আধো ধরণী আলো আধো আঁধার

বাণী

আধো ধরণী আলো আধো আঁধার।
কে জানে দুখ-নিশি পোহাল কার।।
আধো কঠিন ধরা আধেক জল,
আধো মৃণাল-কাঁটা আধো কমল।
আধো সুর, আধো সুরা — বিরহ, বিহার।।
আধো ব্যথিত বুকের আধেক আশা,
আধেক গোপন আধেক ভাষা!
আধো ভালোবাসা আধেক হেলা
আধেক সাঁঝ আধো প্রভাত-বেলা
আধো রবির আলো — আধো নীহার।।

আমার মা যে গোপাল-সুন্দরী

বাণী

	আমার মা যে গোপাল-সুন্দরী। 
যেন	এক বৃন্তে কৃষ্ণ-কলি অপরাজিতার মঞ্জরি।।
মা	আধেক পুরুষ অর্ধ অঙ্গে নারী
	আধেক কালি আধেক বংশীধারী,
	অর্ধ অঙ্গে পীতাম্বর আর অর্ধ অঙ্গে দিগম্বরী।।
মা	সেই পায়ে প্রেম-কুসুম ফোটায় নূপুর-পরা যে চরণ,
মা'র	সেই পায়ে রয় সর্প-বলয় যে পায়ে প্রলয়- মরণ। 
	মার আধ-ললাটে অগ্নি-তিলক জ্বলে
	চন্দ্রলেখা আধেক ললাট তলে,
	শক্তিতে আর ভক্তিতে মা আছেন যুগল রূপ ধরি'।।

দোলন চাঁপা বনে দোলে

বাণী

দোলন চাঁপা বনে দোলে —
	দোল-পূর্ণিমা-রাতে চাঁদের সাথে।
শ্যাম পল্লব কোলে যেন দোলে রাধা
	লতার দোলনাতে॥
যেন দেব-কুমারীর শুভ্র হাসি
ফুল হয়ে দোলে ধরায় আসি’
আরতির মৃদু জ্যোতি প্রদীপ-কলি
	দোলে যেন দেউল-আঙিনাতে॥
বন-দেবীর ওকী রুপালি ঝুমকা
	চৈতি সমীরণে দোলে —
রাতের সলাজ আঁখি-তারা
	যেন তিমির আঁচলে।
ও যেন মুঠিভরা চন্দন-গন্ধ
দোলে রে গোপিনির গোপন আনন্দ,
ও কী রে চুরি করা শ্যামের নূপুর —
	চন্দ্র-যামিনীর মোহন হাতে॥

মাধব বংশীধারী বনওয়ারী

বাণী

মাধব বংশীধারী বনওয়ারী গোঠ-চারী গোবিন্দ কৃষ্ণ মুরারী।
গোবিন্দ কৃষ্ণ মুরারি হে পাপ-তাপ-দুখ-হারী।।
কালরূপ কভু দৈত্য-নিধনে, চিকন কালা কভু বিহর বনে,
কভু বাজাও বেণু, খেল ধেনু-সনে,
কভু বামে রাধা প্যারী, গোপ-নারী মনোহারি, নিকুঞ্জ-লীলা-বিহারী।।
কুরুক্ষেত্র-রণে পান্ডব-মিতা, কন্ঠে অভয়বাণী ভগবদ্-গীতা,
পূর্ণ ভগবান পরম পিতা, শঙ্খ-চক্র-গদাধারী,
পাপ-তারী, কান্ডারি ত্রিভুবন সৃজনকারী।।

পালিয়ে তুমি বেড়াবে কি এমনিভাবে

বাণী

পালিয়ে তুমি বেড়াবে কি এমনিভাবে
এমনি ক'রে জনম কি মোর কেঁদেই যাবে।।
	ওগো চপল বনের পাখি
	ধরা তুমি দেবে না কি,
অন্তরালে থাকি' শুধু গান শোনাবে।।
কেন এলে নিঠুর তুমি পথিক হাওয়া
তোমার স্বভাব ফুল ফুটিয়েই ঝরিয়ে যাওয়া
	হে বিরহী, লীলা-চত্বর,
	অশ্রু কি মোর এতই মধুর!
কবে এসে আমার অভিমান ভাঙাবে।।

লহ সালাম লহ দ্বীনের বাদশাহ

বাণী

লহ সালাম লহ, দ্বীনের বাদশাহ, জয় আখেরি নবী।
পীড়িত জনগণে মুক্তি দিতে এলে হে নবীকুলের রবি।।
	তুমি আসার আগে ধরার মজলুম
	করিত ফরিয়াদ, চোখে ছিল না ঘুম,
ধরার জিন্দানে, বন্দী ইনসানে আজাদি দিতে এলে হে প্রিয় আল-আরবি।।
	তব দামন ধরি’ যত গোনাহগার,
	মাগিল আশ্রয়, তুমিই করিবে পার।
	মানুষ ছিল আগে বন্য পশু প্রায়
	কাঁদিত পাপে তাপে অভাব ও বেদনায়,
শান্তি-দাতা রূপে সহসা এলে তুমি ফুটিল দুনিয়াতে নব বেহেশ্‌তের ছবি।।