ব্যথিত প্রাণে দানো শান্তি

বাণী

ব্যথিত প্রাণে দানো শান্তি, চিরন্তন, ধ্রুব-জ্যোতি।
দুখ-তাপ-পীড়িত-শোকার্ত এই চিত যাচে তব সান্ত্বনা ত্রিভুবন-পতি।।
বেদনা যাতনা ক্লেশ মুক্ত কর, বিপদ নিবার, সব বিঘ্ন হর,
আঁধার পথে তুমি হাত ধরো, প্রভু অগতির গতি।।
সকল গ্লানি হতে হে নাথ বাঁচাও, চিত্তে অটল প্রসন্নতা দাও
যেন সুখে ও দুখে সদানন্দে থাকি, অবিচল থাকে যেন তব পদে মতি।।

সেই মিঠে সুরে মাঠের বাঁশরি বাজে

বাণী

সেই মিঠে সুরে মাঠের বাঁশরি বাজে।
নিঝুম নিশীথে ব্যথিত বুকের মাঝে॥
	মনে প’ড়ে যায় সহসা কখন
	জল ভরা দু’টি ডাগর নয়ন,
পিঠ-ভরা চুল সেই চাঁপা ফুল ফেলে ছু’টে যাওয়া লাজে॥
হারানো সে-দিন পাব না গো আর ফিরে,
দেখিতে পাব না আর সেই কিশোরীরে।
	তবু মাঝে মাঝে আশা জাগে কেন
	আমি ভুলিয়াছি ভোলেনি সে যেন,
গোমতীর তীরে পাতার কুটীরে (সে) আজও পথ চাহে সাঁঝে।

প্রথম প্রদীপ জ্বালো মম ভবনে হে আয়ুষ্মতী

বাণী

প্রথম প্রদীপ জ্বালো মম ভবনে হে আয়ুষ্মতী
আঁধার ঘিরে' আশার আলো আনুক তোমার গৃহের জ্যোতি।।
	হেরিয়া তোমার আঁখির আলোক
	বিষদিত সাঁঝ পুলকিত হোক,
যেন দূরে যায় সব দুখ শোক, তব শঙ্খরব শুনি', হে সতী।।
	কাঁকন পরা তব শুভ কর
	মুখর করুক এ নীরব ঘর
এ গৃহে আনুক বিধাতার বর তোমার মধুর প্রেম-আরতি।।

চাঁদের কন্যা চাঁদ সুলতানা

বাণী

চাঁদের কন্যা চাঁদ সুলতানা, চাঁদের চেয়েও জ্যোতি।
তুমি দেখাইলে মহিমান্বিতা নারী কী শক্তিমতী।।
শিখালে কাঁকন চুড়ি পরিয়াও নারী,
ধরিতে পারে যে উদ্ধত তরবারি,
না রহিত অবরোধের দুর্গ, হতো না এ দুর্গতি।।
তুমি দেখালে নারীর শক্তি স্বরূপ – চিন্ময়ী কল্যাণী,
ভারত জয়ীর দর্প নাশিয়া মুছালে নারীর গ্লানি।
তুমি গোলকুন্ডার কোহিনূর হীরা সম
আজো ইতিহাসে জ্বলিতেছে নিরুপম,
রণরঙ্গিণী ফিরে এসো,
তুমি ফিরিয়া আসিলে, ফিরিয়া আসিবে লক্ষী ও সরস্বতী।।

গরজে গম্ভীর গগনে কম্বু

বাণী

গরজে গম্ভীর গগনে কম্বু।
নাচিছে সুন্দর নাচে স্বয়ম্ভূ।।
সে-নাচে-হিল্লোলে জটা-আবর্তনে
সাগর ছুটে আসে গগন-প্রাঙ্গণে।
		আকাশে শূল হানি’
		শোনাও নব বাণী,
		তরাসে কাঁপে প্রাণী
			প্রসীদ-শম্ভু।
ললাট-শশী টলি’ জটায় পড়ে ঢলি’,
সে-শশী-চমকে গো বিজুলি ওঠে ঝলি’।
ঝাঁপে নীলাঞ্চলে মুখ দিগঙ্গনা,
মূরছে ভয়-ভীতা নিশি নিরঞ্জনা।
		আঁধারে পথহারা
		চাতকী কেঁদে সারা,
		যাচিছে বারিধারা
			ধরা নিরম্বু।।

বাসন্তী রং শাড়ি প’রো খয়ের রঙের টিপ্‌

বাণী

বাসন্তী রং শাড়ি প’রো খয়ের রঙের টিপ্‌।
সাঁঝের বেলায় সাজবে যখন জ্বাল্‌বে যখন দীপ্॥
	দুলিয়ে দিও দোলন্ খোঁপায়
	আমের মুকুল বকুল চাঁপায়,
মেখ্‌লা ক’রো কটি-তটে শিউরে-ওঠা নীপ্॥
কর্ণ-মূলে দুল দুলিও দুলাল চাঁপার কুঁড়ি,
বন্-অতসীর কাঁকন প’রো, কনক-গাঁদার চুড়ি।
	আধখানা চাঁদ গরব ভরে
	হাসে হাসুক আকাশ ’পরে,
তুমি বাকি আধখানা চাঁদ ধরার মণি-দীপ্॥