তোমার দেওয়া ব্যথা সে যে

বাণী

তোমার দেওয়া ব্যথা, সে যে তোমার হাতের দান।
তাই তো সে দান মাথায় তুলে নিলাম, হে পাষাণ।।
	তুমি কাঁদাও তাই ত বঁধু
	বিরহ মোর হল মধু,
সে যে আমার গলার মালা তোমার অপমান।।
আমি বেদীমূলে কাঁদি, তুমি পাষাণ অবিচল,
জানি হে নাথ, সে যে তোমার পূজা নেওয়ার ছল।
	তোমার দেবালয়ে মোরে
	রাখলে পূজারিণী ক’রে,
সেই আনন্দে ভুলেছি নাথ সকল অভিমান।।

চৈত্র পূর্ণিমা রাত্রি মাধবী কানন

বাণী

চৈত্র পূর্ণিমা রাত্রি, মাধবী কানন মধুক্ষরা।
মধুর আনন্দ উল্লাসে রাত্রে ভাসে বসুন্ধরা।।
মুকুল-সৌগন্ধ ভারে দখিনা পবন
নৃত্যের ছন্দে চলে মর্মরিয়া বেণু-বন।
তটিনী ঊর্মির মর্ম নিয়া
শত ভঙ্গে চন্দ্রে নিবেদিয়া —
দুর্নিবার প্রেমোচ্ছ্বাসে কণ্ঠ-কল-গীতে ভরা।।
মধুর পূর্ণিমা নিশি, পূর্ণপাত্র শিরাজি হস্তে যেন সাকি,
জোছনার মদির স্বপ্নে মুকুলিত মাধবীর আঁখি।।
গোলাপের স্নিগ্ধগন্ধে অস্থির অন্তর
আজি রাত্রি হাসিছে সমাহিত প্রসন্ন সুন্দর।
পরিতৃপ্ত চকোরের রুদ্ধ-কণ্ঠ লড়িতে চন্দ্রর
পান করি শারাব গেলাস-ভরা।।

১. সম্ভবত এখানে কবি আরো কিছু শব্দ যুক্ত করতে চেয়েছিলেন।

প্রেমের হাওয়া বইল যখন

বাণী

প্রেমের হাওয়া বইল যখন মুকুল গেল ঝ’রে।
প্রদীপ নিভে রইল, যখন তুমি এলে ঘরে।।
	তোমার আসার লগ্ন এলো
	যে-দিন আশা ফুরিয়ে গেল,
মন গিয়াছে ম’রে যখন পেলাম মনোহরে।।
আঘাত দিয়ে দিয়ে যে-দিন করলে পাষাণ মোরে,
সেদিন নিয়ে বসালে হায়! তোমার ঠাকুর ঘরে।
	তোমার শুভ দৃষ্টি লাগি’
	বহু সে-যুগ ছিলাম জাগি’
আজি কি বেলা-শেষে তুমি এলে স্বয়ম্বরে।।

তুমি সারাজীবন দুঃখ দিলে

বাণী

তুমি	সারাজীবন দুঃখ দিলে, তব দুঃখ দেওয়া কি ফুরাবে না!
যে	ভালোবাসায় দুঃখে ভাসায় সে কি আশা পূরাবে না॥
মোর	জনম গেল ঝুরে ঝুরে - লোকে লোকে ঘুরে ঘুরে,
তব	স্নিগ্ধ পরশ দিয়ে কি, নাথ, দগ্ধ হিয়া জুড়াবে না॥
তুমি	অশ্রুতে যে-বুক ভাসালে —
সেই	বক্ষে এসো দিন ফুরালে
তুমি	আঘাত দিয়ে ফুল ঝরালে, হাত দিয়ে কি কুড়াবে না॥

তুমি নামো হে নামো শামো

বাণী

[কেডারে? কেডা? উ-কেলিকদম্ব গাছে এই ডাল ঐ ডাল কইরা লাফ দিয়া বেড়াইত্যাছ? ও — ঘোষ পাড়ার হেই বখাইট্রা পোলাটা না? 
উ-হুঁ-হুঁ, আবার পিরুক কইরা বাঁশি বাজান হইত্যাছে ? নাম্যা, আসো। ভরদুপুর বেলা মাইয়াগো সান ঘাটের কাছে — অ্যাঁ-হ্যাঁ-হ্যাঁ আবার কিষ্ট সাজাছেন?
বলি কেষ্ট সাজছো? নামো শিগগিরে নামো পোড়া কপাইল্যা নামো —]
তুমি নামো হে নামো শামো হে শামো কদম্ব ডাল ছাইড়া নামো। দুপরি রৌদ্রে বৃথাই ঘামো ব্যস্ত রাধা কাজে, ওহে শামো হে শামো॥ আরে তোমার ললিতাদেবী কি করতেয়াছে জাননি? তোমার ললিতাদেবী? আরে ললিতাদেবী সলিতা পাকায়, বিশাখা ঝোলে হিজল শাখায়। আর বৃন্দাদুতী কি করছে জান? বৃন্দাদুতী? বৃন্দাদুতী পিন্দা ধুতি গোষ্টে গেছেন তোমার ‘পোস্টে’ সাজিয়া রাখাল সাজে আর চন্দ্রা গ্যাছেন অন্ধ্র দেশে মান্দ্রাজী জাহাজে॥ আবার ইতি উতি চাও ক্যা? ইতি উতি চাইবার লাগছ ক্যা? এ্যা? আমি কমুনা কোন্‌খানে তোমার যমুনা - তা আমি কমু না? আরে (তুমি) ইতি উতি চাও বৃথাই আমি কমু না কোথায় তোমার যমুনা কইলকাতা আর ঢাকা রমনার লেকে পাবে তার নমুনা। আরে তোমার যমুনা লেক হইয়া গ্যাছে গিয়া! বুঝ্‌লা? হালার যমুনা ল্যাক হইয়া গ্যাছে গিয়া। কলেজে ফিরিছে শ্রীদাম সুদাম শ্রীদাম সুদাম কলেজে যাইতেয়াছে, আর তুমি এখানে বাঁশি বাজাইতেয়াছ অ্যাঁ! পোড়া কপাইল্যা — কলেজে ফিরিছে শ্রীদাম সুদাম, মেরে মাল কোঁচা খুলিয়া বোতাম লাঙ্গল ছাড়িয়া বলরাম ডাম্বেল মুঘার ভাঁজে। ওহে শামো হে শামো আরে তুমি নামো, পোড়া কপাইল্যা নামো॥

হে মদিনার নাইয়া

বাণী

হে মদিনার নাইয়া!
ভব-নদীর তুফান ভারি কর মোরে পার
তোমার দয়ায় ত’রে গেল লাখো গুনাহ্‌গার॥
পারের কড়ি নাই হে আমার হয়নি নামাজ রোজা
কূলে এসে বসে আছি নিয়ে পাপের বোঝা
(আমায়) ‘পার কর ইয়া রসুল’ বলে কাঁদি জারে জার॥
তোমার নাম গেয়েছি শুধু কেঁদে সুব্‌হ শাম
তরিবার মোর নাই ত’ পুঁজি বিনা তোমার নাম।
হাজরো বার দরিয়াতে ডুবে যদি মরি
ছাড়ব না মোর পারের আশা তোমার চরণ-তরী
সবার শেষে পার যেন হয় এই খিদ্‌মতগার॥