আমার কোন কুলে আজ ভিড়লো তরী

বাণী

আমার	কোন্‌ কূলে আজ ভিড়লো তরী
			এ কোন সোনার গাঁয়
আমার	ভাটির তরী আবার কেন
			উজান যেতে চায়
		তরী	উজান যেতে চায়
	কোন কূলে মোর ভিড়লো তরী
	এ কোন্‌ সোনার গাঁয়।।
আমার	দুঃখেরে কান্ডারী করি’
আমি	ভাসিয়েছিলাম ভাঙা তরী
তুমি	ডাক দিলে কে স্বপন–পরী
			নয়ন ইশারায়।।
	নিভিয়ে দিয়ে ঘরের বাতি
	ডেকেছিলে ঝড়ের রাতি
তুমি	কে এলে মোর সুরের সাথী গানের কিনারায়।
তুমি 	কে এলে? ওগো কে এলে মোর সুরের সাথী
			গানের কিনারায়?
	সোনার দেশের সোনার মেয়ে,
ওগো তুমি	হবে কি মোর তরীর নেয়ে,
	ভাঙ্গা তরী চলো বেয়ে রাঙা অলকায়।।

১. ‘অন্তরা’ অংশ গ্রামোফোন রেকর্ডে গাওয়া হয়নি।

আমি সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায়

বাণী

আমি		সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে
		দলগুলি মোর রেঙে ওঠে তোমার হাসির কিরণ মেখে’।।
			নিত্য জানাই পেম-আরতি
			যে পথে, নাথ, তোমার গতি
		ওগো আমার ধ্রুব-জ্যোতি সাধ মেটে না তোমায় দেখে’।।
		জানি, তুমি আমার পাওয়ার বহু দূরে, হে দেবতা!
		আমি মাটির পূজারিণী, কেমন ক’রে জানাই ব্যথা।
			সারা জীবন তবু, স্বামী,
			তোমার ধ্যানেই কাঁদি আমি
		সন্ধ্যাবেলায় ঝরি যেন তোমার পানে নয়ন রেখে’।।

ভুল করিলে বনমালী এসে বনে ফুল-ফোটাতে

বাণী

ভুল করিলে বনমালী এসে বনে ফুল-ফোটাতে।
বুলবুলি সে ফুলও ফোটায় বন-মাতানোর সাথে সাথে।।
		আঘাত দিলে, দিলে বেদন
		রাঙাতে হায় পারলে না মন,
প্রেমের কুঁড়ি ফুটলো না তাই, পড়লো ঝ’রে নিরাশাতে।।
আমায় তুমি দেখলে নাকো, দেখলে আমার রূপের মেলা
হায় রে দেহের শ্মশান-চারী, শব নিয়ে মোর করলে খেলা,
শয়ন-সাথী হ’লে আমার, রইলে নাকো নয়ন-পাতে।।

গজলের সুরে কৃষ্ঞপ্রেম

আমার শ্যামা মায়ের কোলে চড়ে

বাণী

আমার	শ্যামা মায়ের কোলে চ’ড়ে জপি আমি শ্যামের নাম
		মা হলেন মোর মন্ত্র-গুরু ঠাকুর হলেন রাধা-শ্যাম।।
			ডুবে শ্যামা-যমুনাতে
		মা 	খেলবো খেলা শ্যামের সাথে
		শ্যাম যবে মোরে হানবে হেলা মা পুরাবেন মনস্কাম।।
		আমার মনের দোতারাতে শ্যাম ও শ্যামা দুটি তার,
		সেই দোতারায় ঝঙ্কার দেয় ওঙ্কার রব অনিবার।
			মহামায়া মায়ার ডোরে
			আনবে বেঁধে শ্যাম-কিশোরে
আমি		কৈলাসে তাই মাকে ডাকি দেখবো সেথা ব্রজধাম।।

ওরে দেখে যা তোরা নদীয়ায়

বাণী

ওরে দেখে যা তোরা নদীয়ায়
গোরার রূপে এলো ব্রজের শ্যামরায়॥
	মুখে হরি হরি বলে
	হেলে দুলে নেচে চলে
নরনারী প্রেমে গলে ঢলে পড়ে রাঙা পায়॥
ব্রজে নূপুর পরি নাচিত এমনি হরি
কূল ভুলিয়া সবে ছুটিত এমন করি
শচীমাতার রূপে কাঁদিছে মা যশোদা
বিষ্ণু প্রিয়ার চোখে কাঁদে কিশোরী রাধা
নহে নিমাই নিতাই ও যে কানাই বলাই
শ্রীদাম সুদাম এলো জগাই মাধাই-এ হায়॥
আজ এসেছে ভূবন ভুলাতে অসি নাই বাঁশি নাই
ও ভাই এবারে শূন্য হাতে এসেছে ভুবন ভুলাতে।
ও ভাই লীলা পাগল এলো প্রেমে মাতাতে
ডুবু ডুবু নদীয়া বিশ্ব ভাসিয়া যায়॥

সাজে অভিনব সাজে রাই

বাণী

সাজে অভিনব সাজে রাই, — শ্যাম পাগলিনী
নয়ন টিপিয়া হাসে চারিপাশে আহিরিণী
আনমনে মনের ভুলে বাঁধে চূড়া বেণী খুলে
সিঁথি-মৌর ফেলে পরে শিখী-পাখা বিনোদিনী রাই সাজে একি সাজে রে
তারে হেরিয়া কি বনে শ্যাম লুকাইল লাজে রে।
গাগরি বিসরি বাজায় সে বাঁশরি,
পায়েলা পরা-পায়ে নূপুর বাজে রে।
পরিহরি নীলশাড়ি এলো পীত ধরা পরি
হেরিয়া কিশোর হরি মুখে বলে ‘হরি হরি’
আয় রে শ্রীদাম যা রে দেখে, আয় রে সুবল যা রে দেখে,
আয় বিরজা যা রে দেখে, আয় বিশাখা যা রে দেখে,
কার-চাঁদে তোরা দেখেছিস্‌ এবার গোরাচাঁদে তোরা যা লো দেখে।
উছলে রূপের ছটা কোটি রবি-শশী জিনি।।