লায়লী তোমার এসেছে ফিরিয়া

বাণী

লায়লী তোমার এসেছে ফিরিয়া মজনুঁ গো আঁখি খোলো।
প্রিয়তম! এতদিনে বিরহের নিশি বুঝি ভোর হলো।।
মজনুঁ! তোমার কাঁদন শুনিয়া মরু–নদী পর্বতে
বন্দিনী আজ ভেঙেছে পিঞ্জর বাহির হয়েছে পথে।
আজিদখিনা বাতাস বহে অনুকূল,
		ফুটেছে গোলাপ নার্গিস ফুল,
ওগো বুলবুল, ফুটন্ত সেই গুলবাগিচায় দোলো।।
বনের হরিণ–হরিণী কাঁদিয়া পথ দেখায়েছে মোরে,
হুরী ও পরীরা ঝুরিয়া ঝুরিয়া চাঁদের প্রদীপ ধ’রে।
		আমার নয়নে নয়ন রাখিয়া
		কি বলিতে চাও, হে পরান–পিয়া!
নাম ধ’রে ডাকো ডাকো মোরে স্বামী
		ভোলো অভিমান ভোলো।।

টিকি আর টুপিতে লেগেছে দ্বন্দ্ব

বাণী

টিকি আর টুপিতে লেগেছে দ্বন্দ্ব বচন যুদ্ধ ঘোর
কে বড় কে ছোট চাই মীমাংসা, কার আছে কর-জোর॥

টিকি বলে শিরে আমি বিরাজিলে হয় আহা কিবা শোভা।
যেন প্রকান্ড কুষ্মান্ডের বৃন্তটি মনোলোভা।
এ যে চতুর্বর্গ ফলেরি বোঁটা।
শুনে টুপি ফিক্ ক’রে হেসে বল্লেঃ ‘ভায়া, শিরে বিরাজ করবার
শোভার কথা যদি বল তো ও বড়াই আমারি মুখে মানায়,
ও বড়াই আমার মুখে মানায়।’
আমি বাঁকা হয়ে যবে শিরে বসি, দেখে বিবিরা মূর্ছা যায়॥

টিকি বলে, মোরে বলে চৈতন্ কভু বা আর্কফলা
আর আমারি প্রসাদে প্রণামীটা মেলে দুটি বেলা চাল-কলা॥
(মেলে দাদা) দুটি বেলা চাল-কলা॥

[শুনে বাদশাহী চালে টুপি বল্লেঃ ‘আরে তোবা তোবা
চাল আর কলা? ওসব আবার খাদ্য নাকি হে? এ্যাঁ?]
বাদশাহী চালে টুপি বলে ওসব খাদ্য নাকি?
দেখো, আমারি দোয়ায়, আহা তোফা জুটে যায়, গোস্ত ও রামপাখি।

টিকি বলে মিয়া, আমার কৃপায় স্বর্গে free pass মেলে
(আর) আমারঃ through দিয়ে মগজে বুদ্ধি electricity খেলে
মিয়া আমার কৃপায় স্বর্গে free pass মেলে।
এ যে পারে যাবার টিকিট - শুধু টিকিট নয়।
[শুনে টুপি রেগে কাঁই, বল্লেঃ]
বেহেশ্‌তে মোর একচেটে অধিকার
কাফেরের তরে no admission খোদার ইস্তাহার।

(এই রূপে) ক্রমশঃ তর্ক বাড়িল ভীষণ বচনে বেজায় দড়,
এ উহারে কয় মোর ঠাঁই উঁচু তুমি বাপু স’রে পড়॥
সহসা মুন্ড ছিন্ন হইল শক্র কৃপাণ ঘায়।
টুপি আর টিকি একই সঙ্গে ভূঁয়ে গড়াগড়ি যায়॥

পলাশ-মঞ্জরি পরায়ে দে লো মঞ্জুলিকা

বাণী

পলাশ-মঞ্জরি পরায়ে দে লো মঞ্জুলিকা
আজি রসিয়ার রাসে হবো আমি নায়িকা লো মঞ্জুলিকা।।
কৃষ্ণচূড়ার সাথে রঙ্গনে অশোকে
বুলালো রঙের মোহন তুলিকা লো মঞ্জুলিকা।।
	মাদার শিমুল ফুলে
	রঙিন পতাকা দোলে
জ্বলিছে মনে মনে আগুন শিখা লো মঞ্জুলিকা।।

কুহু কুহু কুহু কুহু কোয়েলিয়া

বাণী

কুহু কুহু কুহু কুহু কোয়েলিয়া
কুহরিল মহুয়া-বনে
চমকি জাগিনু নিশীথ শয়নে।।
শূন্য ভবনে মৃদুল সমীরে
প্রদীপের শিখা কাঁপে ধীরে ধীরে
চরণ-চিহ্ন রাখি দলিত কুসুমে
	চলিয়া গেছ তুমি দূর-বিজনে।।
বাহিরে ঝরে ফুল আমি ঝুরি ঘরে
বেণু-বনে সমীরণ হাহাকার করে
ব’লে যাও কেন গেলে এমন ক’রে
	কিছু নাহি ব’লে সহসা গোপনে।।

পিয়া গেছে কবে পরদেশ

বাণী

পিয়া গেছে কবে পরদেশ পিউ কাঁহা ডাকে পাপিয়া,
দোয়েল শ্যামার শিসে তারি হুতাশ উঠিছে ছাপিয়া।।
	পাতারি আড়ালে মুখ ঢাকি'
	মুহুমুহু কুহু ওঠে ডাকি,
বাজে ধ্বনি তারি উহু উহু বিরহী পরাণ ব্যাপিয়া।।
	'বউ কথা কও' পাখি ডাকে —
	কেন মনে প'ড়ে যায় তাকে,
কথা কও বউ — ডাকিত সে মোরে, নিশীথ উঠিত কাঁপিয়া।।

গুণে গরিমায় আমাদের নারী আদর্শ দুনিয়ায়

বাণী

গুণে গরিমায় আমাদের নারী আদর্শ দুনিয়ায়
রূপে লাবেন্য মাধুরী ও শ্রীতে হুরী-পরী লাজ পায়।।
নর নহে,নারী ইসলাম 'পরে প্রথম আনে ঈমান
আম্মা খাদিজা জগতে সর্ব প্রথম মুসলমান।
পুরুষের  সব গৌরব ম্লান এক এই মহিমায়।।
নবী-নন্দিনী ফাতেমা মোদের সতী-নারীদের রানী
যাঁর গুণ-গাথা ঘরে ঘরে প্রতি নর-নারী আজো গায়।।
রহিমার মত মহিমা কাহার তাঁর সম সতী কেবা
নারী নয় যেন মূর্তি ধরিয়া এসেছিল পতি-সেবা
মোদের খাওয়ালা জতের আলা বীরত্বে গরিমায়।।
রাজ্য শাসনে রিজিয়ার নাম ইতিহাসে অক্ষয়
শৌর্যে সাহসে চাঁদ-সুলতানা বিশ্বের বিস্ময়
জেবুন্নেসার তুলনা কোথায়,জ্ঞানের তপস্যায়।।
আঁধার হেরেমে বন্দিনী হল সহসা আলোর মেয়ে
সেইদিন হতে ইসলাম গেল গ্লানির কালিতে ছেয়ে।
লক্ষ খালেদ আসিবে যদি এ নারীরা মুক্তি পায়।।