কত কথা ছিল বলিবার

বাণী

কত কথা ছিল বলিবার, বলা হ’ল না।
বুকে পাষাণ সম রহিল তারি বেদনা।।
	মনে রহিল মনের আশা
	মিটিল না প্রাণের পিপাসা,
বুকে শুকালো বুকের ভাষা — মুখে এলো না।।
	এত চোখের জল, এত গান
	এত আদর সোহাগ অভিমান,
কখন সে হ’ল অবসান — বোঝা গেল না।।
	ঝরিল কুসুম যদি হায়!
কেন স্মৃতির কাঁটাও নাহি যায়,
বুঝিল না কেহ কাহারো মন বিধির ছলনা।।

আজো বোলে কোয়েলিয়া চাঁপাবনে

বাণী

আজো বোলে কোয়েলিয়া
চাঁপাবনে প্রিয় তোমারি নাম গাহিয়া।।
তব স্মৃতি ভোলেনি চৈতালি সমীরণ,
আজো দিকে দিকে খুঁজে ফেরে কাঁদিয়া।।
নিশীথের চাঁদ আজো জাগে
ওগো চাঁদ, তব অনুরাগে।
জলধারা উথলে যমুনার সৈকতে
খোঁজে তরুলতা ফুল আঁখি মেলিয়া।।

সেদিন বলেছিলে এই সে ফুলবনে

বাণী

সেদিন ব’লেছিলে এই সে ফুলবনে,
আবার হবে দেখা ফাগুনে তব সনে।।
ফাগুন এলো ফিরে লাগে না মন কাজে,
আমার হিয়া ভরি, উদাসী বেণু বাজে;
শুধাই তব কথা দখিনা সমীরণে।।
শপথ ভুলিয়াছ বন্ধু, ভুলিলে পথ কি গো,
বারেক দিয়ে দেখা লুকালে মায়ামৃগ।
আঁচলে ফুল লয়ে হল’ না মালা গাঁথা,
আসার পথ তব ঢাকিল ঝরা পাতা;
পূজার চন্দন শুকালো অঙ্গনে।।

অন্ধকারের তীর্থপথে ভাসিয়ে দিলাম

বাণী

অন্ধকারের তীর্থপথে ভাসিয়ে দিলাম নামের তরী
মায়া মোহের ঝড় বাদলে এবার আমি ভয় না করি।
	যে নাম লেখা তারায় তারায়
	যে নাম ঝরে অশ্রুধারায়
যাত্রা শুরু সেই নামেরি জপমালা বক্ষে ধরি।।
এই আঁধারের অন্তরালে লক্ষ রবি চন্দ্র জ্বলে
নিত্য ফোটে আলোর কমল জানি তোমার চরণ তলে।
	এবার ওগো অশিব নাশন
	থামাও তোমার ঢেউর নাচন
সেই ত অমর মরণ যদি ধ্যান সাগরে ডুবে মরি।।

সখি সাজায়ে রাখ্ লো পুষ্প-বাসর

বাণী

সখি		সাজায়ে রাখ্ লো পুষ্প-বাসর তেমনি করিয়া তোরা,
		কে জানে কখন্ আসিবে ফিরিয়া গোপিনীর মনোচোরা।
		(সে কি) ভুলিয়া থাকিতে পারে, তা’র চির-দাসী রাধিকারে,
		কত ঝড় ঝঞ্চায় বাদল-নিশীথে এসেছে সে অভিসারে।।
		মধু-বন হ’তে চেয়ে আন্ আধ-ফোটা বনফুল,
		পাপিয়ারে বল গান গাহিতে অনুকূল।
		চাঁপার কলিকা এনে নূপুর গেঁথে রাখ
		তেমনি তমাল-ডালে ঝুলনা বাঁধা থাক্।
		দেহের ডালায় রূপ-অঞ্জলি ধরিয়া
		রাস-মঞ্চে চল্ বেশ ভূষা করিয়া।
আখর	:	[বেঁধে রাখ্ লো — ঝুলনা তেমনি বেঁধে রাখ লো —
		তমাল-ডালে ঝুলনা তেমনি বেঁধে রাখ্ লো]
		সখি, যোগিনীর বেশ ছাড়িয়া আবার পরিব নীলাম্বরী,
		মথুরা ত্যজিয়া এ ব্রজে ফিরিয়া আসিবে কিশোর হরি।।
		হরি ফিরিয়া আসিবে, সময় পাবি না তোরা মুছিতে চোখের জল
		আনন্দে ভাসিবে, আনন্দ ব্রজধাম আনন্দে ভাসিবে।।
আখর	:	[ফিরে আসিবে — কিশোর নটবর ফিরে আসিবে —
		এই ব্রজে পদরজ দিতে ফিরে আসিবে আসিবে]
		আনন্দে ভাসিবে — নিরানন্দ ব্রজপুর আনন্দে ভাসিবে —
		এই নিরানন্দ ব্রজপুর হরিপদ-রজ লভি’ আনন্দে ভাসিবে।।

তোমার বীণার মূর্ছনাতে বাজাও

বাণী

তোমার বীণার মূর্ছনাতে বাজাও আমার বাণী।
তোমার সুরে শোনাও আমার গানের আধেকখানি।।
	শুনব শুধু তোমার কথা
	এবার আমার নীরবতা,
আমার সুরের ছবি আঁকুক তোমার পদ্মপাণি।।