আমার ধ্যানের ছবি আমার হজরত

বাণী

আমার ধ্যানের ছবি আমার হজরত।
ও নাম প্রাণে মিটায় পিয়াসা,
আমার তামান্না আমারি আশা,
আমার গৌরব আমারি ভরসা,
এ দীন গোনাহগার তাঁহারই উম্মত।।
ও নামে রওশন জমীন আসমান,
ও নামে মাখা তামাম জাহান,
ও নামই দরিয়ায় বহায় উজান,
ও নাম ধেয়ায় মরু ও পর্বত।।
আমার নবীর নাম জপে নিশিদিন
ফেরেশ্‌তা আর হুর পরী জিন্‌,
ও নাম জপি আমার ভোমরায়
পাবো কিয়ামতে তাঁহার শাফায়ৎ।।

বক্ষে আমার কাবার ছবি

বাণী

বক্ষে আমার কাবার ছবি চক্ষে মোহাম্মদ রসুল।
শিরোপরি মোর খোদার আরশ গাই তাঁরি গান পথ বেভুল।।
লায়লী প্রেমে মজনু পাগল আমি পাগল লা-ইলা’র,
প্রেমিক দরবেশ আমায় চেনে অরসিকে কয় বাতুল।।
হৃদয়ে মোর খুশির বাগান বুলবুলি তায় গায় সদাই,
ওরা খোদার রহম মাগে আমি খোদার ইশ্‌ক্‌ চাই।
আমার মনের মস্‌জিদে দেয় আজান হাজার মোয়াজ্জিন
প্রাণের ‘লওহে’ কোরান লেখা রুহ্‌ পড়ে তা রাত্রি দিন।
খাতুনে জিন্নত মা আমার হাসান হোসেন চোখের জেল,
ভয় করি না রোজ-কেয়ামত পুল সিরাতের কঠিন পুল।।

ঝুমঝুম ঝুমরা নাচ নেচে কে এলো

বাণী

ঝুমঝুম ঝুমরা নাচ নেচে কে এলো গো সই লো দেখে আয়।
বৈঁচি বনে বিরহে বাউরি বাতাস বহে এলোমেলো গো।।
আঁড়বাঁশি বাজায় আড়চোখে তাকায়
তীর হানার ভঙ্গিতে ধনুক বাঁকায়
নন্দন পাহাড়ে তাহারে দেখে চাঁদ আঁউরে গেল গো।।
ঝাঁকড়া চুলের পাশে টুলটুলে চোখ হাসে কতই ছলে
মোরলা মাছ যেন খেলে বেড়ায় গো কালো জলে।
মৌটুসির মো ফেলে ভোমরা রয় তাকিয়ে
গুরুজনের মত বটের তরু দাঁড়িয়ে জট পাকিয়ে
আমলকি গাছের আড়ালে লুকিয়ে দেখি, দেখতে কি তা পেল গো (সে)।।

নাটিকাঃ ‘অর্জুন বিজয়’

আমার মা আছে রে সকল নামে

বাণী

(আমার)	মা আছে রে সকল নামে মা যে আমার সর্বনাম।
	যে নামে ডাক শ্যামা মাকে পুর্‌বে তাতেই মনস্কাম।।
		ভালোবেসে আমার শ্যামা মাকে
		যার যাহা সাধ সেই নামে সে ডাকে,
	সেই নামে মা দেয় রে সাড়া১ কেউ শ্যামা কয়, কেহ শ্যাম।।
	এক সাগরে মিশে গিয়ে সকল নামের নদী,
	সেই হরি হর কৃষ্ণ ও রাম, দেখিস্ তাঁকে যদি।
		নিরাকারা সাকারা সে কভু
		সকল জাতির উপাস্য সে প্রভু,
	নয় সে নারী নয় সে পুরুষ, সর্বলোকে তাঁহার ধাম।।

১. দেয় রে ধরা।

ভুবনজয়ী তোরা কি হায় সেই মুসলমান

বাণী

ভুবনজয়ী তোরা কি হায়, সেই মুসলমান।
খোদার রাহে আনলো যারা দুনিয়া না-ফরমান।
এশিয়া য়ুরোপ আফ্রিকাতে যাহাদের তক্‌বীর
হুঙ্কারিল, উড়ল যাদের বিজয়-নিশান।।
যাদের নাঙ্গা তলোয়ারের শক্তিতে সেদিন
পারস্য আর রোম রাজত্ব হইল খান-খান।।
শুকনো রুটি খোরমা খেয়ে যাদের খলিফা,
হেলায় শাসন করিল রে অর্ধেক জাহান।।
যাদের নবী কম্‌লিওয়ালা শাহানশাহ্ হয়ে,
আজকে তা’রা বিলাস-ভোগের খুলেছে দোকান।।
সিংহ-শাবক ভুলে আছিস্ শৃগালের দলে,
দুনিয়া আবার পায়ে কি তোর হবে কম্পমান।।

মণি-মঞ্জির বাজে অরুণিত চরণে

বাণী

মণি-মঞ্জির বাজে অরুণিত চরণে সখি
রুনু ঝুনু রুনু ঝুনু মণি-মঞ্জির বাজে।
হের গুঞ্জা-মালা গলে বনমালী চলিছে কুঞ্জ মাঝে।।
চলে নওল কিশোর,
হেলে দুলে চলে নওল কিশোর।
হেরি সে লাবনি কৌস্তুভমণি নিষ্প্রভ হ’ল লাজে।
চরণ-নখরে শ্যামের আমার চাঁদের মালা বিরাজে।। সখি গো —
বঁধূর চলার পথে পরান পাতিয়া র’ব চলিতে দলিয়া যাবে শ্যাম;
আমি হইয়া পথের ধূলি বক্ষে লইব তুলি’ চরণ-চিহ্ন অভিরাম।
ভুলে যা তোরা রাধারে কৃষ্ণ-নিশির আঁধারে
হারায়ে সে গেছে চিরতরে,
কালো যমুনার জলে ডুবেছে সে অতল তলে
ভেসে গেছে সে শ্যাম-সাগরে।।
ঐ বাঁশি বাজিছে শোন রাধা ব’লে,
তরুণ তমাল চলে, অঙ্গ-ভঙ্গে শিখি-পাখা টলে।
তা’র হাসিতে বিজলি, কাজল-মেঘে যেন উঠিছে উছলি’।
রূপ দেখে যা দেখে যা,
কোটি চাঁদের জোছনা-চন্দন মেখে যা, মোর শ্যামলে দেখে যা।।