যেন ফিরে না যায় এসে

বাণী

যেন	ফিরে না যায় এসে আজ বঁধুয়া ফিরে না যায়।
সখি	দিস্‌নে তোরা তা’রে লাজ বঁধুয়া ফিরে না যায়।।
	পথ ভুল ক’রে যায় আন-ঘরে জানি সই,
তবু	আমারি সে রাজাধিরাজ বঁধুয়া ফিরে না যায়।।
	ফুল চুরি ওর পেশা ও শুধু চোখের নেশা, জানি সই,
একা	আমারি ছবি তার হিয়া-মাঝ বঁধুয়া ফিরে না যায়।।
	সুন্দর ব’লে তায় সকলে পাইতে চায়,
সে	পরালে মোরে প্রেমের তাজ বঁধুয়া ফিরে না যায়।।

আমি কুল ছেড়ে চলিলাম ভেসে বলিস ননদীরে

বাণী

আমি	কুল ছেড়ে চলিলাম ভেসে বলিস ননদীরে সই, বলিস ননদীরে।
	শ্রীকৃষ্ণ নামের তরণীতে প্রেম-যমুনার তীরে বলিস ননদীরে
				সই, বলিস্‌ ননদীরে।।
	সংসারে মোর মন ছিল না, তবু মানের দায়ে
আমি	ঘর করেছি সংসারেরি শিকল বেঁধে পায়ে
	শিক্‌লি-কাটা পাখি কি আর পিঞ্জরে সই ফিরে।।
	বলিস গিয়ে কৃষ্ণ নামের কলসি বেঁধে গলে
	হডুবেছে রাই কলঙ্কিনী কালিদহের জলে।
	কলঙ্কেরই পাল তুলে সই, চললেম অকূল-পানে
	নদী কি সই, থাকতে পারে সাগর যখন টানে।
	রেখে গেলাম এই গোকুলে কুলের বৌ-ঝিরে।।

তুমি অনেক দিলে খোদা

বাণী

তুমি অনেক দিলে খোদা, দিলে অশেষ নিয়ামত —
আমি লোভী, তাইতো আমার মেটে না হসরত।।
কেবলই পাপ করি আমি — মাফ করিতে তাই, হে স্বামী,
দয়া করে শ্রেষ্ঠ নবীর করিলে উম্মত।
তুমি নানান ছলে করছ পূরণ ক্ষতির খেসারত।।
মায়ের বুকে স্তন্য দিলে, পিতার বুকে স্মেহ;
মাঠে শস্য ফসল দিলে আরাম লাগি' গেহ।  
ঈদের চাঁদের রং মশালে রঙীন বেহেশ্‌ত পথ দেখালে
আখেরেরই সহায় দিলে আখেরী হজরত।
তুমি আজান দিলে না ভুলিতে মসজিদেরই পথ।।

নতুন নেশার আমার এ মদ

বাণী

নতুন নেশার আমার এ মদ বল কি নাম দেবো এরে বঁধুয়া।
গোপী চন্দন গন্ধ মুখে এর বরণ সোনার চাঁদ চুঁয়া।।
	মধু হ'তে মিঠে পিয়ে আমার মদ
	গোধূলি রং ধরে কাজল নীরদ,
প্রিয়েরে প্রিয়তম করে এ মদ মম, চোখে লাগায় নভোনীল ছোঁওয়া।।
	ঝিম্ হয়ে আসে সুখে জীবন ছেয়ে,
	পান্‌সে জোছনাতে পান্‌সি চলে বেয়ে,
মধুর এ মদ নববধূর চেয়ে আমার মিতালী এ মহুয়া।। 

হেরেমের বন্দিনী কাঁদিয়া ডাকে

বাণী

হেরেমের বন্দিনী কাঁদিয়া ডাকে তুমি শুনিতে কি পাও?
আখেরি নবী প্রিয় আল-আরবি বারেক ফিরে চাও।।
পিঁজরার পাখি সম অন্ধকারায়
বন্ধ থাকি' এ জীবন কেটে' যায়;
কাঁদে প্রাণ ছুটে যেতে তব মদিনায়
	চরণের এই জিঞ্জির খুলে' দাও।।
ফতেমার মেয়েদের হেরি' আঁখি-নীর
বেহেশতে কেমনে আছ তুমি থির!
যেতে নারি মসজিদে শুনিয়া আজান,
বাহিরে ওয়াজ হয়, ঘরে কাঁদে প্রাণ
ঝুটা এই বোরখার হোক অবসান —
	আঁধারে হেরেমে আশা-আলোক দেখাও।।

ধীরে চল চরণ টলমল

বাণী

ধীরে চল চরণ টলমল
সখি নতুন মদের নেশা
পিয়েছে বিষ-মেশা,
	চল্‌তে পথে উঠি চ’ম্‌কে।
এক খাওয়ালো মুখপোড়া কালো ছোঁড়া
	ওঠে অঙ্গ ক্ষণে ক্ষণে ছ’ম্‌কে।।
গুরুজনের কাছে ঢ’লে ঢ’লে পড়ি,
গেল কুলমান আমি লাজে মরি।
ও সে কদম-তলায়, বাঁশি বাজায়, আড় চোখে চায়,
পেলে একলা পথে আগ্‌লে দাঁড়ায় সে থ’ম্‌কে।।

চলচ্চিত্র : ‘পাতালপুরী’