শোক দিয়েছ তুমি হে নাথ তুমি এ প্রাণে শান্তি দাও

বাণী

শোক দিয়েছ তুমি হে নাথ তুমি এ প্রাণে শান্তি দাও।
দুখ্ দিয়ে কাঁদালে যদি তুমি হে নাথ সে দুখ ভোলাও।।
যে হাত দিয়ে হানলে আঘাত
তুমিঅশ্রু মোছাও সেই হাতে নাথ
বুকের মানিক হ’রলে যা’র —
	তারে তোমার শীতল বক্ষে নাও।।
তোমার যে চরণ প্রলয় ঘটায়
সেই চরণ কমল ফোটায়
শূন্য করলে তুমি যে বুক
	সেথা তুমি এসে বুক জুড়াও।।

মোরা কুসুম হয়ে কাঁদি কুঞ্জবনে

বাণী

মোরা	কুসুম হয়ে কাঁদি কুঞ্জবনে
		সুন্দর শ্যাম হে
আমি	মরিতে চাহি ঝরি' তব চরণে
		সুন্দর শ্যাম হে।
	ওগো সুন্দর শ্যাম হে।।
মোর	ক্ষণিক এ জীবন নিশি শেষে
প্রিয়	ঝ'রে যাব গো স্রোতে ভেসে
বঁধু	কাছে এসে ছুয়ো ভালবেসে
	জাগায়ো প্রেম-মধু গোপন মনে
		সুন্দর শ্যাম হে।।
তব	সরস পরশ দিয়ে মনোহর
মোর	এ তনু রঙে রসে পূর্ণ করো
আমি	তোমার বুকে রবো পরম সুখে
	ঝরিব প্রিয়, চাহি' তব নয়নে
		সুন্দর শ্যাম হে।।
মোর	বিদায় বেলা ঘনায়ে আসে
মোর	প্রাণ কাদেঁ মিলন-পিয়াসে
এই	বিরহ মম ওগো প্রিয়তম,
	মিটিবে সে কোন শুভ লগনে,
		সুন্দর শ্যাম হে।।

হাসি মুখে বাসিফুল ফেলে দাও ভোরে

বাণী

হাসি মুখে বাসিফুল ফেলে দাও ভোরে।
মোর মন নিয়ে ফেলে দিলে তেমনি ক’রে।।
কেন ডেকেছিলে তব উৎসব সভাতে
অবহেলা ভরে যদি ফেলে দিবে প্রভাতে,
অকারণ অকরুণ বাণ হানিতে কেন —
	বনের পাখিরে এনেছিলে পিঞ্জরে।।
গান গেয়ে চলেছিনু আপনার পথে,
কেন তব হৃদয়ে ঠাঁই দিলে আমারে এনে পথ হতে।
পুতুল খেলার মত মোরে ল’য়ে খেলিলে
বক্ষে রাখিয়া শেষে পায়ে দ’লে ফেলিলে,
দেবতার পূজা শেষে বিগ্রহ ল’য়ে —
	ডুবাইলে নদী-জলে নিষ্ঠুর ক’রে।।

যায় ঝিলমিল্ ঝিলমিল্ ঢেউ তুলে

বাণী

যায়	ঝিল্‌মিল্ ঝিল্‌মিল্ ঢেউ তুলে দেহের কূলে
	কে চঞ্চলা দিগঞ্চলা মেঘ-ঘন-কুন্তলা।
	দেয় দোলা পুব-সমীরণে বনে বনে দেয় দোলা।।
	চলে নাগরি দোলে ঘাগরি
	কাঁখে বরষা-জলের গাগরি
	বাজে নূপুর-সুর-লহরি
	রিমি ঝিম্‌, রিম ঝিম্, রিম ঝিম্‌ চল-চপলা।।
	দেয়ারই তালে কেয়া কদম নাচে
	ময়ূর-ময়ূরী নাচে তমাল-গাছে।
	এলায়ে মেঘ-বেণী কাল-ফণি
	আসিল কি দেব-কুমারী নন্দন-পথ-ভোলা।।

ওলো এক চাঁদকে সৃষ্টি ক’রে

বাণী

ওলো	এক চাঁদকে সৃষ্টি ক’রে বিধির পুঁজি শেষ।
এই	চাঁদের পাশে চাঁদ শোভা পায় আছে সে-কোন্ দেশ।।

নাটক : ‘মধুমালা’ (ঘুমপরীর গান)

লহ রাজ রাজ আনিয়াছি মালা

বাণী

	লহ রাজ রাজ, আনিয়াছি মালা।
	আনিয়াছি মালা, ভরি’ তনু-ডালা।।
	এনেছি ছলছল নয়ন-পাতে
	প্রেম-সুধা-রস মালার সাথে,
	অধরে অনুরাগ-রাঙা পিয়ালা।।
	এনেছি প্রীতির মালতী-বকুল
	রস টলমল রূপের মুকুল,
(যেন)	বৃথা না যায় শুভলগ্ন নিরালা।।

নাটক : ‘অর্জুন বিজয়’