নাচে নাচে রে মোর কালো মেয়ে নৃত্যকালী

বাণী

নাচে	নাচে রে মোর কালো মেয়ে নৃত্যকালী শ্যামা নাচে।
	নাচ হেরে তার নটরাজও প'ড়ে আছে পায়ের কাছে।।
		মুক্তকেশী আদুল গায়ে
		নেচে বেড়ায় চপল পায়ে
	মা'র চরণে গ্রহতারা নূপুর হয়ে জড়িয়ে আছে।।
	ছন্দ-সরস্বতী দোলে পুতুল হয়ে মায়ের কোলে রে
	সৃষ্টি নাচে, নাচে প্রলয় মায়ের আমার পায়ের তলে রে।
		আকাশ কাঁপে নাচের ঘোরে
		ঢেউ খেলে যায় সাত সাগরে
	সেই নাচনের পুলক জাগে ফুল হয়ে রে লতায় গাছে।।

আজ বন-উপবন মে চঞ্চল

বাণী

আজ বন-উপবন মে চঞ্চল মেরে মনমে।
মোহন মুরলীধারী কুঞ্জ কুঞ্জ ফিরে শ্যাম।।
সুনো মোহন নূপুর গুঞ্জত হ্যয় —
বাজে মুরলী বোলে রাধা নাম কুঞ্জ কুঞ্জ ফিরে শ্যাম।।
বোলে বাঁশরি আও শ্যাম-পিয়ারি,
ঢুঁড়ত হায় শ্যাম-বিহারী,
বনমালা সব চঞ্চল ওড়াওয়ে অঞ্চল —
কোয়েল সখি গাওয়ে সাথ গুণধাম কুঞ্জ কুঞ্জ শ্যাম।।
ফুলকলি ভোলে ঘুঁঘট খোলে
পিয়াকে মিলনকি প্রেমকি বোলি বোলে,
পবন পিয়া লেকে সুন্দর সৌরভ —
হাঁসত যমুনা সখি দিবস-যাম কুঞ্জ কুঞ্জ ফিরে শ্যাম।।

সাগর হ’তে চুরি ডাগর তার আঁখি

বাণী

সাগর হ’তে চুরি ডাগর তার আঁখি।
গভীর চাহনীতে করুণা মাখামাখি।।
সফরী সম তাহে ভাসিছে আঁখি-তারা,
তাহারি লোভে যেন উড়িছে ভুরু-পাখি।।
দুলে তরঙ্গ তাহে কভু ঘোর কভু ধীরে,
আঁখির লীলা হেরি’ আঁখিতে আঁখি রাখি।।
ভীরু হরিণ-চোখে অশনি হান কেন,
শারাব-পিয়ালাতে জহর কেন সাকি।।
আঁখির ঝিনুকে কবে ফলিবে প্রেম-মোতি,
ডুবিবে আঁখি-নীরে সেদিনের নাহি বাকী।।

