আমি যদি আরব হতাম মদিনারই পথ

বাণী

আমি যদি আরব হ’তাম — মদিনারই পথ।
এই পথে মোর চ’লে যেতেন নূর নবী হজরত।।
পয়জার তাঁর লাগত এসে আমার কঠিন বুকে,
আমি ঝর্না হয়ে গ’লে যেতাম অম্‌নি পরম সুখে;
সেই চিহ্ন বুকে পুরে পালিয়ে যেতাম কোহ্‌-ই-তুরে,
দিবা নিশি করতাম তাঁর কদম জিয়ারত।।
মা ফাতেমা খেলতো এসে আমার ধূলি ল’য়ে
আমি পড়তাম তাঁর পায়ে লুটিয়ে ফুলের রেণু হয়ে।
হাসান হোসেন হেসে হেসে নাচতো আমার বক্ষে এসে
চক্ষে আমার বইতো নদী পেয়ে সে নেয়ামত।।

মোর পুষ্প-পাগল মাধবী-কুঞ্জে

বাণী

মোর পুষ্প-পাগল মাধবী-কুঞ্জে এই ত প্রথম মধুপ গুঞ্জে,
			তুমি যেয়ো না আজি যেয়ো না।
মম চন্দ্র-হসিত মাধবী নিশীথ বিষাদের মেঘে ছেয়ো না।।
	হের তরুণ তমাল করুণ ছায়ায়
	আসন বিছায়ে তোমারে সে চায়;
তোমার বাঁশির বিদায় সুরে, বন কদম্ব-কেশর ঝুরে;
ওগো অকরুণ! ঐ সকরুণ নীতি গেয়ো না।
			তুমি যেয়ো না আজি যেয়ো না।।
তোলা বন-ফুল রয়েছে আঁচলে হয়নি ক মালা গাঁথা,
বকুলের ছায়ে নব কিশলয়ে হয়নি আসন পাতা।
	মুকুলিয়া মোর কামনা সলাজ
	দলিও না পায়ে, হে রাজাধিরাজ!
মম অধরের হাসি করিও না বাসি, পরবাসী যেতে চেয়ো না!
			তুমি যেয়ো না আজি যেয়ো না।।

নমো নারায়ণ অনন্ত লীলা সিন্ধু

বাণী

নমো নারায়ণ অনন্ত লীলা সিন্ধু বিশাল।
কভু প্রশান্ত উদার কভু কৃতান্ত করাল।।
বিরাট বিপুল তব মহা বিশ্বে,
অনন্ত প্রকাশ অনন্ত দৃশ্যে,
গদা-পদ্মধারী কভু গোলক-বিহারী
কভু গোপাল ব্রজ-দুলাল কিশোর রাখাল।।

আল্লাজী গো আমি বুঝি না রে তোমার খেলা

বাণী

আল্লাজী গো, আমি বুঝি না রে তোমার খেলা।
তাই দুঃখ পেলে ভাবি — বুঝি হানিলে হেলা।। 
কুমার যখন হাঁড়ি গড়ে, কাঁদে মাটি —
ভাবে, কেন পোড়ায় আমায় চড়িয়ে ভাটি;
ফুলদানি হয় পোড় খেয়ে সেই মাটির ঢেলা।। 
মা শিশুরে ধোয়ায় মোছায়, শিশু ভাবে —
ছাড়া পেলে, মা ফেলে সে পালিয়ে যাবে।
মোরা, দোষ করে তাই দুষি তোমায় সারা বেলা।।
আমরা তোমার বান্দা, খোদা তুমি জানো —
কেন হাসাও, কেন কাঁদাও, আঘাত হানো।
যে গড়তে জানে তাঁরই সাজে ভেঙে ফেলা।।

আয় বিজয়া আয় রে জয়া

বাণী

আয় বিজয়া আয় রে জয়া উমার লীলা যা রে দেখে।
সেজেছে সে মহাকালী চোখের কাজল মুখে মেখে।।
	সে ঘুমিয়েছিল আমার কোলে
	জেগে উঠে কেঁদে বলে,
আমায় কালী সাজিয়ে দে মা ছেলেরা মোর কাঁদছে ডেকে।।
চেয়ে দেখি মোর উমা নাই নাচে কালী দিগম্বরী,
হুঙ্কার দেয় কোটি গ্রহের মুণ্ডমালা গলায় পরি’।
	আমি শুধু উমায় চিনি
	এ কোন্ মহামায়াবিনী,
কালোরূপে বিশ্বভুবন আকাশ-পবন দিল ঢেকে।।

ঘন ঘোর বরিষণ মেঘ-ডমরু বাজে

বাণী

ঘন ঘোর বরিষণ মেঘ-ডমরু বাজে
শ্রাবণ রজনী আঁধার।
বেদনা-বিজুরি-শিখা রহি’ রহি’ চমকে
মন চাহে প্রেম অভিসার॥
কোথা তুমি মাধব কোথা তুমি শ্যামরায়?
ঝরিছে নয়ন-বারি অঝোর ধারায়,
কদম-কেয়া-বনে
ডাহুকী আনমনে —
সাথি বিনা কাঁদে অনিবার॥