বন-বিহারিণী চঞ্চল হরিণী

বাণী

বন-বিহারিণী	চঞ্চল হরিণী
চিনি আঁখিতে,	চিনি কানন
			নটিনী রে।।
ছুটে চলে যেন	বাঁধ ভাঙ্গা
			তটিনী রে।।
নেচে নেচে চলে	ঝর্ণার
			তীরে তীরে
ছায়াবীথি-তলে	কভু ধীরে চলে,
চকিতে পালায়	ছুটি, ছায়া হেরি,
			গিরি-শিরে।।

নাটকঃ‘সাবিত্রী’

নিশীথ নিশীথ জাগি’ গোঁয়ানু

বাণী

নিশীথ নিশীথ জাগি’ গোঁয়ানু রাতি।
জ্বলিয়া জ্বলিয়া নেভে শিয়রের বাতি।।
সারাদিন গাঁথি মালা তুলিয়া কুসুম
পথ চাহি চাহি ক’রে চোখে আসে ঘুম,
রহে পড়ি’ নব শেজ কুসুমের পাঁতি।।
আমার কাননে আসি’ অলি যায় ফিরে
গাহি গান ফেরে সাঁঝে পাখি সব নীড়ে,
একেলা রহি গো শুধু আমি বিনা সাথি।।

নীল আকাশের কোলে শুয়ে হেরে

বাণী

নীল আকাশের কোলে শুয়ে হেরে শ্রান্ত মেঘের দল,
পল্লবে-ফুলে পূর্ণ হ’লো কি ধরণীর অঞ্চল।।
	দেয়া গরজে না, উপবনে তাই
	বেণী-বন্ধনে কেয়া ফুল নাই,
গুণ্ঠন খুলি’ প্রকৃতি হাসিছে, মেলি’ এলো-কুন্তল।।
সায়র ছেয়েছে শাপ্‌লা শালুকে, ‘নায়রে’ চলেছে বৌ,
বৌ-কথা-কও ডাকে ফুলবনে, ঝরে মমতার মৌ।
	বাজে আনন্দ-বেণু শারদীয়া
	মিলন পিয়াসি ডাকে পিয়া পিয়া,
সৌরভ-মধু ভারে বেদনায় কার প্রেম-শতদল, করে টলমল।।

তুমি আমারে কাঁদাও নিজেরে আড়াল রাখি

বাণী

তুমি আমারে কাঁদাও নিজেরে আড়াল রাখি',
তুমি চাও আমি নিশি-দিন যেন তব নাম ধরে ডাকি।।
হে লীলা-বিলাসী অন্তরতম, অন্তর-মধু চাও বুঝি মম
গোপনে করিতে পান, ওগো বঁধু, অন্তরালে সে থাকি।।
বিরহ তোমার ছল, কেন নাহি বুঝি!
আমাতে রহিয়া কাঁদাও আমারে তবু কেন মরি খুঁজি'।
ভুলিয়া থাকি সুখের মোহে তাই বুঝি প্রিয় কাঁদাও বিরহে —
বন্ধু, ওগো বন্ধু;
তুমি অন্তরে এলে রাজ-সমারোহে নয়নেরে দিয়ে ফাঁকি।।

আমি মুসলিম যুবা

বাণী

পুরুষ	:	(আমি) মুস্‌লিম যুবা, মোর হাতে বাঁধা আলির জুল্‌ফিকার।
স্ত্রী	:	(আমি) মুস্‌লিম নারী জ্বালিয়া চেরাগ ঘুচাই অন্ধকার।।
পুরুষ	:	ধরিয়া রাখিতে দীনের নিশান
		আনন্দে করি জান কোরবান,
স্ত্রী	:	কত ছেলে মোর শহীদ হয়েছে মরুতে কারাবালার।
				আমি নন্দিনী মা ফাতেমার।।
পুরুষ	:	য়ুরোপ-এশিয়া-আফ্রিকা জুড়ে ছড়ানু খোদার বাণী,
স্ত্রী	:	মোর একা গৃহ-মক্কাতে আমি আনি জম্‌জম্‌ পানি।
পুরুষ	:	(আমি) জিনিব পৃথিবী আছে মোর আশা
স্ত্রী	:	(আমি) প্রাণে দেই তেজ, বুকে ভালোবাসা,
পুরুষ	:	আমি মুস্‌লিম যুবা
স্ত্রী	:	আমি মুস্‌লিম নারী,
উভয়ে	:	দুইধারী তলোয়ার।।

কাছে তুমি থাকো যখন তখন আমি দিই না ধরা

বাণী

কাছে তুমি থাকো যখন তখন আমি দিই না ধরা।
দূরে থেকে কাঁদো যখন তখনি হই স্বয়ম্বরা।।
	তখন তোমার অভিসারে
	মন ছুটে যায় অন্ধকারে
তখন ওঠে বিরহেরি ব্যাকুল রোদন পাগল পারা।।
প্রিয়, তুমি যবে রহ পাশে —
কেন এতো ভয় জাগে গো, কেন মনে দ্বিধা আসে!
	ভিক্ষা যখন চাও ভিখারি
	হাত কাঁপে গো দিতে নারি,
তুমি চ'লে গেলে লুকিয়ে কাঁদি ভিক্ষা নিয়ে আঁচল ভরা।।