দূর প্রবাসে প্রাণ কাঁদে আজ

বাণী

দূর প্রবাসে প্রাণ কাঁদে আজ শরতের ভোর হাওয়ায়।
শিশির-ভেজা শিউলি ফুলের গন্ধে কেন কান্না পায়।।
সন্ধ্যা বেলার পাখির সম মন উড়ে যায় নীড়-পানে।
নয়ন-জলের মালা গাঁথে বিরহিণী এক্‌লা, হায়।।
কোন্ সুদূরে নওবতে কার বাজে সানাই যোগিয়ায়।
টলমল টলিছে মন কমল-পাতে শিশির-প্রায়।।
ফেরেনি আজ ঘরে কে হায় ঘরে যে আর ফিরবে না।
কেঁদে কেঁদে তারেই যেন ডাকে বাঁশি, ‘ফিরে আয়’।।

আমার ঘরের মলিন দীপালোকে

বাণী

আমার ঘরের মলিন দীপালোকে
জল দেখেছি যেন তোমার চোখে।।
	বল পথিক বল বল
	কেন নয়ন ছল ছল
কেন শিশির টলমল কমল-কোরকে।।
তোমার হাসির তড়িৎ আলোকে
মেঘ দেখেছি তব মানস-লোকে।
	চাঁদনি রাতে আনো কেন
	পুবের হাওয়ার কাঁদন হেন?
ধূলি ঝড়ে ঢাকল যেন ফুলেল বসন্তকে।।

তোমার ডাক শুনেছি নিশীথ রাতের

বাণী

তোমার ডাক শুনেছি নিশীথ রাতের অন্ধকারে।
এবার মোদের চির মিলন ধূলির ধরার পরপারে।।

নাটিকা : ‘লায়লী-মজনু’

ছলছল নয়নে মোর পানে চেয়ো না

বাণী

ছলছল নয়নে মোর পানে চেয়ো না
যাবে যাও, নয়নে জল নিয়ে যেয়ো না।।
থাকে ব্যথা থাক বুকে, যাও তুমি হাসি মুখে
আমার চাঁদিনী রাত ঘন মেঘে ছেয়ো না।।
রঙিন পিয়ালাতে মম লোনা অশ্রু-জল ঢালি’
পানসে ক’রো না নেশা, জীবন ভরা ব্যথা খালি।
ভুলিতে চাহি যে ব্যথা, মনে এনো না সে কথা,
করুণ সুরে আর বিদায়-গীতি গেয়ো না।।

শোন্ ও-সন্ধ্যা-মালতী বালিকা তপতী

বাণী

শোন্ 	ও-সন্ধ্যা-মালতী, বালিকা তপতী
	বেলা শেষের বাঁশি বাজে, বাজে।
	শোনো মাধবী চাঁদের মধুর মিনতি
	উদাস আকাশ মাঝে।।
তব	মৌন ব্রত ভাঙ্গো কও কথা কও
মোর	নৃত্য আরতির সঙ্গিনী হও,
	মাধবী হেনা হের এলো বাহিরে —
	রসরাজে হেরি’ রাস-নৃত্যের সাজে।।
তুমি	যার লাগি’ সারাদিন, বিরহ ধ্যান-লীন একাকিনী কুঞ্জে।
	সুন্দর দাঁড়ায়ে তব দ্বারে আঁধারে
	মঞ্জরি-দীপ জ্বালো ডাকো তারে,
	বুকের চন্দন-সুরভি ঢালো —
	পাতার আঁচলে মুখ ঢেকো না লাজে।।

একেলা ঢুলিয়া ঢুলিয়া কে যায়

বাণী

একেলা ঢুলিয়া ঢুলিয়া কে যায়।
চলিতে চরণ চরণে জড়ায়।।
এখনো ভাঙেনি মল্লিকার ঘুম
এখনো অমলিন-কবরী কুসুম,
নয়নে নিশির ঝরেনি শিশির
বিহগ পাখায় বিহগী ঘুমায়।।
অভিসার নিশি বৃথাই জাগি কোথা
অভিমানিনী চলে মূর্তিমতী ব্যথা।
ভীরু চকিত চোখে করুণ কাতরতা
রবি না ওঠে যেন মিনতি জানায়।।