শ্যামা বড় লাজুক মেয়ে

বাণী

	শ্যামা বড় লাজুক মেয়ে কেবলই সে লুকাতে চায়।
	আলো-আঁধার পর্দা টেনে বালিকা সে পালিয়ে বেড়ায়।।
		নিখিল ভুবন আছে তারে ঘিরে
		আমার মেয়ে তবু বসন খুঁজে ফিরে,
	তারে যে দেখে সে এক নিমেষে তারি মাঝে লয় হয়ে যায়।।
	তাই কেবলি সে লুকাতে চায়।।
	কোটি শিব ব্রহ্মা হরি অনন্তকাল গভীর ধ্যানে,
তার	সে লুকোচুরি খেলায় পায় না দিশা পায় না মনে।
		রবি শশী গ্রহতারার ফাঁকে
		যে দেখেছে পালিয়ে যেতে মাকে,
(সে)	আপনাকে আর পায় না খুঁজে মায়াবিনীর মহামায়ায়।।

নাম মোহাম্মদ বোল রে মন

বাণী

নাম মোহাম্মদ বোল রে মন নাম আহমদ বোল।
যে নাম নিয়ে চাঁদ-সেতারা আস্‌মানে খায় দোল।।
	পাতায় ফুলে যে নাম আঁকা
	ত্রিভুবনে যে নাম মাখা,
যে নাম নিতে হাসিন ঊষার রাঙে রে কপোল।।
	যে নাম গেয়ে ধায় রে নদী,
	যে নাম সদা গায় জলধি,
যে নাম বহে নিরবধি পবন হিল্লোল।।
	যে নাম রাজে মরু-সাহারায়,
	যে নাম বাজে শ্রাবণ-ধারায়,
যে নাম চাহে কাবার মসজিদ — মা আমিনার কোল।।

কেন বাজাও বাঁশি কালোশশী মৃদু মধুর তানে

বাণী

কেন	বাজাও বাঁশি কালোশশী মৃদু মধুর তানে।
ঘরে	রইতে নারি জ্ব’লে মরি বাজাইও না বনে
		বাঁশি, আর বাজাইও না বনে
		নিঝুম রাতে বাজে বাঁশি
		পরায় গলে প্রেম-ফাঁসি,
কেহ	নাহি জানে হে শ্যাম (আমি) মরি শুধু প্রাণে॥
		রাখ রাখ ও-বাঁশরি
		ওহে কিশোর-বংশীধারী,
	মন নাহি মানে হে শ্যাম (বঁধু) বাঁশি কি গুণ জানে॥

আমি আছি ব'লে দুখ পাও তুমি

বাণী

আমি আছি  ব'লে দুখ পাও তুমি তাই আমি যাব চ'লে
এবার ঘুমাও প্রদীপের কাজ শেষ হয়ে গেছে জ্ব'লে।।
	আর আসিবে না কোন অশান্তি
	আর আসিবে না ভয়ের ভ্রান্তি
আর ভাঙিব না ঘুম নিশীথে গো 'জাগো প্রিয়া জাগো' বলে।।
হয়তো আবার সুদূর শূন্য আকাশে বাজিবে বাশিঁ,
গোপী-চন্দন গন্ধ আসিবে বাতায়ন পথে ভাসি'।
	চম্পার ডালে বিরহী পাপিয়া
	'পিয়া পিয়া' বলে উঠিবে ডাকিয়া
বৃন্দাবন কি ভাসিবে (আসিবে) সেদিন রোদন-যমুনা জলে।।

হৃদয় চুরি করতে এসে পড়লো ধরা চোর

বাণী

হৃদয় চুরি করতে এসে পড়লো ধরা চোর।
বন্দী থাকো এই হৃদয়ে এবার জীবন ভোর।।
	মনের দুয়ার ভেঙে এবার
	পালিয়ে যেতে পাবে না আর,
প্রহরী যে পলক-হারা নয়ন দু’টি মোর।।
হে চোরের রাজা! করলে চুরি ত্রিভুবনের মন,
এনেছি তাই তোমার সাজার বিপুল আয়োজন।
	আকুল কুন্তল দিয়ে
	রইনু তোমার পা জড়িয়ে,
তোমায় নিঠুর হাতে শিক্‌লি দিলাম আমার গলার ফুল-ডোর।।

চল মন আনন্দ-ধাম

বাণী

চল	মন আনন্দ-ধাম।
	চল মন আনন্দ-ধাম রে,
	চল আনন্দ-ধাম।।
	লীলা-বিহার প্রেম লোক
	নাই রে সেথা দুঃখ শোক,
সেথা	বিহরে চির-ব্রজ-বালক — 
	বন্‌শিওয়ালা শ্যাম রে
	চল আনন্দ-ধাম।।
	নাহি মৃত্যু নাহি ভয়
	নাহি সৃষ্টি, নাহি লয়,
খেলে	চির-কিশোর চির-অভয় —
	সঙ্গীত ওম্ না রে
	চল আনন্দ ধাম।।১
	নাহি চরাচর নাহি রে ব্যোম
	লীলা-সাথী গ্রহ রবি ও সোম,
	সঙ্গীত ‘ওম্’ নাম রে
	চল আনন্দ ধাম।।

১. অবাঙ্‌মনস-গোচরম্‌