বিরহের নিশি কিছুতে আর চাহে না

বাণী

বিরহের নিশি কিছুতে আর চাহে না পোহাতে ওগো প্রিয়।
জাগরণে দেখা দিলে না নাথ স্বপনে আসিয়া দেখা দিও।।
	হেরিব কবে সে-মোহন রূপ
	শুকায়েছে মালা, পুড়েছে ধূপ,
নিভে যদি যায় জীবন-দীপ তুমি এসে নাথ জ্বালাইও।।
	তব আশা-পথ চাহি’ বৃথায়
	দিবস মাস বরষ যায়,
এ জনমে যদি ভুলিলে হায় — পর জনমে না ভুলিও।।

১. নিভাইও

মুকুর ল’য়ে কে গো বসি’

বাণী

মুকুর ল’য়ে কে গো বসি’।
হেরিছে আপন ম্লান-মুখ-শশী।।
সখিরা ডাকে বেলা ব’য়ে যায়
দোপাটির ফুল ঝুরে আঙিনায়’
ধূলাতে লুটায় কাঁখের কলসি।।
হেরিয়া তারি অলস ছবি,
ডুবিতে নারে সাঁঝের রবি।
কমল-কলি ল’য়ে আঁচলে
ডাকিছে তারে গাঁয়ের সরসী।।

যত ফুল তত ভুল কণ্টক জাগে

বাণী

	যত ফুল তত ভুল কণ্টক জাগে
	মাটির পৃথিবী তাই এত ভালো লাগে।।
হেথা	চাঁদে আছে কলঙ্ক, সাধে অবসাদ
হেথা	প্রেমে আছে গুরুগঞ্জনা অপবাদ;
আছে	মান-অভিমান পিরিতি-সোহাগে।।
হেথা	হারাই হারাই ভয়, প্রিয়তমে তাই
	ব’ক্ষে জড়ায়ে কাঁদি ছাড়িতে না চাই।
	স্বর্গের প্রেমে নাই বিরহ-অনল
	সুন্দর আঁখি আছে, নাই আখি-জল;
	রাধার অশ্রু নাই কুমকুম-ফাগে।।

নাটকঃ অন্নপূর্ণা (নাট্যকারঃ মণিলাল বন্দোপাধ্যায়)

সাজিয়াছ যোগী বল কার লাগি

বাণী

সাজিয়াছ যোগী বল কার লাগি’
		তরুণ বিবাগী
	হের তব পায়ে
	কাঁদিছে লুটায়ে
নিখিলের প্রিয়া তব প্রেম মাগি’
		তরুণ বিবাগী।।
ফাল্গুন কাঁদে
দুয়ারে বিষাদে
	‌খোলো দ্বার খোলো!
	যোগী, যোগ ভোলো!
	এত গীত হাসি
	সব আজি বাসি,
উদাসী গো জাগো! নব অনুরাগে
		জাগো অনুরাগী
		তরুণ বিবাগী।।

মদিনার শাহানশাহ্ কোহ্-ই-তূর-বিহারী

বাণী

মদিনার শাহানশাহ্ কোহ্-ই-তূর-বিহারী
মোহাম্মদ মোস্তফা নবুয়তধারী॥
আল্লার প্রিয় সখা, দুলাল মা আমেনার
খাদিজার স্বামী, প্রিয়তম আয়েশার
আস্‌হাবের হাম্‌দম্‌, ওয়ালেদ ফাতেমার,
বেলালের আজান, খালেদের তলোয়ার,
কেয়ামতে উম্মত শাফায়ত-কারী॥
তৌহিদ-বাণী মুখে, আল-কোরআন হাতে
খোদার নূর দেখি যাঁর হাসির ইশারাতে
যাঁর কদমের নীচে দুলে কত জিন্নাত,
যে দু’হাতে বিলালো দুনিয়ায় খোদার মোহাব্বত
হো মেরাজের দুলহা আল্লার আর্শচারী॥
নয়নে যাঁর সদা খোদার রহমত ঝরে
সংসার মরুবাসী পিয়াসার তরে
আনিল যে কওসর সাহারা নিঙাড়ি’॥

শিউলি তলায় ভোর বেলায়

বাণী

শিউলি তলায় ভোর বেলায় কুসুম কুড়ায় পল্লী-বালা।
শেফালি পুলকে ঝ’রে পড়ে মুখে খোঁপাতে চিবুকে আবেশ-উতলা।।
		ঘোম্‌টা খুলিয়া তার পিঠে লুটায়
		শিথিল কবরী লুটিছে পায়,
নৃত্যের ভঙ্গে ফুল তোলে রঙ্গে, আধো আঁধার বন তার রূপে উজালা।।
নিলাজ পাঁয়জোরে তার ওঠে ঝঙ্কার রিনিঝিনি, মন কয় চিনি চিনি
		এ কি গো বন-দেবীর সতিনী
শিশির ধরে’ পায় আল্‌তার রঙ্‌ চায় পাখি তারি গান গায় বনে নিরালা।।