হেড মাস্টারের ছড়ি সেকেন্ড মাস্টারের দাড়ি

বাণী

হেড মাস্টারের ছড়ি, সেকেন্ড মাস্টারের দাড়ি
থার্ড মাস্টারের টেড়ি, কারে দেখি কারে ছাড়ি।
হেড-পণ্ডিতের টিকির সাথে ওদের যেন আড়ি।
	দাঁড়াইয়া ঐ হাই বেঞ্চে
	হাসি রে মুখ ভেংচে ভেংচে,
খোঁড়া সেকেন্ড পণ্ডিত যায় লেংচে হুঁকো হাতে বাড়ি
তার মুখ নয় তেলো হাড়ি, মোর হেসে ছিড়ে যায় নাড়ি।

নাটিকাঃ ‘পুতুলের বিয়ে’

মুখের কথায় নাই জানালে

বাণী

মুখের কথায় নাই জানালে, জানিও গানের ভাষায়।
এসেছিলে মোর কাছে হে পথিক, কিসের আশায়।।
	তোমার মনের কামনারে
	রাখলে আড়ালে অন্ধকারে,
আপনি তুমি করলে হেলা আপন ভালোবাসায়।।
সাধ ছিল যে হাত দিয়ে গো পরিয়ে দেবে হার,
দ্বিধা ভরে সেই হাতে হায় করলে নমস্কার।
	নিশুত রাতে ব’লো সুরে
	কেন থাক দূরে দূরে,
কেন এমন গোপন কর বুক-ভরা পিপাসায়।।

প্রিয়তম হে আমি যে তোমারি

বাণী

প্রিয়তম হে, আমি যে তোমারি চির-আরাধিকা।
তব নাম গেয়ে প্রেম-বৃন্দাবনে ফিরি ব্রজ-বালিকা।।
	মম নয়ন দুটি তব দেবালয়ে
	জ্বলে নিশিদিন আরতি-প্রদীপ হয়ে
নাম-কলঙ্ক তব হরি-চন্দন মোর গলার মালিকা।।
মোরে শরণ দাও তব চরণে কর অবনমিতা,
জনমে জনমে হয়ো প্রভু তুমি, আমি হব দয়িতা।
	শুধু নাম শুনি, নাথ মনে মনে
	আমি স্বয়ম্বরা হয়েছি গোপনে,
বড় সাধ প্রাণে র’ব তোমারি ধ্যানে হব শ্যাম-সাধিকা।।

আকুল হলি কেন বকুল বনের

বাণী

আকুল হলি কেন বকুল বনের পাখি।
দেখেছিস তুইও নাকি প্রিয়ার ডাগর আঁখি।।
	মধু ও বিষ মেশা
	সেই সে আঁখির নেশা
তোরে ক’রেছে পাগল, তাই কি এ ডাকাডাকি।।
চোখে পড়িলে বালি জ্বালাতে জ্বলিয়া মরি,
চোখে যাহার পড়েছে চোখ, সে বাঁচে কেমন করি’।
	ফিরাই আঁখি যেদিক পানে
	তারি আঁখি মনে আনে,
বলিস্ পাখি দেখা হ’লে প্রাণ শুধু আছে বাকি।।

একেলা ঢুলিয়া ঢুলিয়া কে যায়

বাণী

একেলা ঢুলিয়া ঢুলিয়া কে যায়।
চলিতে চরণ চরণে জড়ায়।।
এখনো ভাঙেনি মল্লিকার ঘুম
এখনো অমলিন-কবরী কুসুম,
নয়নে নিশির ঝরেনি শিশির
বিহগ পাখায় বিহগী ঘুমায়।।
অভিসার নিশি বৃথাই জাগি কোথা
অভিমানিনী চলে মূর্তিমতী ব্যথা।
ভীরু চকিত চোখে করুণ কাতরতা
রবি না ওঠে যেন মিনতি জানায়।।

সাঁঝের পাখিরা ফিরিল কুলায়

বাণী

সাঁঝের পাখিরা ফিরিল কুলায় তুমি ফিরিলে না ঘরে,
আঁধার ভবন জ্বলেনি প্রদীপ মন যে কেমন করে।।
	উঠানে শূন্য কলসির কাছে
	সারাদিন ধরে ঝ’রে প’ড়ে আছে
তোমার দোপাটি গাঁদা ফুলগুলি যেন অভিমান ভরে।।
বাসন্তী রাঙা শাড়িখানি তব ধূলায় লুটায় কেঁদে,
তোমার কেশের কাঁটাগুলি বুকে স্মৃতির সমান বেঁধে।
	যাইনি বাহিরে আজ সারাদিন
	ঝরিছে বাদল শ্রান্তিবিহীন
পিয়া পিয়া ব’লে ডাকিছে পাপিয়া এ বুকের পিঞ্জরে।।