হেরা হতে হেলে দুলে নূরানী তনু

বাণী

হেরা হতে হেলে দুলে নূরানী তনু ও কে আসে হায়,
সারা দুনিয়ার হেরেমের পর্দা খুলে খুলে যায় —
সে যে আমার কমলিওয়ালা — কমলিওয়ালা।।
তার ভাবে বিভোল রাঙা পায়ের তলে
পর্বত জঙ্গম টলমল টলে,
খোরমা খেজুর বাদাম জাফরানি ফুল ঝ’রে ঝ’রে যায় —
সে যে আমার কমলিওয়ালা — কমলিওয়ালা।।
আসমানে মেঘ চলে ছায়া দিতে,
পাহাড়ের আঁসু গলে ঝরনার পানিতে,
বিজলি চায় মালা হতে,
পূর্ণিমার চাঁদ তার মুকুট হতে চায় —
সে যে আমার কমলিওয়ালা — কমলিওয়ালা।।

এ কুঞ্জে পথ ভুলি কোন বুলবুলি

বাণী

এ কুঞ্জে	পথ ভুলি কোন	বুলবুলি আজ	গাইতে এলে গান।
বসন্ত		গত মোর আজ	পুষ্প-বিহীন		লতিকা-বিতান।।
এলে কি	দলিতে আজ	ধুলি ঢাকা		ফুল-সমাধি মোর,
নাহি আর	চৈতি হাওয়া,	বহে আজি		বৈশাখী তুফান।।
সাজায়ে	ফুলের বাসর	ছিনু তব		পথটি চেয়ে।
সে বাসর	বাসি হল		কেঁদে নিশি		হল অবসান।।
বাজে মোর	তোরণ দ্বারে		খেলা শেষের	বিদায়-বাঁশরি।
ফিরে যাও	শেষ-অতিথি		দাও যেতে দাও	লয়ে অভিমান।।

১. পথ

অবিরত বাদর বরষিছে ঝরঝর

বাণী

অবিরত বাদর বরষিছে ঝরঝর
বহিছে তরলতর পূবালি পবন।
	বিজুরী-জ্বালার মালা
	পরিয়া কে মেঘবালা
কাঁদিছে আমারি মত বিষাদ-মগন।।
ভীরু এ মন-মৃগ আলয় খুঁজিয়া ফিরে,
জড়ায়ে ধরিছে লতা সভয়ে বনস্পতিরে,
গগনে মেলিয়া শাখা কাঁদে বন-উপবন।।

চলচ্চিত্রঃ ‌‘ধ্রুব’

প্রিয়তম এত প্রেম দিও না গো সহিতে পারি না আর

বাণী

প্রিয়তম, এত প্রেম দিও না গো সহিতে পারি না আর
তটিনীর বুকে ঝাঁপায়ে পড়িলে কেন মহা- পারাবার।।
	তোমার প্রেমের বন্যায় বঁধু, হায়!
	দুই কুল মোর ভাঙিয়া ভাসিয়া যায়;
আমি নিজেরে হারাতে চাহিনি, বন্ধু; দিতে চেয়েছিনু হার।।
তুমি চাহ বুঝি তুমি ছাড়া আর রহিবে না মোর কেউ,
তাই কি পরানে তুফান তোলে গো এত রোদনের ঢেউ।
	দেহ ও মনের সীমা ছাড়াইয়া মোরে
	কোথায় নিয়ে যেতে চাও মোর হাত ধরে
বলো কোন মধু বনে শেষ হবে বঁধু আমাদের অভিসার।।

চপল আঁখির ভাষায় হে মীনাক্ষী ক’য়ে যাও

বাণী

চপল আঁখির ভাষায়, হে মীনাক্ষী ক’য়ে যাও।
না-বলা কোন্ বাণী বলিতে চাও॥
	আড়ি পাতে নিঝ্‌ঝুম বন
	আঁখি তুলি’ চাহিবে কখন,
আঁখির তিরস্কারে ঐ বন-কান্তারে ফুল ফোটাও॥
নিটোল আকাশ টোল খায় তোমারি চাওয়ায়, হে মীনাক্ষী,
নদী-জলে চঞ্চল সফরী লুকায়, হে মীনাক্ষী!
	ওই আঁখির করুণা
	ঢালো রাগ অরুণা,
আঁখিতে আঁখিতে ফুল-রাখি বেঁধে দাও॥

আমার হাতে কালি মুখে কালি

বাণী

আমার হাতে কালি মুখে কালি, মা 
আমার কালিমাখা মুখ দেখে মা 
পাড়ার লোকে হাসে খালি।। 
মোর লেখাপড়া হ’ল না মা, 
আমি ‘ম’ দেখিতেই দেখি শ্যামা, 
আমি ‘ক’ দেখতেই কালী ব’লে 
নাচি দিয়ে করতালি।। 
কালো আঁক দেখে মা ধারাপাতের 
ধারা নামে আঁখি পাতে, 
আমার বর্ণ পরিচয় হ’লো না মা 
তোর বর্ণ বিনা কালী। 
যা লিখিস মা বনের পাতায় 
সাগর জলে আকাশ খাতায়, 
আমি সে লেখা তো পড়তে পারি 
মূর্খ বলে দিক্‌ না গালি মা, 
লোকে মূর্খ ব’লে দিক্‌ না গালি।।