আমায় যারা ঘিরে আছে

বাণী

আমায় যারা ঘিরে আছে আমার মুখে চেয়ে।
তারা আমার নহে হে নাথ, (তারা) তোমার ছেলে মেয়ে।।
	ওদের তুমি রেখো সুখে
	ধ’রে তোমার আপন বুকে
বাঁচুক ওরা তোমার আশির্বাদের প্রসাদ পেয়ে।।
	আমায় দিও দুর্ভাবনার বোঝা যত আছে
(নাথ)	থাকুক পরম নির্ভরতায় ওরা আমার কাছে।
	শুধু তোমার ভরসাতে নাথ
	আমি ওদের ধরেছি হাত,
তোমার স্নেহ মায়ের মত থাকুক ওদের ছেয়ে।।

সুদূর মক্কা মদিনার পথে আমি রাহি মুসাফির

বাণী

সুদূর মক্কা মদিনার পথে আমি রাহি মুসাফির,
বিরাজে রওজা মোবারক যথা মোর প্রিয় নবীজীর।।
	বাতাসে যেখানে বাজে অবিরাম
	তওহিদ বাণী খোদার কালাম, 
জিয়ারতে যথা আসে ফেরেশ্‌তা শত আউলিয়া পীর।।
মা ফাতেমা আর হাসান হোসেন খেলেছেন পথে যার, 
কদমের ধূলি পড়েছে যথায় হাজারো আম্বিয়ার।
	সুরমা করিয়া কবে সেই ধূলি
	মাখিব নয়নে দুই হাতে তুলি',
কবে এ দুনিয়া হ’তে যাবার আগে রে কা'বাতে লুটাব শির।।

মোমের পুতুল মমীর দেশের মেয়ে নেচে যায়

বাণী

মোমের পুতুল মমীর দেশের মেয়ে নেচে যায়।
	বিহবল–চঞ্চল–পায়।।
	খর্জুর–বীথির ধারে
	সাহারা মরুর পারে
বাজায় ঘুমুর ঝুমুর ঝুমুর মধুর ঝঙ্কারে।
	উড়িয়ে ওড়না ‘লু’ হাওয়ায়
	পরী–নটিনী নেচে যায়
	দুলে দুলে দূরে সুদূর।।
সুর্মা–পরা আঁখি হানে আস্‌মানে,
জ্যোৎস্না আসে নীল আকাশে তার টানে।
	ঢেউ তুলে নীল দরিয়ায়
	দিল–দরদী নেচে যায়
	দুলে দুলে দূরে সুদূর।।

ফুটলো যেদিন ফাল্গুনে হায় প্রথম গোলাপ-কুঁড়ি

বাণী

ফুটলো যেদিন ফাল্গুনে, হায়, প্রথম গোলাপ-কুঁড়ি
বিলাপ গেয়ে বুলবুলি মোর গেল কোথায় উড়ি।।
	কিসের আশায় গোলাপ বনে
	গাইতো সে গান আপন মনে,
লতার সনে পাতার সনে খেতো লুকোচুরি (হায়)
সেই লতাতে প্রথম প্রেমের ফুটলো মুকুল যবে
পালিয়ে গেল ভীরু পাখি অমনি নীরবে।
	বাসলে ভালো যে জন কাঁদে
	বাঁধবো তা'রে কোন সে ফাঁদে,
ফুল নিয়ে তাই অবসাদে বনের পথে ঘুরি (হায়)।।

জাগো হে রুদ্র জাগো রুদ্রাণী

বাণী

জাগো হে রুদ্র, জাগো রুদ্রাণী,
কাঁদে ধরা দুখ-জরজর!
জাগো গৌরী, জাগো হর।।
আজি শস্য-শ্যামা তোদের বন্যা
অন্নবস্ত্র হীনা অরণ্যা
সপ্ত সাগর অশ্রু-বন্যা,
কাঁপিছে বুক থর থর।।
আর সহিতে পারি না অত্যাচার,
লহ এ অসহ ধরার ভার।
গ্রাসিল বিশ্ব লোভ-দানব,
হা হা স্বরে কাঁদিছে মানব,
জাগো ভৈরবী জাগো ভৈরব
ত্রিশূল খড়গ ধর ধর।।

ঝিলের জলে কে ভাসালো নীল শালুকের ভেলা

বাণী

ঝিলের জলে কে ভাসালো নীল শালুকের ভেলা
		মেঘলা সকাল বেলা।
বেণু বনে কে খেলে রে পাতা ঝরার খেলা।
		মেঘলা সকাল বেলা।।
	কাজল বরণ পল্লী মেয়ে
	বৃষ্টি ধারায় বেড়ায় নেয়ে,
ব'সে দিঘীর ধারে মেঘের পানে রয় চেয়ে একেলা।।
দুলিয়ে কেয়া ফুলের বেনী শাপলা মালা প'রে
খেলতে এলো মেঘ পরীরা ঘুমতী নদীর চরে।
বিজলিতে কে দূর বিমানে, সোনার চুড়ির ঝিলিক হানে,
বনে বনে কে বসালো যুঁই-চামেলির মেলা।।