এসো এসো তব যাত্রা-পথে

বাণী

এসো এসো তব যাত্রা-পথে
শুভ বিজয়-রথে ডাকে দূর-সাথি।
মোরা তোমার লাগি’, হেথা রহিব জাগি’
তব সাজায়ে বাসর জ্বালি’ আশার বাতি।।
হের গো বিকীর্ণ শত শুভ চিহ্ন পথ-পাশে নগর-বাটে,
স-বৎসা ধেনু গো-ক্ষুর-রেণু উড়ায়ে চলে দূর মাঠে।
দক্ষিণ-আবর্ত-বহ্নি, পূর্ণ-ঘট-কাঁখে তম্বী,
দোলে পুষ্প-মালা, ঝলে’ শুক্লা রাতি।।
হের পতাকা দোলে দূর তোরণ-তলে, গজ তুরগ চলে।
শুক্লা ধানের হের মঞ্জরী ঐ, এসো কল্যাণী গো,
		আনো নব-প্রভাতী।।

নাটক : ‘সাবিত্রী’

মেঘলা-মতীর ধারা জলে কর স্নান

বাণী

মেঘলা-মতীর ধারা জলে কর স্নান (হে ধরণী)
স্নিগ্ধ শীতল মেঘ-চন্দনে জুড়াও তাপিত প্রাণ (হে ধরণী)।।
	তব বৈশাখী ব্রত শেষে
	শ্যাম সুন্দর বেশে
নব দেবতা এলো হেসে লহ আশিস বারি দান (হে তাপসী)।।
	তব ভূষণ-হীন উপবাস ক্ষীণ কায়
	হোক নবতর শ্যাম সমারোহে, পুষ্পিত সুষমায়।
	তীর্থ-সলিলে কৃষ্ণা
	দূর কর গো তৃষ্ণা
শ্যাম দরশ পরশ ব্যাকুলা হরষে গাহ গান (হে তপতী)।।

ফুরিয়ে এলো রমজানেরি মোবারক মাস

বাণী

ফুরিয়ে এলো রমজানেরি মোবারক মাস
আজ বাদে কাল ঈদ তবু মন করে উদাস।।
রোজা রেখেছিলি, হে পরহেজগার মোমিন!
ভুলেছিলি দুনিয়াদারি রোজার তিরিশ দিন;
তরক করেছিলি তোরা কে কে ভোগ-বিলাস।।
সারা বছর গুনাহ যত ছিল রে জমা,
রোজা রেখে খোদার কাছে পেলি সে ক্ষমা,
ফেরেশতা সব সালাম করে কহিছে সাবাস।।

নাটিকাঃ ‘ঈদল ফেতর’

তোর কালো রূপ দেখতে মাগো

বাণী

(মাগো)	তোর কালো রূপ দেখতে মাগো, কাল্ হ’ল মোর আঁখি,
		চোখের ফাঁকে যাস পালিয়ে মা তুই কালো পাখি॥
আমার		নয়ন দুয়ার বন্ধ ক’রে এই দেহ পিঞ্জরে,
		চঞ্চলা গো বুকের মাঝে রাখি তোরে ধ’রে;
		চোখ্ চেয়ে তাই খুঁজে বেড়াই পাই না ভুবন ভ’রে
		সাধ যায় মা জন্ম জন্ম অন্ধ হ’য়ে থাকি॥
		কালো রূপের বিজলি চমক কোটি লোকের জ্যোতি,
		অনন্ত তোর কালোতে মা সকল আলোর গতি।
		তোর কালো রূপ কে বলে মা ‘তমঃ’,
		ঐ রূপে তুই মহাকালি মাগো নমঃ নমঃ
তুই		আলোর আড়াল টেনে মাগো দিস্ না মোরে ফাঁকি॥

গুণে গরিমায় আমাদের নারী আদর্শ দুনিয়ায়

বাণী

গুণে গরিমায় আমাদের নারী আদর্শ দুনিয়ায়
রূপে লাবেন্য মাধুরী ও শ্রীতে হুরী-পরী লাজ পায়।।
নর নহে,নারী ইসলাম 'পরে প্রথম আনে ঈমান
আম্মা খাদিজা জগতে সর্ব প্রথম মুসলমান।
পুরুষের  সব গৌরব ম্লান এক এই মহিমায়।।
নবী-নন্দিনী ফাতেমা মোদের সতী-নারীদের রানী
যাঁর গুণ-গাথা ঘরে ঘরে প্রতি নর-নারী আজো গায়।।
রহিমার মত মহিমা কাহার তাঁর সম সতী কেবা
নারী নয় যেন মূর্তি ধরিয়া এসেছিল পতি-সেবা
মোদের খাওয়ালা জতের আলা বীরত্বে গরিমায়।।
রাজ্য শাসনে রিজিয়ার নাম ইতিহাসে অক্ষয়
শৌর্যে সাহসে চাঁদ-সুলতানা বিশ্বের বিস্ময়
জেবুন্নেসার তুলনা কোথায়,জ্ঞানের তপস্যায়।।
আঁধার হেরেমে বন্দিনী হল সহসা আলোর মেয়ে
সেইদিন হতে ইসলাম গেল গ্লানির কালিতে ছেয়ে।
লক্ষ খালেদ আসিবে যদি এ নারীরা মুক্তি পায়।।

জয়-জগৎ-জননী ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর

বাণী

জয়-জগৎ-জননী, ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর বন্দিতা,
		জয় মা-ত্রিলোক তারিণী।
জয় আদ্যাশক্তি পরমেশ্বরী নন্দন-লোক-নন্দিতা
			জয় দুর্গতিহারিণী।।
তোমাতে সর্বজীবের বসতি, সর্বাশ্রয় তুমি মা,
জয় হয় সব বন্ধন পাপ-তাপ তব পদ চুমি’ মা।
তুমি শাশ্বতী, সৃষ্টি-স্থিতি, তুমি মা প্রলয়কারিণী।।
তুমি মা শ্রদ্ধা, প্রেম, ভক্তি তুমি কল্যাণ সিদ্ধি
ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ তুমি তিন-জন ঋদ্ধি,
জয় বরাভয়া ত্রিগুণময়ী দশ-প্রহরণ-ধারিণী।।

নাটক : ‘বিদ্যাপতি’ (স্তব)