অগ্রপথিক হে সেনাদল

বাণী

অগ্রপথিক হে সেনাদল, জোর্‌ কদম্‌ চল্‌ রে চল।
রৌদ্রদগ্ধ মাটিমাখা শোন্‌ ভাইরা মোর,
বাসি বসুধায় নব অভিযান আজিকে তোর!
রাখ্‌ তৈয়ার হাথেলিতে হাথিয়ার জোয়ান,
হান্‌রে নিশিত পাশুপতাস্ত্র অগ্নিবাণ।
কোথায় হাতুড়ি কোথা শাবল?
অগ্র-পথিক রে সেনাদল, জোর্‌ কদম্‌ চল রে চল্‌।।
কোথায় মানিক ভাইরা আমার, সাজ রে সাজ!
আর বিলম্ব সাজে না চালাও কুচকাওয়াজ!
আমরা নবীন তেজ-প্রদীপ্ত বীর তরুণ
বিপদ বাধার কণ্ঠ ছিঁড়িয়া শুষিব খুন!
আমরা ফলাব ফুল-ফসল।
অগ্র-পথিক রে যুবাদল, জোর্‌ কদম্‌ চল রে চল্‌।।
প্রাণ-চঞ্চল প্রাচী-র তরুণ, কর্মবীর,
হে মানবতার প্রতীক গর্ব-উচ্চশির!
দিব্যচক্ষে দেখিতেছি, তোরা দৃপ্তপদ
সকলের আগে চলিবি পারায়ে গিরি ও নদ,
মরু-সঞ্চর গতি চপল।
অগ্র-পথিক রে পাঁওদল, জোর্‌ কদম্‌ চল রে চল্‌।।
স্থবির শ্রান্ত প্রাচী-র প্রাচীন জাতিরা সব
হারায়েছে আজ দীক্ষা দানের সে গৌরব।
অবনত-শির গতিহীন তারা, মোরা তরুণ
বহিব সে ভার, লব শাশ্বত ব্রত দারুণ,
শিখাব নতুন মন্ত্রবল।
রে নব পথিক যাত্রীদল, জোর কদম্‌ চল্‌ রে চল্‌।।
আমরা চলিব পশ্চাতে ফেলি পচা অতীত,
গিরি-গুহা ছাড়ি খোলা প্রান্তরে গাহিব গীত।
সৃজিব জগৎ বিচিত্রতর, বীর্যবান,
তাজা জীবন্ত সে নব সৃষ্টি শ্রম-মহান্‌
চলমান-বেগে প্রাণ-উছল।
রে নব যুগের স্রষ্টাদল, জোর্‌ কদম্‌ চল্‌ রে চল্‌।।
অভিযান-সেনা আমরা ছুটিব দলে দলে
বনে নদীতটে গিরি-সঙ্কটে জলে-থলে।
লঙ্ঘিব খাড়া পর্বত-চূড়া অনিমেষে,
জয় করি সব তসনস্‌ করি’ পায়ে পিষে —
অসীম সাহসে ভাঙি’ লাগল!
না-জানা পথের নকীব-দল, জোর্‌ কদম্‌ চল্‌ রে চল্‌।।
পাতিত করিয়া শুষ্ক বৃদ্ধ অটবীরে
বাঁধ বাঁধি চলি দুস্তর খর স্রোত-নীরে।
রসাতল চিরি’ হীরকের খনি করি খনন,
কুমারী ধরার গর্ভে করি গো ফুল সৃজন,
পায়ে হেঁটে মাপি ধরণীতল।
অগ্র-পথিক রে চঞ্চল, জোর্‌ কদম্‌ চল্‌ রে চল্‌।।
আমরা এসেছি নবীন প্রাচী-র নবস্রোতে
ভীম পর্বত ক্রকচ-গিরির চূড়া হতে,
উচ্চ অধিত্যকা প্রণালিকা হইয়া পার
আহত বাঘের পদ-চিন্‌ ধরি হয়েছি বা’র;
পাতাল ফুঁড়িয়া, পথ-পাগল।
অগ্র-বাহিনী পথিক দল, জোর কদম্‌ চল্‌ রে চল্‌।।
অভয়-চিত্ত ভাবনা-মুক্ত যুবারা শুন্‌!
মোদের পিছনে চীৎকার করে পশু, শুকুন।
ভ্রূকুটি হানিছে পুরাতন পচা গলিব শব,
রক্ষণ-শীল বুড়োরা করিছে তাহারি স্তব,
শিবারা চেঁচাক, শিব অটল!
নির্ভীক বীর পথিক-দল, জোর কদম্‌ চল্‌ রে চল্‌।।
আগে — আরো আগে সেনা-মুখ যথা করিছে রণ,
পলকে হতেছে পূর্ণ মৃতের শূন্যাসন,
আছে ঠাঁই আছে, কে থামে পিছনে? হ’ আগুয়ান,
যুদ্ধের মাঝে পরাজন মাঝে চলো জোয়ান!
জ্বাল্‌ রে মশাল জ্বাল্‌ অনল!
অগ্রযাত্রী রে সেনাদল, জোর্‌ কদম্‌ চল্‌ রে চল্‌।।
ওগো ও প্রাচী-র দুলালি দুহিতা তরুণীরা,
ওগো জায়া, ওগো ভগিনীরা! ডাকে সঙ্গীরা!
তোমরা নাই গো, লাঞ্ছিত মোরা তাই আজি,
উঠুক তোমার মণি-মঞ্জীর ঘন বাজি’
আমাদের পথে চল-চপল।
অগ্র-পথিক তরুণ-দল, জোর্‌ কদম্‌ চল্‌ রে চল্‌।।
নেমেছে কি রাতি, ফুরায় না পথ সুদুর্গম?
কে থামিস্‌ পথে ভগ্নোৎসাহ নিরুদ্যম?
বসে নে খানিক পথ-মঞ্জিলে, ভয় কি ভাই,
থামিলে দুদিন ভোলে যদি লোকে — ভুলুক তাই!
মোদের লক্ষ্য চির-অটল।
অগ্রপথিক ব্রতীর দল, বাঁধ রে বুক, চল্‌ রে চল্‌।।
শুনিতেছি আমি, শোন্‌ ঐ দূরে তূর্য-নাদ
ঘোষিছে নবীন ঊষার উদয়-সুসংবাদ!
ওরে ত্বরা কর্‌! ছুটে চল্‌ আগে — আরো আগে!
গান গেয়ে চলে অগ্রবাহিনী, ছুটে চল্‌ তারো পুরোভাগে!
তোর অধিকার কর দখল!
অগ্র-নায়ক রে পাঁওদল! জোর কদম্‌ চল্‌ রে চল্‌।।

মার্চের সুর

তুষার-মৌলি জাগো জাগো গিরি-রাজ

বাণী

তুষার-মৌলি জাগো জাগো গিরি-রাজ।
পঙ্গু তোমারে আজি হানিতেছে লাজ।।
রুদ্র ও রুদ্রাণী অঙ্কে যাহার,
দৈত্য হরিছে আজ সম্মান তার।
হে মহা-মৌনী, জাগো, পর নব সাজ।।
স্বর্গ তোমার শিরে, পদতলে হায়,
আর্যাবর্ত কাঁদে চির অসহায়
মেঘ-লোক হ’তে হান দৈত্যেরি বাজ।।

ঘর-ছাড়া ছেলে আকাশের চাঁদ

বাণী

	ঘর-ছাড়া ছেলে আকাশের চাঁদ আয় রে।
	জাফ্‌রানি রঙের পরাব পিরান তোর গায় রে।।
	আস্‌মানে যেতে চায় তারা হয়ে আমার নয়ন-তারা
(তোর)	খেলার সাথি কাঁদে শাপ্‌লার ফুল, ফিরে আয় পথ-হারা,
	দু’নয়ন ঘুমে ঢুলে, হৃদয় ঘুমায় না, কাছে পেতে চায় রে।।
	চোখের কাজল তোর চাঁদ-মুখে লেগেছে, (আয়) মুছাব আঁচলে
	দেখ্ মায়ের তোর স্নেহের সাগর আছে উথলে,
(মোর)	মনের ময়না! ঘরে মন রয় না, পথ চেয়ে’ রাত কেটে যায় রে।।

চলচ্চিত্র : ‘চৌরঙ্গী’