হারানো হিয়ার নিকুঞ্জ পথে

বাণী

হারানো হিয়ার নিকুঞ্জপথে কুড়াই ঝরা ফুল একেলা আমি।
তুমি কেন হায় আসিলে হেথায় সুখের স্বরগ হইতে নামি।।
	চারিপাশে মোর উড়িছে কেবল
	শুকনো পাতা মলিন ফুল–দল,
বৃথাই কেন হায় তব আঁখিজল ছিটাও অবিরল দিবস–যামী।।
	এলে অবেলায় পথিক বেভুল
	বিঁধিছে কাঁটা নাহি যবে ফুল,
কি দিয়ে বরণ করি ও চরণ নিভিছে জীবন, জীবন–স্বামী।।

শারদ-সন্ধ্যা সমীরে দোলা লাগে

বাণী

শারদ-সন্ধ্যা সমীরে দোলা লাগে ধরণীর বিহ্বল-চিত্তে।
এসো পুরবাসী করি’ সজ্জা, ভরাও ভুবনে গীত-নৃত্যে।।
	পুঞ্জিত মেঘ হ’ল রিক্ত
	অবিরল ধারে ধরা সিক্ত,
মেহেদী ফুলের মঞ্জরি ল’য়ে, সাজাও ভবনে অনুপম বিত্তে।।

মোর পুষ্প-পাগল মাধবী-কুঞ্জে

বাণী

মোর পুষ্প-পাগল মাধবী-কুঞ্জে এই ত প্রথম মধুপ গুঞ্জে,
			তুমি যেয়ো না আজি যেয়ো না।
মম চন্দ্র-হসিত মাধবী নিশীথ বিষাদের মেঘে ছেয়ো না।।
	হের তরুণ তমাল করুণ ছায়ায়
	আসন বিছায়ে তোমারে সে চায়;
তোমার বাঁশির বিদায় সুরে, বন কদম্ব-কেশর ঝুরে;
ওগো অকরুণ! ঐ সকরুণ নীতি গেয়ো না।
			তুমি যেয়ো না আজি যেয়ো না।।
তোলা বন-ফুল রয়েছে আঁচলে হয়নি ক মালা গাঁথা,
বকুলের ছায়ে নব কিশলয়ে হয়নি আসন পাতা।
	মুকুলিয়া মোর কামনা সলাজ
	দলিও না পায়ে, হে রাজাধিরাজ!
মম অধরের হাসি করিও না বাসি, পরবাসী যেতে চেয়ো না!
			তুমি যেয়ো না আজি যেয়ো না।।

গ্রহণী-রোগ-সমা গৃহিণী প্রিয়তমা

বাণী

গ্রহণী-রোগ-সমা গৃহিণী প্রিয়তমা, প্রসীদ! কর ক্ষমা! দেবী নমস্তে।
শতমুখীধারিণী ভীমহুঙ্কারিণী যেন গন্ডারিনী দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে।দেবী নমস্তে।।
চীৎকারে মাঝ রাতে পড়শীরা জেগে যায়
তক্তাপোষের নীচে ছেলে পিলে ভেগে যায়
পদভরে দুদ্দাড় ভেঙ্গে পড়ে ঘর দ্বার
চেড়ীদের সর্দার হাতা-বেড়ী-হস্তে।দেবী নমস্তে।।
শান্ত শিষ্ট এই গোবেচারা স্বামী
তোমার পুলিশ কোর্টে চিরকাল আসামী
তেড়ে আসে বীরজায়া তুমি কুঁদো মোটকা।
বেগতিক দেখে ছুটি আমি রোগা পট্‌কা।
কাঁছাকোঁচা বেসামাল ব্যস্তে সমস্তে।দেবী নমস্তে।।
তুমি পূর্বজন্মে ছিলে ভোজপুরি দারোয়ান
আমি বলীবর্দ তুমি ছিলে গাড়োয়ান;
ময়দা ছিলাম আমি তুমি নিয়ে ঠাসতে।
আহা হা টুটি কেন টিপে ধর? আস্তে, শ্বস্তে।দেবী নমস্তে।।

আধো রাতে যদি ঘুম ভেঙে যায়

বাণী

	আধো রাতে যদি ঘুম ভেঙে যায়, চাঁদ নেহারিয়া প্রিয়
	মোরে যদি মনে পড়ে, বাতায়ন বন্ধ করিয়া দিও।।
		সুরের ডুরিতে জপমালা সম
		তব নাম গাঁথা ছিল প্রিয়তম,
	দুয়ারে ভিখারি গাহিলে সে গান, তুমি ফিরে না চাহিও।।
	অভিশাপ দিও, বকুল-কুঞ্জে যদি কুহু গেয়ে ওঠে,
	চরণে দলিও সেই যুঁই গাছে আর যদি ফুল ফোটে।
		মোর স্মৃতি আছে যা কিছু যেথায়
		যেন তাহা চির-তরে মুছে যায়,
(মোর)	যে ছবি ভাঙিয়া ফেলেছ ধূলায় (তারে) আর তু’লে নাহি নিও।।

ফিরে নাহি এলে প্রিয় ফিরে এলো বরষা

বাণী

ফিরে নাহি এলে প্রিয় ফিরে এলো বরষা।
মুঞ্জরিল বনে বিরহিণী লতিকা —
আমারি আশালতা হ'লো না গো সরসা।।