আমিনা দুলাল এসো মদিনায়

বাণী

আমিনা দুলাল এসো মদিনায় ফিরিয়া আবার, ডাকে ভুবনবাসী।
হে মদিনার চাঁদ! জ্যোতিতে তোমার, আঁধার ধরার মুখে ফোটাও হাসি।।
	নয়নেরই পিয়ালায় আনো হজরত
	তরাইতে পাপীরে খোদার রহমত,
আবার কাবার পানে ডাকো সকলে বাজায়ে মধুর কোরানের বাঁশি।।
শোকে বেদনার পাপের জ্বালায় হের মৃত-প্রায় আজি বিশ্ব নিখিল,
খোদার হাবিব এসে বাঁচাও বাঁচাও, বসাও খুশির হাট, তাজা কর দিল্।
	প্রেম-কওসর দিয়ে বেহেশ্‌ত্‌ হতে
	মেহেদীরে পাঠাও দুঃখের জগতে,
দুনিয়া ভাসুক পুন পুণ্য-স্রোতে শোনাও আজান পাপ-তাপ-বিনাশী।।

কত যুগ পাই নাই তোমার দেখা

বাণী

কত যুগ পাই নাই তোমার দেখা
থাকিতে পারি না আর একা একা।।
	জানি না কোথায় থাকো
	সেথায় আমারে ডাকো
মুছে এলো বুকে বঁধু স্মৃতির রেখা।।
তুমি জলধি, তোমাতে মিশে শতেক নদী
আম রুদ্ধ-সায়র কাঁদি নিরবধি।
	দেখা কি পাব না হায়
	আশা যে ফুরায়ে যায়
শ্রাবণে এলো গো মেঘ, কাঁদিছে কেকা।।

লুকোচুরি খেলতে হরি হার মেনেছ

বাণী

লুকোচুরি খেলতে হরি হার মেনেছ আমার সনে
লুকাতে চাও বৃথা হে শ্যাম, ধরা পড় ক্ষণে ক্ষণে।।
গহন মেঘে লুকাতে চাও অম্‌নি রাঙা, চরণ লেগে
যে পথে ধাও সে পথ ওঠে ইন্দ্রধনুর রঙে রেঙে,
চপল হাসি চম্‌কে বেড়ায় বিজলিতে নীল গগনে।।
রবি-শশী-গ্রহ-তারা তোমার কথা দেয় প্রকাশি’
ঐ আলোতে হেরি তোমার তনুর জ্যোতি মুখের হাসি।
হাজার কুসুম ফুটে’ ওঠে লুকাও যখন শ্যামল বনে।
মনের মাঝে যেম্‌নি লুকাও, মন হয়ে যায় অম্‌নি মুনি,
ব্যথায় তোমার পরশ যে পাই, ঝড়ের রাতে বংশী শুনি
দুষ্টু তুমি দৃষ্টি হয়ে লুকাও আমার এই নয়নে
দুষ্টু তুমি দৃষ্টি হয়ে থাক আমার এই নয়নে।।

না মিটিতে সাধ মোর নিশি পোহায়

বাণী

		না মিটিতে সাধ মোর নিশি পোহায়।
		গভীর আঁধার ছেয়ে আজো হিয়ায়।।
			আমার নয়ন ভ’রে
			এখনো শিশির ঝরে,
		এখনো বাহুর ’পরে বঁধূ ঘুমায়।।
			এখনো কবরী-মূলে
			কুসুম পড়েনি ঢুলে,
		এখনো পড়েনি খুলে’ মালা খোঁপায়।।
			নিভায়ে আমার বাতি
			পোহাল সবার রাতি,
(আমি) 	নিশি জেগে’ মালা গাঁথি, প্রাতে শুকায়।।

রাখিস্‌নে ধরিয়া মোরে ডেকেছে মদিনা

বাণী

রাখিস্‌নে ধরিয়া মোরে, ডেকেছে মদিনা আমায়।
আরাফাত্‌ময়দান হতে তারি তক্‌বীর শোনা যায়।।
কেটেছে পায়ের বেড়ি, পেয়েছি আজাদী ফরমান,
কাটিল জিন্দেগী বৃথাই দুনিয়ার জিন্দান-খানায়।।
ফুটিল নবীর মুখে যেখানে খোদার বাণী
উঠিল প্রথম তক্‌বীর ‘আল্লাহ্ আকবর’ ধ্বনি,
যে দেশে পাহাড়ে মুসা দেখিল খোদার জ্যোতি — 
রব না দারুল হরবে যেতে দে যেতে দে সেথায়।।
যে দেশে ধূলিতে আছে হজরতের চরণ-ধূলি
সে ধূলি করিব সুরমা চুমিব নয়নে তুলি’,
যে দেশের মাটিতে আছে নবীজীর মাজার শরিফ — 
নবীজীর দেহের পুষ্প ভাসে রে যে দেশের হাওয়ায়।।

আমি হব মাটির বুকে ফুল

বাণী

আমি হব মাটির বুকে ফুল
প্রভাত বেলা হয়ত পাব তোমার চরণ মূল।।
	ঠাঁই পাব গো তোমার থালায়
	রইব তোমার গলার মালায়
সুগন্ধ মোর মিশবে হাওয়ায় আনন্দ আকুল।।
আমার রঙে রঙিন হবে বন
পাখির কণ্ঠে আনব আমি গানের হরষণ।
	নাই যদি নাও তোমার গলে
	তোমার পূজা বেদীর তলে
শুকাবে গো সেই হবে মোর মরণ অতুল।।