ওমা ত্রিনয়নী! সেই চোখ দে

বাণী

	ওমা ত্রিনয়নী! সেই চোখ দে যে-চোখ তোরে দেখতে পায়।
	সে নয়ন-তারায় কাজ কি তারা যে-তারা লুকায় মা তারায়।।
আমি 	চাইনে সে-চোখ যে-চোখ দেখে মায়া
	অনিত্য এই সংসারেরই ছায়া,
	যে-দৃষ্টি দেখে নিত্য তোরে সেই দৃষ্টি দে আমায়।।
ওমা 	নিবিয়ে দে এই নয়ন-প্রদীপ দেখায় যাহা দুঃখ শোক,
	এই আলেয়া পথ ভুলিয়ে যায় মা নিয়ে নরক-লোক।
	তোর সৃষ্টি চির-আনন্দময় নাকি
	দেখব সে-লোক, দে মোরে সেই আঁখি,
	দেখে না রোগ-মৃত্যু-জ্বরা তোর সন্তান সেই দৃষ্টি চায়।।

আমারে চরণে দিও ঠাঁই

বাণী

আমারে চরণে দিও ঠাঁই
ও চরণ বিনা, ওহে গিরিধারী! কামনা কিছুই নাই।।
ব্যথিত হৃদয় হতে আকুল মরম বাণী,
থেকে থেকে ভেসে আসে, ফিরে এসো এসো রানী।
ফিরিতে পারি না আর অসীমে মিশিয়া যাই —
তুমি ফিরে যাও সখা আমাতে আর আমি নাই।।

আঁধার রাতে দেবতা মোর

বাণী

আঁধার রাতে দেবতা মোর এসে গেছে চ’লে
রেখে গেছে চরণ-চিহ্ন শূন্য গৃহ-তলে।।
	জেগে দেখি বুকের কাছে
	পূজার মালা প’ড়ে আছে
ফেলে গেছে মালাখানি বুঝি খানিক প’রে গলে।।
তার অঙ্গের সুবাস ভাসে মন্দির-অঙ্গনে,
তাহার ছোঁওয়া লেগে আছে কুমকুম-চন্দনে।
	অপূর্ণ মোর প্রণামখানি
	দেবো কবে নাহি জানি,
সে আস্‌বে বুঝি বাসনা-ধূপ পুড়িয়া শেষ হলে’।।

চাঁপার কলির তুলিকায় কাজল লেখায়

বাণী

চাঁপার কলির তুলিকায়, কাজল লেখায় শ্রীমতী শ্রীহরির ছবি আঁকে।
রাই ছবি আঁকে পটে গো, যারে হেরে নিতি গোঠে যেতে
যমুনার তটে গো, সে বংশী বাজায়ে মঞ্জির পায়ে
নাচে ছায়া বটে গো, রাই ছবি আঁকে পটে গো।
আঁকিয়া শ‍্যামের মূরতি আঁকিল না রাধা শ্রীচরণ ,
রাধা চরণ আঁকে না, তুলি তুলিয়া রাখে চরণ আঁকে না।
তখন ললিতা বলে- ‘রাধা! রাধা! রাধা!
তুই আঁকলি না কেন চরণ রাধা!’
‘জীবন মরণ যে চরণে বাঁধা, আঁকলি না কেন চরণ রাধা —
বিশ্বের ত্রাণ বৃন্দাবনের ধ‍্যানজ্ঞান ব্রজগোপী সাধা’ —
‘আঁকলি না কেন চরণ রাধা’ —!
তখন রাধা কেঁদে বলে- ‘ওগো ললিতা —
সখি আঁকিলে চরণ যাবে সে পালায়ে আমি হব পদদলিতা।
পলায়ে যাবে গো মথুরায়, আবার পালায়ে যাবে গো —
চির চপল সে মথুরায় আবার পালায়ে যাবে গো —
থাক লুকানো হৃদয়ে শ্রীচরণ।’

আমি মূলতানী গাই

বাণী

	আমি মূলতানী গাই
শ্রোতারা বাছুর সম মুখপানে চেয়ে মম
	ঘন ঘন তোলে হাই।।
জাপটে সুরের দাড়ি
শ্বশুরের দাড়ি, ভাসুরের দাড়ি
	সাপটে তান মারি-আ-আ-আ
	জাপটে সুরের দাড়ি
পমকে ধমক দেই, মীরে মাড় চটকাই।।
হায় হায় রে হায়-
বোলতানে আবোল-তাবোল তানে খেলি হা-ডু-ডু
কিত-কিত - হা-ডু-ডু- হা-ডু-ডু-কিত-কিত-কিত-কিত-কিত
	মোড়-মোড়-মোড়
আমি	বাটের চাট মেরে সুরে করি চিত
আমি	তালের সিঙ দিয়ে বেদম গুতাই।।
মোর	মুখের হা দেখে হিপোপটেমাস
	আফ্রিকার জঙ্গলে ভয়ে করে বাস
আমি	যত নাহি গাই তার অধিক রাগাই।।

কাহার তরে হায় নিশিদিন কাঁদে মন-প্রাণ

বাণী

কাহার তরে হায় নিশিদিন কাঁদে মন-প্রাণ।
জানে শুধু সেই, জানে মোর হৃদি ব্যথা-ম্লান।।
কমল-পাতে যেন জল, — প্রণয় তার সই
বুলবুলি চপল দ'লে যায় লতিকা বিতান।।
জানে শুধু সে নিতে মন, দিতে জানে না
ছলিয়া চলে সে-মুকুল, বারণ মানে না।
জীবন ল'য়ে সে খেলে মরণ-খেলা,
সকালে যারে চাহে তাহে বিকালে হেলা।
কুসুম-সমাধি রচে সে নিঠুর পাষাণ।।
চাহি শুধু এই, — যেন সে বাসিয়া ভালো
এমনি ব্যথা পায় সে ওগো ভগবান।।