাও বাজাও সুমঙ্গলা
সকল অকল্যাণ সকল অমঙ্গল কর দূর (শুভ) সমুজ্জ্বলা!
এ মাটির কুটিরে দূর আকাশের অরুন্ধতী।।
এসো লক্ষ্মী গৃহের আঁকো অঙ্গনে মঙ্গল আল্‌পনা
তব পুণ্য-পরশ দিয়ে ধূলি-মুঠিরে কর গো সোনা,
তুমি দেবতার শুভ বর মূর্তিমতী।।
স্নান-শুদ্ধা তুমি পূজা-দেউলে যবে কর আরতি,
আনত আকাশ যেন তব চরণে করে প্রণতি।
	তব কুণ্ঠিত গুণ্ঠন-তলে
	চির শান্তির ধ্রবতারা জ্বলে,
সংসার অরণ্যে ধ্যান-মগ্না তুমি তপতী।।

এবারের পূজা মাগো দশভূজা

বাণী

মা-মা-মা-মা-মা-মাগো
এবারের পূজা মাগো দশভূজা বড় দুর্গতিময়।
পড়েছিস এ.বি.সি.ডি? বুঝিস ব্ল্যাক আউট কারে কয়?
ব্ল্যাক আউট মানে যত কালো ছিল বাহির হয়েছে মাগো
যত আলো ছিল যত ভালো ছিল, সকলেরে বলে ভাগো।
ডাইনে বাঁ ধারে ভীষণ আঁধারে হাঁটু কাঁপে আর হাঁটি
আমড়ার মত হয়ে আছি মাগো চামড়া এবং আঁটি।
নন্দী ভৃঙ্গী সিঙ্গি যাইলে তাহারাও ভয় পাবে
তাদের দিব্য দৃষ্টি লয়েও মাগো আঁধারে হোঁচট খাবে।
বলি বিগ্রহ তোর কে দেখিতে যাবে মা কুগ্রহের ফেরে
বিড়ি খেয়ে ফেরে গুন্ডারা যদি দেয় মাগো ভুঁড়ি ফেড়ে।
মা তুই বর দেওয়ার আগেই বর্বরেরা এসে
ঠেসে ধরে নিয়ে যাবে চিত্রগুপ্তের দেশে।
চোঁয়া ঢেকুর ওঠে মা মেকুর ডাকিলে কেঁদে উঠি ওঙা ওঙা;
ঢেঁকির আওয়াজ শুনলে মাগো ভয়ে খাড়া হয়ে ওঠে রোঁয়া।
সত্য পথে মা চলিতে পারি না পথে কাদা রাখে ফেলে
উচিত কথা মাগো বলিতে পারি না চিৎ করে দেয় ফেলে।
এ চিতে শক্তি দে মা চিৎ করবো ভয়কে
বলবো এবার তোরে খাব দে মা মাগো মা।।

নাট্য-গ্রন্থঃ ‘ব্লাক আউট’
ব্ল্যাক আউট নাট্যগ্রন্থের এই পাঠকে, আদি রেকর্ডের (এন. ২৭২০৬) পাঠের তুলনায়, স্বতন্ত্র গান হিসাবে বিবেচনা করা যায়।
[অগ্রন্থিত নজরুল, সংকলন ও সম্পাদনাঃ ব্রহ্মমোহন ঠাকুর, ডি.এম. লাইব্রেরি, কলকাতা, ২০০৩]

কত খুঁজিলাম নীল কুমুদ তোরে

বাণী

কত খুঁজিলাম নীল কুমুদ তোরে।
আছে নীল জল শূন্যে সরসী ভ’রে।।
উঠেছে আকাশে চাঁদ, ফুটেছে তারা
আছে সব একা মোর কুমুদ হারা,
অভিমানে সে কি গিয়াছে ঝ’রে।।

নাটক : ‘মহুয়া’

মাগো আমি তান্ত্রিক নই

বাণী

মাগো আমি তান্ত্রিক নই তন্ত্র মন্ত্র জানি না মা।
আমার মন্ত্র যোগ-সাধনা ডাকি শুধু শ্যামা শ্যামা।।
	যাই না আমি শ্মশান মশান
	দিই না পায়ে জীব বলিদান,
খুঁজতে তোকে খুজি না মা অমাবস্যা ঘোর ত্রিযামা।।
ঝিল্লী যেমন নিশীথ রাতে একটানা সুর গায় অবিরাম
তেমনি করে নিত্য আমি জপি শ্যামা তোমারি নাম।
	শিশু যেমন অনায়াসে
	জননীরে ভালোবাসে,
তেমনি সহজ সাধনা মোর তাতেই পাব তোর দেখা মা।।

ওকে নাচের ঠমকে দাঁড়ালো থমকে সহসা চমকে পথে

বাণী

ও কে	নাচের ঠমকে দাঁড়ালো থমকে সহসা চমকে পথে
	যেন তার নাম ধ'রে ডাকিল কে বাঁশের বাঁশিতে
		মাঠে ওপার হতে।
তার	হঠাৎ থেমে যাওয়া দেহ দোদুল
	নাচের তালে যেন ছন্দের ভুল
	সে রহে চাহি' অনিমেষে পটে আঁকা ছবিতুল
	গেছে হারায়ে সে যেন কোন জগতে।।
তার	ঘুম জড়িত চোখে জাগালো কী নতুন ঘোর
	অকরুণ বাঁশির কিশোর;
	উদাসী মুরতি প্রভাতী রাগিণী কাননে যেন
	এলো নামিয়া অরুণ-কিরণ রথে।।

ভুল ক’রে কোন্ ফুল-বিতানে

বাণী

ভুল ক’রে কোন্ ফুল-বিতানে গানের পাখি পথ হারালি।
প্রেম-সমাধির বুকে এ-যে সাজানো ম্লান ফুলের ডালি।।
	বাণ-বেঁধা বুক ল’য়ে কোথায়
	উড়ে এলি শান্তি-আশায়,
চোখের জলের নদীর পাশেই রয় নিরাশার চোরা-বালি।।
	জানিস্‌নে তুই ফুলের বনে
	কাল-সাপিনী রয় গোপনে,
তৃষ্ণা-কাতর হৃদয়ে তোর বিষের জ্বালা দিলি ঢালি’।।
	আলেয়ারই আলোয় ভুলে
	এলি এ কোন্ মরণ-কূলে,
হৃদয়ের এ শ্মশান-ভূমে প্রেমের চিতা জ্বলছে খালি।।