আন্ গোলাপ-পানি

বাণী

আন্ গোলাপ-পানি, আন্ আতরদানি গুলবাগে।
সহেলি গো কিছু নাহি ভালো লাগে
বেদুঈন ছেলের বাঁশি কারে ডাকে
			কেঁদে’ কেঁদে’ অনুরাগে।।
	মরুযাত্রীদের উটের সারি
	যেমন চাহে তৃষার বারি
তেমনি মম পিয়াসি পরান যেন কার —
			প্রেম-অমৃত বারি মাগে।।
চাঁদের পিয়ালাতে জোছনা-শিরাজি ঝ’রে যায়
আমারি হৃদয় কেন গো সে-মধু নাহি পায়,
হায়, হায়, বাদাম গাছের আঁধার বনে
নিঃশ্বাস ওঠে যেন বুল্‌বুলির শিসের সনে,
বিরহী মোর কোথায় কাঁদে কোন্ মদিনাতে —
ফোরাত নদীর রোদন সম বুকে ঢেউ জাগে।।

১. স্রোতের

সঙ্গীতালেখ্য : ‌‘কাফেলা’ (মরুদেশের সঙ্গীত)

বেয়ান বলি ও বেয়ান ঠাকরুন

বাণী

পুরুষ	:	(বেয়ান, বলি ও বেয়ান ঠাকরুন)
		বেয়ান তোমার আলু চেরা চোখে আমি মরে আছি
স্ত্রী	:	বেয়াই আমি তাইতো তোমার গোদা পায়ে শরণ যাচি।
		ও তোমার গোদা পায়ে শরণ যাচি।
পুরুষ	:	(বলি ও বয়ান তোমার)
		দাঁতে ছাতা গালে ছুলি গলায় পেটে কোলাকুলি
		আমি দেখেই ছুটি কাছা খুলি
		(আমি) দেখেই ছুটি ও আমার কাছা খুলে গো
		দেখেই ছুটি হরিবোল বোলে রে
		দেখেই ছুটি ও হরিবোল বোলে রে
		আমি কাছা খুলে বাহু তুলে দেখেই ছুটি।
স্ত্রী	:	(বলি ও বেয়াই, ও কাছা তো নয়) এ যে লেজুড়েরি কাছাকাছি।
পুরুষ	:	(বলি ও বেয়ান ঠাকরুন তোমার)
		ফোকলা দাঁতে প্রেমের বুলি শুনেই কাঁধে নিলেম ঝুলি।
স্ত্রী	:	(বুঝি গৌর নামের ঝুলি, বলি ও বেয়াই উঁ)
		বেয়াই নিয়ে এবার যাবে রাঁচি
		যাবে রাঁচি গৌর হে ওহে গৌর (যাবে রাঁচি)
		কাছা খুলে বাহু তুলে যাবে রাঁচি (তুমি)।
পুরুষ	:	(বলি ও বেয়ান)
		ভাগলপুরি বিবির মতন নাদুস নুদুস কি সে গঠন
স্ত্রী	:	(বলি ও হামদো বুড়ো) তুমি মাম্‌দো ভূত যে চামড়া খেকো
		ও আমায় করতে এলে আমড়া গাছি।

বনে চলে বনমালী বনমালা দুলায়ে

বাণী

বনে চলে বনমালী বনমালা দুলায়ে।
তমালে কাজল-মেঘে শ্যাম-তুলি বুলায়ে।।
ললিত মধুর ঠামে
কভু চলে কভু থামে,
চাঁচর চিকুরে বামে —
	শিখি-পাখা ঢুলায়ে।।
ডাকিছে রাখাল-দলে
‘আয় রে কানাই’ ব’লে,
ডাকে রাধা তরুতলে —
	ঝুলনিয়া ঝুলায়ে।।
যমুনার তীর ধরি’
চলিছে কিশোর হরি,
বাজে বাঁশের বাঁশরি —
	ব্রজনারী ভুলায়ে।।

ঝর্‌ল যে-ফুল ফোটার আগেই

বাণী

ঝর্‌ল যে-ফুল ফোটার আগেই তারি তরে কাঁদি, হায়!
মুকুলে যার মুখের হাসি চোখের জলে নিভে যায়।।
হায় যে-বুলবুল গুল্‌বাগিচায় গোলাপ কুঁড়ির গাইত গান,
আকুল ঝড়ে আজ সে প'ড়ে পথের ধূলায় মূরছায়।।
সুখ-নদীর উপকূলে বাঁধিল যে সোনার ঘর,
আজ কাঁদে সে গৃহ-হারা বালুচরে নিরাশায়।।
যাবার যারা, যায় না তারা — থাকে কাঁটা, ঝরে ফুল।
শুকায় নদী মরুর বুকে, প্রভাত আলো মেঘে ছায়।।

রস-ঘনশ্যাম-কল্যাণ-সুন্দর

বাণী

রস-ঘনশ্যাম-কল্যাণ-সুন্দর।
প্রশান্ত সন্ধ্যার উদার শান্তি দাও —
শ্রান্ত মনের ভার হর, হে গিরিধর।।
যে নিবিড় সমাধির গভীর আনন্দে
হিমালয় লীলায়িত নীরব ছন্দে,
সেই মহাযোগে কর মোরে মগ্ন —
যে মহাভাবে ভোর মৌন নীলাম্বর।। 
অপগত-দুখশোক নিশীথ সুষুপ্তির মাঝে,
নিথর সিন্ধুর অতল তলে যে শান্ত বিরাজে।
যে সুধা লভিয়া ঋষি মধুছন্দা
আনিল বেদবাণী অলকানন্দা
অন্তরে বাহিরে সেই অমৃত দাও —
কর পুরুষোত্তম অজর অমর।।

বহে বনে সমীরণ ফুল জাগানো

বাণী

বহে বনে সমীরণ ফুল জাগানো
এসো গোপন সাথি মোর ঘুম ভাঙানো
এসো আঁধার রাতেরি চাঁদ পাতি মায়ারি ফাঁদ
এসো এসো মম স্বপন সাধ॥
হৃদয় তিমিরে এসো হৃদ-সায়র দোল লাগানো
	সাথি মোর ঘুম ভাঙানো॥
বনে মোর ফুলগুলি আছে তব পথ চেয়ে
পরান পাপিয়া পিউ পিউ ওঠে গেয়ে
তরুণ অরুণ এসো আলোকেরি পথ বেয়ে
এসো আমার তনু মন প্রাণ হৃদয় রাঙানো
	এসো ভুবন ভোলানো
কোথা গোপন সাথি মোর ঘুম ভাঙানো॥