হে পাষাণ দেবতা

বাণী

হে পাষাণ দেবতা!
মন্দির দুয়ার খোল কও কথা।।
দুয়ারে দাঁড়ায়ে শ্রান্তি-হীন দীর্ঘ দিন,
অঞ্চলের পূষ্পাঞ্জলি শুকায়ে যায় উষ্ণ বায়;
আঁখি দীপ নিভিছে হায়, কাঁপিছে তনুলতা।
শুভ্রবাসে পূজারিণী, দিন শেষে —
গোধুলির গেরুয়া রঙ হের প্রিয় লাগে এসে;
খোল দ্বার শরণ দাও, সহে না আর নীরবতা।।

উচাটন মন ঘরে রয় না

বাণী

(পিয়া মোর) উচাটন মন ঘরে রয় না।
(পিয়া মোর) ডাকে পথে বাঁকা তব নয়না।।
	ত্যজিয়া লোক-লাজ
	সুখ-সাধ গৃহ-কাজ,
(প্রিয়া মোর) নিজ গৃহে বনবাস সয়না।।
	লইয়া স্মৃতির লেখা
	কত আর কাঁদি একা,
(পিয়া মোর) ফুল গেলে কাঁটা কেন যায় না।।

বনকুসুম-তনু তুমি কি মধুমতী

বাণী

বনকুসুম-তনু তুমি কি মধুমতী!
ঢল ঢল নয়নে রস-ঘন মিনতি।।
রুমুঝুমু ঘুমুরে ঘুমুঘুমু বিবশা
নিথর বসুমতী, নিশিমদ-অলসা,
মুরছিত চরণে শত মদন রতি।।
রস-ছলছল গো তব মধু কলসে
ঝরঝর ঝরনা অনুখন বরষে,
অরুণিত নয়না মধুর রসবতী।।

১. বধুরম মধুরম মধুর রসবতী।।

স্বপনে আজ মোহাম্মদ দেখা দিয়েছে

বাণী

স্বপনে আজ মোহাম্মদ দেখা দিয়েছে।
কোরানের মালা দিয়ে পরান নিয়েছে-
		গো আমার পরান নিয়েছে ৷
	গায়ে তাঁর নূরের চাদর
	দীনের ঘোম্‌টা মুখের উপর,
রূপে তাঁর সারা ভুবন উজল হয়েছে ৷৷
	নিজের পায়ে আঁধার-পথে
	জ্বেলে দিয়ে আমার হৃদে,
রূপ দেখায়ে মন ভুলায়ে পাগল করেছে।
	তাঁরই নামের তস্‌বি হয়ে’
	নাইবা বনে থাকবো গিয়ে,
পেয়েছেন পথের দেখা ব'লে দিয়েছে।

চল সখি জল নিতে চল ত্বরিতে

বাণী

চল সখি জল নিতে চল ত্বরিতে।
শ্রান্ত দিনের রবি ডোবে সরিতে।।
	ঘিরিছে আঁধার
	তটিনী-কিনার,
গোধূলির ছায়া পড়ে বন-হরিতে।।
ধেনু ডাকা বেণু বাজে বংশী-বটে,
পাখি ওড়ে, আঁকা যেন আকাশ-পটে।
	বধূ ঘাটে যায়,
	বঁধু পথে যায়,
চিনি চিনি বাজে চুড়ি গাগরিতে।।

নাচে নটরাজ মহাকাল

বাণী

নাচে নটরাজ, মহাকাল।
অম্বর ছাপিয়া পড়ে লুটাইয়া আলো-ছায়ার বাঘ-ছাল।।

কালো সিন্ধু জলে তাথৈ তাথৈ রব
শুনি সেই নৃত্যের নাচে মহাভৈরব
বিষাণ মন্দ্রে বাজে মাভৈঃ মাভৈঃ রব
প্রাণ পেয়ে জেগে ওঠে মৃত কঙ্কাল।।

গঙ্গা তরঙ্গে অপরূপ রঙ্গে
ছন্দ জাগে সেই নৃত্য-বিভঙ্গে
জোছনা আশিস-ধারা ঝরে চরাচরে
ছাপিয়া ললাট শশী ভাল।।