নূপুর মধুর রুনুঝুনু বোলে

বাণী

নূপুর মধুর রুনুঝুনু বোলে।
মন-গোকুলে রুনুঝুনু বোলে।।
	কূলের বাঁধন টুটে,
	যমুনা উথলি' ওঠে,
পুলকে কদম ফোটে পেখম খোলে
	শিখী পেখম খোলে।।
ব্রজনারী কুল ভুলে'
	লুটায় সে পদমুলে
চোখে জল, বুকে প্রেম- তরঙ্গ দোলে।।
	শ্রীমতি রাধারই সাথে
	বিশ্ব ছুটেছে পথে,
হরি হরি ব'লে মাতে ত্রিভুবন ভোলে।
	নামে ত্রিভুবন ভোলে।।

এ কি অপরূপ যুগল-মিলন

বাণী

এ কি অপরূপ যুগল-মিলন হেরিনু নদীয়া ধামে
বিষ্ণুপ্রিয়া লক্ষী যেন রে গোলক-পতির বামে।।
	এ কি অতুলন যুগল-মূরতি
	যেন শিব-সতী হর-পার্বতী,
জনক-দুহিতা সীতাদেবী যেন বেড়িয়া রয়েছে রামে।।
	গৌরের বামে গৌর-মোহিণী
	(যেন) রতি ও মদন চন্দ্র-রোহিণী
(তোরা) দেখে যা রে আজ মিলন-রাসে যুগল রাধা-শ্যামে।।

নাটক: ‘বিষ্ণুপ্রিয়া’

শুকনো পাতার নূপুর পায়ে

বাণী

শুকনো পাতার নূপুর পায়ে
		নাচিছে ঘুর্ণিবায়
জল তরঙ্গে ঝিল্‌মিল্‌ ঝিল্‌মিল্‌
		ঢেউ তুলে সে যায়।।
দীঘির বুকে শতদল দলি’
ঝরায়ে বকুল–চাঁপার কলি
চঞ্চল ঝরনার জল ছল ছলি
		মাঠের পথে সে ধায়।।
বন–ফুল আভরণ খুলিয়া ফেলিয়া
আলুথালু এলোকেশ গগনে মেলিয়া
পাগলিনী নেচে যায় হেলিয়া দুলিয়া
		ধূলি–ধূসর কায়।।
ইরানি বালিকা যেন মরু–চারিণী
পল্লীর–প্রান্তর–বনমনোহারিণী
আসে ধেয়ে সহসা গৈরিক বরণী
		বালুকার উড়্‌নি গায়।।

অনাদরে স্বামী পড়ে আছি আমি

বাণী

অনাদরে স্বামী প’ড়ে আছি আমি তব কোলে তুলে নাও
নিয়ে ধরণীর ধূলি আছি আমি ভুলি’ চরণের ধূলি দাও॥
	বিভবে বিলাসে সংসার কাজে
	অশান্ত প্রাণ কাঁদে বন্ধন মাঝে
বৃথা দ্বারে দ্বারে চেয়েছি সবারে এবার তুমি মোরে চাও॥
	যাহা কিছু প্রিয় জীবনের মম
	হরিয়া লহ তুমি, লও প্রিয়তম।
	সূর্যের পানে সূর্যমুখী ফুল
	যেমন চাহিয়া রয় বিরহ-ব্যাকুল
তেমনি প্রভু আমার এ মন তোমার পানে ফিরাও॥

চমকে চপলা মেঘে মগন গগন

বাণী

চমকে চপলা মেঘে মগন গগন।
গরজিছে রহি’ রহি’ অশনি সঘন।।
লুকায়েছে গ্রহ-তারা দিবসে ঘনায় রাতি
শূন্য কুটিরে কাঁদি, কোথায় ব্যথার সাথী,
ভীত চমকিত-চিত, সচকিত শ্রবণ।।

শারদ নিশির হিমেলা বাতাস

বাণী

শারদ নিশির হিমেলা বাতাস, তারা-ভরা এই অসীম আকাশ।
স্বপ্ন-বিলাসিনী চাঁদের আবাস, কাশ ফুলে দোলে কার নিশাস্।।
	শিউলি-মালা গলে শরত-রানী
	লাবনি-মাখা যে গো তাহারি বাণী,
তোমার বেণু বিনা, আমার এ বীণা সুর তোলে যেন দীরঘ-শ্বাস।।
এমনই চাঁদের তিথি, এমনই শারদ-রাতি
মৌন-মুখর ধরা, তব সুর ছিল সাথি,
রাখিখানি যবে হায় নিয়েছিলে কর পাতি’ —
এসো গো ধেয়ানে মম তাজিয়া সে-পরবাস।।